বিদেশি কোচ রাখার সামর্থ্যও নেই টেনিসে
- চীনে ৮ বছর থেকে শুরু হয় টুর্নামেন্ট
- বেইজিংয়ে আছে ৬০টি টেনিস একাডেমি
- ভারত প্রশিক্ষণ শুরু করে ৬ বছরে
- ভারতে টেনিসের জন্য বায়োম্যাকানিকস ল্যাব আছে

ছবি: মোশারফ হোসেন
বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের অফিস যে রমনায় এবং সেখানে আটটি কোর্ট আছে; সেখানে এখন ইন্টারন্যাশনাল টেনিস ফেডারেশনের (আইটিএফ) ওয়ার্ল্ড টেনিস ট্যুরের অনূর্ধ্ব-১৮ টুর্নামেন্ট হচ্ছে, তা হয়তো অনেক ক্রীড়াপ্রেমীই জানেন না। জানার কথাও নয়, টেনিস তো আর বাংলাদেশের জনপ্রিয় খেলাগুলোর একটি নয়!
এই টুর্নামেন্টে খেলছেন ১২ দেশের জুনিয়র টেনিসখেলুড়ে। বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন সাতজন। সিঙ্গেলসে সাফল্য নেই, তবে ডাবলসে পুরুষ ও মেয়েদের ইভেন্টে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে বাংলাদেশ। অপ্রতুল সুযোগ-সুবিধার মাঝেও ঘরের মাঠে এটুকু অগ্রগতিকে সাফল্যই ধরতে হয়।
চীনের কোচ হয়ে এসেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুকুমার রায়। তার কাছে চীনের বেইজিং শহরের টেনিস কাঠামো জানা গেল এরকম, ‘চীন অনেক বড় দেশ। সেখানে প্রতি সপ্তাহেই কোনো না কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হয়। এ ছাড়া ঘরোয়া বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট হয় একদম অনূর্ধ্ব-৮ বছর থেকে। আর ম্যাচ সপ্তাহে হয়, প্রতি সপ্তাহে হয়। এ ছাড়া নাইকি, লি নিং— এমন স্পন্সরদের মাধ্যমেও ঘরোয়া টুর্নামেন্ট হয়।’
বাংলাদেশে স্পন্সর মাধ্যমে কোনো টেনিস টুর্নামেন্ট হওয়া দুরূহ ব্যাপার। এ ছাড়া টেনিস কাঠামোর আরও যে গল্প সুকুমার শোনালেন, তা-ও বাংলাদেশে হওয়া কঠিন, ‘এক বেইজিংয়েই আছে ৬০টি টেনিস একাডেমি। এ ছাড়া স্কুলে টেনিস কোর্ট আছে, অনেক স্কুল টেনিসের জন্য নিজস্ব কোচ নিয়োগ দেয়। এ ছাড়া একাডেমি যেটা আমরা পরিচালনা করি, সেখানে আটটি সেন্টারে আছে দুই হাজারের ওপর বিভিন্ন বয়সী টেনিস প্রশিক্ষণার্থী।’
ভারতীয় দলের কোচ প্রসেনজিৎ পল বললেন, ‘আমরা ছয় বছর থেকে টেনিসের প্রশিক্ষণ শুরু করি। আমাদের পুনেতে ভালো একাডেমি আছে। দেশব্যাপী ১৫টির বেশি একাডেমি আছে। এসব একাডেমিতে শুধু টেনিস প্রশিক্ষণ নয়, শিশুদের জন্য আলাদা ফিজিও নিয়োগ দেওয়া আছে।’
চীন-ভারতের টেনিস স্ট্রাকচারের ধারেকাছেও যে বাংলাদেশ নেই, তা মেনে নিলেন টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ, ‘চায়না-কোরিয়ানদের কাঠামোর তুলনায় আমরা খুব পিছিয়ে। এখানে তো কোনো স্পন্সরই পাওয়া যায় না। ফেডারেশনের কোচ রেখে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সামর্থ্য নেই। বিকেএসপিতে বাজেট-অনুদান আছে। আমরা চেয়েছিলাম যেন ভালো কোচ রেখে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। ওরা চাইলে ভালো কোচ আনতে পারে, লম্বা সময় কোচিং করাতে পরে। কোচের অভাবে উন্নত খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে না।’



