টেনিসে সাধ আছে সাধ্য নেই

টেনিস কোর্টে দাঁড়ালে ইয়ানা কুরেশী চৌধুরীর চোখে স্বপ্ন থাকে— একদিন খেলবেন ডব্লিউটিএতে। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে প্রতিপক্ষ শুধু নেটের ওপাশে থাকা খেলোয়াড়ই নন; লড়াই করতে হয় সুযোগের অভাব, অর্থ সংকট আর অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার সঙ্গেও। একটা সময় ঢাকার রমনায় টেনিস কোর্টে অনুশীলন করতেও ৫০০ টাকা ভাড়া দিতে হতো তাকে।
ঢাকায় গতকাল শনিবার শেষ হয়েছে আইটিএফ ওয়ার্ল্ড টেনিস ট্যুরের অনূর্ধ্ব-১৮ টুর্নামেন্ট। এই আসরে সাতজন বাংলাদেশি খেলেছেন। কিন্তু অনুশীলনে থাকে না ইয়ানরার েকানো সঙ্গী, ‘একা একা খেলতে হয়। যার সঙ্গে খেলে নিজের ভুলগুলো বের করতে পারব, এমন খেলোয়াড় নেই।’
একা খেলতে হয় বলে থ্রোয়ার মেশিনও কিনে নিয়েছেন। বিদেশে যাওয়ার সুযোগও নিয়মিত নয়। কারণ, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে বেশিরভাগ সময় নিজেদেরই খরচ করতে হয়।
বাংলাদেশে বছরে ঘরোয়া টুর্নামেন্ট হয় দু-তিনটি। অথচ টেনিসে উন্নত দেশগুলোয় জুনিয়র খেলোয়াড়রা সপ্তাহেই তিন-চারটি টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ পায়। ফলে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা, প্রতিযোগিতার চাপ সামলানো কিংবা নিজের ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ— সব দিক থেকেই পিছিয়ে পড়েন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা।
বাইরে টুর্নামেন্টে খেলতে গিয়ে নিজের অবস্থা টের পান এই কিশোরী, ‘ওদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে অনুভব করি ওরা কতটা ফার্স্ট। সার্ভ, রিটার্ন— সব দিক থেকে। ওদের ভালো কোচ আছে, তারা টিপস দেন বা প্রয়োজনীয় অনুশীলনটা করান। তা ছাড়া জুনিয়র পর্যায় থেকেই ওদের মেন্টাল কোচও আছেন (সাইকোলজিস্ট)। ম্যাচের কোন সময় কী চিন্তা করতে হবে সেটা তারা জানেন। আমরা তো প্রতিপক্ষই পাই না। ম্যাচ খেলব কী করে।’
ইয়ানার বাবা নূর-এ-আলম চৌধুরী মেয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন নিজের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে। চারটি র্যাকেট, বল থ্রোয়িং মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনে দিয়েছেন। মেয়েকে আরও ভালোভাবে প্রশিক্ষণ দিতে নিজে আইটিএফের সার্টিফাইড কোচিং কোর্স করেছেন সাবেক এই টেনিস খেলোয়াড়। তবু বাবার একার পক্ষে তো আর একটি পুরো টেনিস কাঠামো তৈরি করা সম্ভব নয়। ইয়ানা বলেছেন, ‘বিদেশে গিয়ে দেখেছি জুনিয়র খেলোয়াড়দেরও নিজস্ব স্পন্সর থাকে। তারাই বাইরে খেলতে যাওয়ার খরচ জোগায়। উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগও তৈরি করে দেয়। আর বাংলাদেশে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ সুবিধাই নেই। ফেডারেশনের জিমটিও ব্যবহার উপযোগী নয় বলে নিজের খরচে বাইরেই জিম করি।’ ইয়ানার বাবা নেপালের উদাহরণ দেন। বাংলাদেশের তুলনায় কাঠামোগতভাবে পিছিয়ে থাকা দেশটির এক জুনিয়র খেলোয়াড়কে সরকারিভাবে বিদেশে প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে। এখন সে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও ইউএস ওপেনের মতো টুর্নামেন্টে খেলছে জুনিয়র পর্যায়ে।
বাংলাদেশের টেনিসে সেই সুযোগ তো নেই। এরপরও নূর-এ-আলম স্বপ্ন দেখেন, ‘র্যাংকিং পয়েন্ট ভালো হলে উন্নত দেশে বৃত্তি নিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।’



