মোহামেডানের স্প্যানিশ কোচ আবাহনীর দেশি

আসছে মৌসুমে সেরা দল গড়েছে মোহামেডান। বসুন্ধরা কিংসে হানা দিয়ে তারা নিয়েছে বেশ কজন প্রতিষ্ঠিত ফুটবলার। কদিন আগে ঘটা করে ফুটবলারদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল ক্লাবটি। গতকাল মঙ্গলবার তারা ঘোষণা করেছে নতুন কোচের নাম। দক্ষিণ এশিয়া বিশেষ করে দীর্ঘদিন ভারতের ক্লাব ফুটবল নিয়ে কাজ করা আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া স্প্যানিশ কোচ সান্তিয়াগো ভারেলাকে নিয়োগ দিয়েছে মোহামেডান। একইদিন আবাহনীও টানা তৃতীয় মৌসুমে কোচের দায়িত্ব দিয়েছে মারুফুল হককে।
২০১৮ সালে গোকুলাম কেরালা এফসির দায়িত্ব নিয়ে প্রথম ভারতে পা রাখেন ভারেলা। পরের বছর দলটি নিয়ে বাংলাদেশে এসে খেলেছেন শেখ জামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব টুর্নামেন্টে। দুই মৌসুম কেরালায় থাকার পর যোগ দেন আই-লিগের আরেক দল চার্চিল ব্রাদার্সে। এরপর একে একে শ্রিনিদি ডেকান ইউনাইটেড, ব্যাঙ্গালুরু ইউনাইটেড ও সর্বশেষ স্পোর্টিং গোয়া এফসির হেড কোচের দায়িত্বে ছিলেন। মাঝে দুই মৌসুম আফগান ক্লাব আবু মুসলিম এফসির ডাগআউটে দেখা গেছে তাকে।
দুই মৌসুম আগে প্রথম পেশাদার লিগ শিরোপা জেতানো কোচ আলফাজ আহমেদকে গত মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে অব্যাহতি দিয়েছিল মোহামেডান। বাকি সময়টা ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্বে ছিলেন আব্দুল কাইয়ুম সেন্টু। সিটি ক্লাবের দায়িত্ব নিয়ে মোহামেডান ছেড়েছেন সেন্টু। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা গুরুত্ব দিয়ে ভারেলাকে নিয়োগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মোহামেডান ফুটবল দলের সমন্বয়ক আমিরুল ইসলাম বাবু।
ফিফার নিষেধাজ্ঞা মুক্তির পরই মারুফুল হককে কোচ হিসেবে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আবাহনী। দলটির দায়িত্ব প্রথম যখন তিনি পেয়েছিলেন, তখন ক্লাবটির ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ঝড়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এ ক্লাব রীতিমতো সংগ্রাম করছে। সেই ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ে আবাহনীর হাল ধরেছিলেন মারুফুল। দুই মৌসুম লড়াই-সংগ্রামের কাটানো মারুফুলকে এবারও কোচ করেছে আবাহনী।
মারুফুল টিকে গেলেও বদল এসেছে টিম ম্যানেজমেন্টে। গত দুই মৌসুম আবাহনীর ম্যানেজারের দায়িত্বে পালন করা আলী ইয়াকুব ঝন্টুর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলটির সাবেক ফুটবলার শহীদ হোসেন স্বপনকে। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত আবাহনীর হয়ে খেলেছেন স্বপন।
টানা তৃতীয়বার দায়িত্ব পাওয়া মারুফুল দল গোছানোর জন্য খুব বেশি সময় পাচ্ছেন না। তবে ক্লাবের আশ্বাসে গত মৌসুমে খেলা ৮০ শতাংশ স্থানীয় ফুটবলার অন্য কোনো দলে নাম লেখাননি বলেই ভালো দল গড়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মারুফুল, ‘একেবারে শেষ সময়ে দায়িত্ব পেয়েছি ঠিক, তবে ক্লাবের আশ্বাসে গত মৌসুমে খেলা স্থানীয়দের অনেকেই অন্য দলে যায়নি। আজ রাতে (মঙ্গলবার) ক্লাব কর্তৃপক্ষ ফুটবলারদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে।’
আগের দুই মৌসুমে স্থানীয়নির্ভর দল গড়েই লিগ রানার্সআপ হয়েছে আবাহনী। চরম অর্থসংকটের মধ্যেও ফিফার নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলবদলে নেমেছে তারা। তবে এবারও ভালোমানের বিদেশি ফুটবলার নেওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছে। এমনকি অন্য দলগুলো থেকে পছন্দের স্থানীয়দের সঙ্গে চুক্তি করাও চ্যালেঞ্জ মানছেন মারুফুল, ‘শেষ সময়ে পছন্দসই কাউকে দলে নেওয়া চাইলেই সম্ভব নয়। এখানে ক্লাবের সামর্থ্যের ব্যাপারও জড়িত। তবে যেমন দলই পাই, আমরা আগের মতো সেরা হওয়ার জন্য লড়াই করব।’ দলবদল শেষ হতে বেশি দেরি নেই। এখন দেখার মারুফুল-স্বপনরা শেষ পর্যন্ত কেমন দল গড়েন।






