টাইব্রেকারে মরক্কোর গোলরক্ষকের অদ্ভুত কৌশল

সংগৃহীত ছবি
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মরক্কোর জয়ের ম্যাচে মূল নায়ক ছিলেন মরোক্কান গোলরক্ষক বোনো, যিনি প্রয়োগ করেছেন এক অভিনব কৌশল। ডাইভ না দিয়ে বেশ কয়েকটি পেনাল্টিতে তিনি গোলবারের একপাশে স্থির দাঁড়িয়ে থেকে শট নেওয়া খেলোয়াড়দের বিভ্রান্ত করে দিয়েছেন।
বোনো নড়েন না, আর তাতেই জেতেন। ১২০ মিনিটের খেলা ১-১ ব্যবধানে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে আটলাস লায়ন্সদের বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এ জায়গা করে দেওয়ার নায়ক এই মরোক্কান গোলরক্ষক। প্রথম শট থেকেই তার কৌশল সবার নজর কাড়ে। প্রায় সব গোলরক্ষক যেমন একপাশে ডাইভ দেন, তার বদলে তিনি গোলবারের মাঝবরাবর লাইন থেকে সরে স্থির দাঁড়িয়ে থেকে পেনাল্টি নেওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেন। আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সেও তিনি এই কৌশল কাজে লাগিয়েছিলেন, আর এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তা একদম নিখুঁতভাবে কাজে দিল।
টাইব্রেকারে ছিল না কোনো কিছুর কমতি। শুরুতে ইউরোপীয়দের হয়ে গোল করেন কোপমেইনার্স, আর আফ্রিকান দলের হয়ে এল আইনাউয়ির শট লাগে ক্রসবারে। এরপর আসে সবচেয়ে নাটকীয় এক মুহূর্ত–– জাস্টিন ক্লুইভার্ট বোনোকে ফাঁকি দিতে একটু থেমে শট নেন, কিন্তু তার শট লাগে গোলপোস্টে। মরক্কোর হয়ে একই চেষ্টা করেন রাহিমি, আর ভেরব্রুগেন আংশিক সেভ করলেও বল ফিরতি অবস্থায় ব্যাকহিলে জালে জড়িয়ে দেন রাহিমি, সমতা ফেরে ১-১ ব্যবধানে। এরপর ওয়েগহর্স্ট ও তালবি নিজেদের পেনাল্টি গোলে পরিণত করেন। মিস করেন টিমবার, আর হাকিমির শট লাগে গোলপোস্টে, ফলে টাইব্রেকার দাঁড়ায় ২-২ ব্যবধানে।
পঞ্চম পেনাল্টি শটেই আসে এমন এক মুহূর্ত, যা বোনোর গোলরক্ষণ-দক্ষতাকে পুরোপুরি তুলে ধরে। ক্রাইসেনসিও সামারভিল লম্বা, সাধারণত অপ্রতিরোধ্য গোলরক্ষকের ডানদিকে লক্ষ্য করে শট নেন। কিন্তু বোনো তার মতলব আগেই পড়ে ফেলেছিলেন, লাইনে নিজের ভর সরিয়ে হাত উঁচিয়ে শট ঠেকিয়ে দেন। এই বিশ্বকাপের অন্যতম অবিশ্বাস্য সেভ, যা আফ্রিকা কাপ অব নেশন্স থেকে নিখুঁত করে আসা এক কৌশলেরই ফসল। শেষ পেনাল্টিতে মরক্কোর জয় নিশ্চিত করেন সাইবারি।
এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে টাইব্রেকারে সবচেয়ে বেশি হারের রেকর্ডে স্পেনের সঙ্গে যুগ্মভাবে শীর্ষে উঠে এল নেদারল্যান্ডস–– চারবার। এর আগে ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে এবং ২০১৪ ও ২০২২ সালে দুই দফায় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হেরেছিল তারা টাইব্রেকারে। এই পরিসংখ্যান ডাচদের জন্য এক ভারী বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে তারা কাটিয়ে উঠতে পারেনি।




