ভোরের আলোয় ছিল ব্রাজিলিয়ান সৌরভ

জোড়া গোল করে ব্রাজিলকে জিতিয়ে আনন্দে আত্মহারা মাথেউস কুনিয়া। ছবি: রয়টার্স
এতদিন বিশ্বকাপের আড্ডায় একচেটিয়া দাপট ছিল আর্জেন্টাইন সমর্থকদের। মেসির হ্যাটট্রিক যেন তাদের কণ্ঠে তুলে দিয়েছিল বাড়তি জোর। তাদের খোঁচার জবাব দেওয়ার মতো যাদের ভাষা ছিল না, সেই হলুদ শিবিরের চাপা কণ্ঠগুলো আবার ফিরে পেয়েছে স্বর। ফিরিয়েছেন ভিনি-কুনিয়ারা। তাদের গোলে হাইতিকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
ব্রাজিলের ‘নাম্বার নাইন’ পজিশনে আছে পেলের ঐতিহ্য, রোনালদোর গোলের গন্ধ। তাদের পায়ের ছোঁয়ায় গোল যেন হয়ে উঠত অনিবার্য পরিণতি, যা প্রতিপক্ষের মনে এঁকে দিত এক অদৃশ্য ভয়। দীর্ঘদিন ধরে চলছে সেই উত্তরাধিকারের শূন্যতা। কুনিয়া নামটি হয়তো ওই মহাতারকাদের পাশে উচ্চারিত হওয়ার মতো নয়, এরপরও তার দুই গোলের আলোয় যেন ফিরে এসেছে নাম্বার নাইনের ভয়-জাগানিয়া ব্যাপার। তার দুই গোলেই শেষ হয়ে গেছে হাইতি। প্রথম গোলটি হয়েছে তার হাঁটুতে লেগে। তবে দ্বিতীয় গোলে আছে একজন স্ট্রাইকারের দক্ষতা। জোড়া গোলের পর আবেগে ভেসে গেছেন এ তারকা। তার সঙ্গে ভিনিসিয়ুসের গোল মিলিয়ে ব্রাজিল ফিরেছে কোটি কোটি সমর্থকের হৃদয় রাঙিয়ে।
একসময় হলুদের আকাশ ভরা তারা ছিল, একটি নিভে গেলেও অন্ধকার নামত না। এখন সেই আকাশ অনেকটাই ফাঁকা। ঝলক কমেছে, কমেছে নামের জৌলুশও। তবু অন্ধকারে পথ দেখানোর জন্য আছেন ভিনিসিয়ুস। কাতার বিশ্বকাপ ভালো না কাটলেও এবার প্রথম ম্যাচ থেকে আছেন গোলের ধারায়, হাইতির বিপক্ষেও জ্বালিয়েছেন আলোর শিখা। গোল করেছেন, করানোর চেষ্টা করেছেন সতীর্থকে দিয়ে। এই দলে যত অপূর্ণতা, যত সংশয়, তার মাঝে দাঁড়িয়ে তিনিই যেন একাকী বাতিঘর। ভিনিসিয়ুসকে আগলে ধরেই সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে সেলেসাওরা।
ওই যে অনেক কিছুরই অভাব দলে, তাই হাইতির মতো দুর্বলের বিপক্ষেও গোলের ফোয়ারা ছোটাতে পারেনি ব্রাজিল। খেলাটাও অনেকের মনে ধরেনি। এরপরও সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন কোচ আনচেলত্তি। রক্ষণে ভুল না হওয়া, শুরুতে গোল পাওয়া— সব মিলিয়ে ইতিবাচক ফলের জন্যই ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচের স্বস্তি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আগামী ম্যাচে নেইমারের ফেরার সম্ভাবনাও জানিয়ে রেখেছেন তিনি। সুবাদে সমর্থকদের মনে আরেক দফা আনন্দের হিল্লোল।
কুনিয়ার জোড়া গোলের উজ্জ্বল আকাশে নেইমারের ফেরার খবর ফিরিয়েছে হাসি, জয় মুছে দিয়েছে অনেক সংশয়। এত আনন্দের মাঝেও হানা দিল একটি দুঃসংবাদ। রাফিনিয়া প্রথমার্ধে মাঠ ছেড়েছেন চোট নিয়ে। হ্যামস্ট্রিংয়ের এ ধাক্কাটা বড় হওয়ার আশঙ্কা বেশি। তার মাঠে ফিরতে কত সময় লাগবে, সেটা জানা যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর।
এরপরও দ্বিতীয় ম্যাচে ছন্দ খুঁজে পাওয়া হলুদের স্বপ্নযাত্রা চলবে। তুখোড় ট্যাকটিশিয়ান আনচেলত্তি উপায় বের করে নেবেন তরুণদের মাঝে। বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচে ভালো খেলেছেন রায়ান ও এনদ্রিক। তরুণ তুর্কি এনদ্রিক চমৎকার গোল করলেও অফসাইডের ঝান্ডায় বাতিল হয়ে গেছে। দুই তরুণই সম্ভাবনার ছবি এঁকে দিয়েছেন হাইতির ম্যাচে। এ ম্যাচে তিন গোলের রাত বদলে দিয়েছে দৃশ্যপট। ব্রাজিলের জয়ের সঙ্গে সঙ্গে ফিরল সমর্থকদের কণ্ঠও। বাংলাদেশের আকাশে আবার দুই শিবিরের পতাকা সমানতালে উড়তে শুরু করল। একদিকে মেসির মহাকাব্য, অন্যদিকে সেলেসাওদের প্রত্যাবর্তনের গল্প।




