মাদক নেওয়ায় নিষিদ্ধ টেনিস তারকা কিরগিওস

সংগৃহীত ছবি
কোকেন সেবনের পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ায় সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার টেনিস তারকা নিক কিরগিওস। গত ২২ জুন মায়োর্কা ওপেনে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে সেই নমুনায় কোকেনের উপাদান বেনজয়লেকগোনিন পাওয়া যায়।
ইন্টারন্যাশনাল টেনিস ইন্টিগ্রিটি এজেন্সি (আইটিআইএ) জানিয়েছে, গত ৪ আগস্ট থেকে কিরগিওস সাময়িক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত তিনি তা করেননি।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে ৩১ বছর বয়সী কিরগিওস নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, ‘আমি বড় একটি ভুল করেছি এবং এর সম্পূর্ণ দায়ভার নিচ্ছি।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরের চোট তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিকভাবে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে,‘আমার শরীর আমার মন যেভাবে চায় সেভাবে কাজ করতে পারছে না। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে চলে এসেছি এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া আমার ধারণার চেয়েও কঠিন ছিল। তবে আমি যা করেছি তার কোনো অজুহাত হতে পারে না।
নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কোনো টেনিস টুর্নামেন্টে খেলতে, কোচিং করাতে কিংবা পুরুষ ও নারী টেনিস ট্যুরের অনুমোদিত কোনো আয়োজনে উপস্থিত থাকতে পারবেন না কিরগিওস। বিষয়টি এখন ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
কিরগিওস সর্বোচ্চ চার বছরের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন। তবে তিনি যদি প্রমাণ করতে পারেন যে প্রতিযোগিতার বাইরে কোকেন গ্রহণ করেছিলেন তাহলে সর্বোচ্চ নিষেধাজ্ঞা হতে পারে তিন মাস। বিশ্ব ডোপিংবিরোধী সংস্থার (ওয়াডা) নিষিদ্ধ তালিকায় কোকেনকে স্টিমুল্যান্ট ও অপব্যবহারের উপাদান হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।
চোটের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিরগিওস খুব কমই খেলেছেন। চলতি মৌসুমে মাত্র চারটি একক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। মায়োর্কা ওপেনের সেই টুর্নামেন্টে প্রথম রাউন্ডে অ্যাডাম ওয়ালটনের কাছে হেরে যান। সর্বশেষ উইম্বলডনে আলেকজান্ডার বুবলিককে সঙ্গী করে পুরুষদের দ্বৈত ইভেন্টে খেলেছিলেন তিনি। সেখানে প্রথম রাউন্ডেই হেরে বিদায় নেন।
কিরগিওস এখন পর্যন্ত সাতটি এটিপি ট্যুর একক শিরোপা জিতেছেন। ২০২২ সালে উইম্বলডনের ফাইনালে উঠে নোভাক জোকোভিচের কাছে চার সেটে হেরে রানার্সআপ হন। একই বছর থানাসি কোকিনাকিসকে সঙ্গে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পুরুষদের দ্বৈত শিরোপাও জেতেন তিনি।
মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার কথাও অতীতে প্রকাশ্যে জানিয়েছেন কিরগিওস। ২০১৯ সালের উইম্বলডনে হারের পর তিনি আত্মহত্যার কথা ভেবেছিলেন বলে জানিয়েছিলেন এবং লন্ডনের একটি মানসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালে সময় কাটানোর কথাও প্রকাশ করেছিলেন।






