৩২ মিনিটে হ্যাটট্রিক দেম্বেলের

কিলিয়ান এমবাপ্পে ও দেম্বেলে
আজ থেকে চার-পাঁচ বছর আগে বার্সেলোনা সমর্থকদের মুখে একটি কথা প্রায়ই শোনা যেত, ‘একজন প্লেয়ারকে আমরা বিশাল অঙ্কের বেতন দিচ্ছি শুধু বেঞ্চে বসে থাকার জন্য।’ বোর্ডের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ফুটবল বিশেষজ্ঞ সবার মুখেই শোনা যেত তাকে নিয়ে সমালোচনা।
বার্সার জার্সিতে পুরোটা সময় ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি একশরও বেশি ম্যাচ। সব মিলিয়ে দেম্বেলের নাম রেকর্ডের খাতায় না থেকে বেশি থাকত সমালোচনার খাতায়।
২০২৩ সালে পিএসজিতে আসার পর যেন তার ক্যারিয়ারের গতিপথ পাল্টে গিয়েছে। বিগত তিন বছরে ব্যক্তিগত এবং দলীয় সব শীর্ষস্থানীয় সাফল্য পেয়েছেন তিনি। গত বছর ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি ব্যালন ডি’অর জিতে প্রতিভার জানান দিয়েছেন এই ২৯ বছর বয়সী। ঘরোয়া লিগ থেকে শুরু করে চ্যাম্পিয়নস লিগ সবখানেই ছিল দেম্বেলের জয়জয়কার। তার বাঁ পায়ের জাদু শুধু পিএসজির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, ফ্রান্সের জার্সিতেও নিয়মিত জ্বলে উঠছেন এই ফরোয়ার্ড। এমনকি চলতি বছরও ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার মানা হচ্ছে দেম্বেলেকে।
চলতি বিশ্বকাপেও নিজের দুর্দান্ত ফর্মের ছাপ রেখে চলেছেন দেম্বেলে। গ্রুপ পর্বে চার গোল করে সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। তার ওপরে শুধু পাঁচ গোল করা লিওনেল মেসি। নরওয়ের বিপক্ষে মাত্র ৩২ মিনিটে হ্যাটট্রিক করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন দেম্বেলে। এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক। ৪-১ গোলে জয় পাওয়া ম্যাচে এমবাপ্পে, ওলিসেরা যেন ম্যাচসেরা দেম্বেলের কারণে আড়ালে পড়ে গিয়েছিলেন। অথচ ম্যাচের আগে অনেকের নজর ছিল এমবাপ্পে-হলান্ডের দ্বৈরথের দিকে। নরওয়ের মূল তারকা আর্লিং হলান্ড তো ছিলেন দলের বাইরেই।
দেম্বেলের এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে রয়েছে দৃঢ় সংকল্প এবং অনিয়মের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসার শক্ত মানসিকতা। নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে উদাসীনতার কারণেই তাকে ভুগতে হয়েছে বলে উপলব্ধি করেন তিনি, ‘বার্সেলোনায় যখন আমি এলাম, তখন পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা ছিল মাত্র দেড় বছরের। জিমে না গিয়ে আমি সরাসরি মাঠে নেমে পড়তাম। কিন্তু একের পর এক চোট পাওয়ার পর অবশেষে উপলব্ধি করলাম যে শরীরের যত্ন নেওয়াটা জরুরি এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে ফুটবল খেলার জন্য শুধু প্রতিভাই যথেষ্ট নয়।’




