রাত পেরোলেই মাঠে আর্জেন্টিনা

সংগৃহীত ছবি
বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর বিশ্বসেরারা বিশ্বকাপে নামে ‘অভিশাপ’ নিয়ে! ১৯৯৩ সালে ফিফা র্যাংকিং চালু হওয়ার পর এক নাম্বার হয়ে আসা দল আর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। তেমনি ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে ইতালি আর ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর আর কোনো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পারেনি টানা দুই বিশ্বকাপ জিততে। আর্জেন্টিনা এবারের বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে একই সঙ্গে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর র্যাংকিংয়ের সেরা দল হয়ে। শিরোপা ধরে রাখতে তাই দু-দুটি ‘অভিশাপ’ কাটাতে হবে লিওনেল মেসিদের।
মেসি অবশ্য নিজেই জাদুকর। এই ৩৯ বছর ছুঁইছুঁই বয়সেও বল পায়ে লিখে চলেছেন মহাকাব্য। তার জাদুর ছোঁয়ায় বিশ্বকাপ ধরে রাখার অভিযানে আর্জেন্টিনা নামছে বাংলাদেশ সময় ১৭ জুন সকাল ৭টায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে। একটা সময় লাতিন ও আফ্রিকান দলগুলোর লড়াই নিয়ে বলা হতো, শিল্প বনাম শক্ত কিংবা সৌন্দর্যের সঙ্গে সাহসের লড়াই। কালের পরিক্রমায় সেই তত্ত্ব বদলেছে। লাতিন দলগুলোও যেমন সুন্দর ফুটবলের মাধুর্য নিয়ে পড়ে নেই, আফ্রিকানরাও তেমনি গা-জোয়ারি ফুটবল খেলেন না। টেকনিক, ট্যাকটিকস আর কার্যকরী ফুটবলে গত বিশ্বকাপেই সেমিফাইনাল খেলেছে আফ্রিকার দল মরক্কো। তাদের তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও আলজেরিয়া চমকে দিতেই পারে যেকোনো প্রতিপক্ষকে।
ইতালিয়ান ক্লাব হেলাস ভেরোনায় খেলা আলজেরিয়ান ডিফেন্ডার রফিক বেলঘালিও জানিয়ে রাখলেন সেই কথা, ‘আর্জেন্টিনাকে হারানোর মতো শক্তি আছে আমাদের। আর্জেন্টিনা অন্যদের মতোই শুধু একটি জাতীয় দল। ওদের নাম আর্জেন্টিনা বলে ভয়ের কিছু নেই।’
বাড়াবাড়ি কিছু বলছেন না রফিক। ফিফা র্যাংকিংয়ে ২৭ নম্বরে থাকা দলটির বেশিরভাগ ফুটবলার খেলেন ইউরোপিয়ান ক্লাবে। অনেকের জন্মও ইউরোপে। এক রাউন্ড হাতে রেখে বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব পেরিয়েছে তারা। বিশ্বকাপ প্রস্তুতি পর্বে আলজেরিয়া হারিয়েছে নেদারল্যান্ডস, বলিভিয়াকে। দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের সঙ্গে করেছে গোলশূন্য ড্র।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২০০৭ সালে একটিই প্রীতি ম্যাচ খেলেছে তারা। মেসি, জানেত্তি, ভেরন, আয়ালাদের শক্তিশালী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩-৪ গোলে ম্যাচটি হেরেছিল আলজেরিয়া। হারলেও একটি পর্যায়ে মেসিদের নাভিশ্বাস তুলে তারা এগিয়েও গিয়েছিল ২-১ গোলে। তাই ১৯ বছর পর আরেকটি দেখায় আফ্রিকান দলটি যে ছেড়ে কথা বলবে না, সেটি ভালোই জানা তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।
আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষ নিয়ে সতর্ক থাকলেও বেশি চিন্তিত নিজেদের নিয়ে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি থেকেই চোট তাদের সঙ্গী। বালের্দি ইনজুরিতে পড়লে বান্ধবীর সঙ্গে ছুটি কাটানো মার্কোস সেনেসিকে উড়িয়ে এনেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। চোটে পড়ে আলজেরিয়ার বিপক্ষে খেলা হবে না আরেক ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর। গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেস চোট থেকে সেরে ওঠার পর আবারও ব্যথা পেয়েছেন আঙুলে। প্রথম ম্যাচের ছক আর একাদশ নিয়ে তাই হিমশিম খেতে হচ্ছে স্কালোনিকে।
রবিবারের অনুশীলন সেশনে স্কালোনি ডিফেন্সে দুটি আলাদা ফরমেশন পরখ করে দেখেছেন।
আলজেরিয়ার খেলার ধরন ও ইতিহাস বিবেচনায় আর্জেন্টিনা ৪-৪-২ ফরমেশনেই খেলতে পারে। তবে অনুশীলনের মাঝপথে স্কালোনি ৩-৫-২ ফরমেশনও পরখ করেন।
চোট থেকে সেরে ওঠা মেসি মাঠে ফিরেই আইসল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন গোল। এটা ছিল আবার ২০২২ বিশ্বকাপের পর ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে খেলা আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ। এই ম্যাচ না খেললে এবারই প্রথম বিশ্বকাপ-চক্রে ইউরোপিয়ান কোনো প্রতিপক্ষের মুখোমুখি না হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে হতো তাদের। সেই ম্যাচে মেসির ফিটনেস ও ফর্ম দেখে শিরোপা স্বপ্ন দেখছেন ভক্তরা।
প্রত্যাশা মেটানোর শুরুটা হচ্ছে আলজেরিয়ার বিপক্ষে। ১৯৯০ বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে আফ্রিকান দল ক্যামেরুনের কাছে হেরে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। এরপর আফ্রিকান দলগুলোর বিপক্ষে খেলা ছয় ম্যাচই জিতেছে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সেই ধারাটাই ধরে রাখার অভিযানে রাত পোহালেই নামছেন মেসিরা।




