মালয়েশিয়ার কাছে বড় হারে শুরু বাংলাদেশের

একগাদা প্রবাসী ফুটবলার আমদানি করেও যে বাংলাদেশের মান দক্ষিণ এশিয়ান স্তরের ওপরে ওঠেনি, আসিয়ান কাপে প্রথম ম্যাচে সেই প্রমাণই মিলল। মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ, তবে স্কোরলাইন যেটা বলছে না, তা হচ্ছে গোটা ম্যাচে বাংলাদেশের ফুটবলারদের নিষ্ক্রিয়তা। ৯০ মিনিটে বাংলাদেশের ফুটবলাররা এমন কোনো আক্রমণ তৈরি করতে পারেননি, যেখান থেকে গোলের কোনো সম্ভাবনা জাগে। বরং নিজেদের ডি বক্সে বেখেয়ালি ফুটবল খেলে গোল হজম করিয়েছেন ডিফেন্ডাররা।
জামাল ভূঁইয়া যে পথ দেখিয়েছিলেন, সেই পথের পথিকেই এখন জাতীয় দল ভারাক্রান্ত। হামজা তো আছেনই, সঙ্গে তারেক কাজী, ফাহমিদুল, জায়ান, ফারহান আলি ওয়াহিদ, শমিত সোমদের নিয়ে দলটা রীতিমতো আমদানিনির্ভর। তবে বিদেশি মোড়ক দেখে মানহীন পণ্য কিনে ঠকার মতোই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন স্তর থেকে আসা বিভিন্ন মানের এই ফুটবলারদের একটা দল হিসেবে পরিণত করতে পারেননি কোচ থমাস ডুলি। তার নামের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি পেশা, ঢোলবাদক বা ঢুলির অনেক মিল। কাজেও। ডুলিও নিজের ঢোল নিজেই পেটান। জাতীয় দলের কোচ হিসেবে এর আগে স্রেফ ইউরোপের অতি ক্ষুদ্র দেশ সান মারিনোর বিপক্ষে একটা ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়িয়েছেন, ম্যাচটা বাংলাদেশ জিতেছিল। এরপর বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় দেশের নানান গণমাধ্যমে বিশেষজ্ঞ বক্তব্য দিয়েছেন আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারী বাড়িয়েছেন। অথচ প্রতিপক্ষকে নিয়ে কোনো পরিকল্পনাই যে তার ছিল না, সেটা খেলাতেই স্পষ্ট।
দক্ষিণপূর্ব এশিয়ারই দেশ হংকংয়ের বিপক্ষে ১১ মাস আগে এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে দুটি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। ফিফা র্যাংকিংয়ে ১৫৬তম স্থানে থাকা হংকংয়ের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র আর ৪-৩ গোলে হেরেছিল কাবরেরার বাংলাদেশ। মালয়েশিয়ার ফিফা র্যাংকিং হংকংয়ের চেয়ে একটু উপরে, ১৩৬। অথচ তাদের বিপক্ষে ডুলির বাংলাদেশকে দেখাল দিকভ্রান্ত। মাঠে তার ফুটবলারদের কার কী ভূমিকা, কী তার পরিকল্পনা আর কী তার কৌশল, কিছুই বোঝা গেল না।
মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে কোচ থমাস ডুলি বলেছেন, ‘আমি এই টুর্নামেন্টে মালয়েশিয়াকে ২-০ কিংবা ৩-০ গোলে হারিয়ে দেওয়ার বা এরকম কিছুর জন্য আশাও করি না। তাদের আর আমাদের মধ্যে যে পার্থক্য, সেটা আপনারা সবাই মাঠেই দেখেছেন। তাই আমি খেলোয়াড়দের খারাপ পারফরম্যান্স নিয়ে কিছু বলব না, তারা সবাই চেষ্টা করেছে।’
ম্যাচের ফল নিয়ে বললেন, ‘শুরুতে আমরা অনেক ধীরগতির ফুটবল খেলেছি আর অনেক ভুল করেছি। আমাদের পাসিং আর নিখুঁততা ভালো ছিল না। অনেক জায়গা ছেড়েছি প্রতিপক্ষকে, বিশেষ করে আমাদের গোলবারের সামনে। ওদের অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে, তারা অনেক ভালো মানের। এই রকম অবস্থায় এত ভুলের খেসারত দিতেই হবে।’
অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার কোচ তান চেং হো একাদশে রাখলেন তিন অভিষিক্তকে। তাদের একজন অস্ট্রেলিয়ান বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ান ব্র্যাড ট্যাপ, আরেকজন ব্রাজিলের যুব দলে খেলা বার্জসন, যিনি জাতীয়তা বদলে হয়েছেন মালয়েশিয়ান। তবে বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার মূল কারিগর তাদের শতভাগ দেশীয় ফুটবলার আরিফ আইমান। টানা চার মৌসুম ধরে মালয়েশিয়ান সুপার লিগের চ্যাম্পিয়ন দল জোহার দারুল তাজিম এফসির হয়ে খেলে আইমান হয়েছেন মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার। ম্যাচের ১৮ ও ৩৭ মিনিটে দুটি গোল তিনি করেছেন। প্রথমে নূআ লাইনের বাড়ানো হাওয়ায় ভাসানো পাস লক্ষ্য করে দ্রুত ছুটে গিয়ে বাংলাদেশ গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণের দুই পায়ের মধ্য দিয়ে বল জালে জড়ান। এর কিছুক্ষণ পরই নিজের দ্বিতীয় গোল করে মালয়েশিয়ার লিড দ্বিগুণ করেন এই দুর্দান্ত উইঙ্গার। স্টুয়ার্ট উইলকিনের বানিয়ে দেওয়া পাস থেকে নেওয়া জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে প্রথমার্ধেই মালয়েশিয়া ২-০ গোলের লিড এনে দেন আইমান।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই চমৎকার এক গোলে ব্যবধান ৩-০ করেন ৩৫ বছর বয়সী বার্গসন। ব্রাজিলের বয়সভিত্তিক দলে খেলা এই স্ট্রাইকার জাতীয়তা বদলের পর মালয়েশিয়ার হয়ে নিজের অভিষেক ম্যাচেই পেয়েছেন গোলের দেখা। দারুণ টার্নে গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে গড়ানো শটে বল জালে পাঠিয়ে দেন একসময় ব্রাজিল অনূর্ধ্ব-২০ দলে খেলা এই স্ট্রাইকার।



