সহজ পথ আর্জেন্টিনার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চোখের পলকেই কেটে গেল দুই সপ্তাহ। আয়োজক তিন দেশ, মাতোয়ারা গোটা বিশ্ব। আনুষ্ঠানিকভাবেই ৩২ দলের নকআউট পর্বে পৌঁছে গেছে জার্মানি, আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র। বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে হাইতি, তুরস্ক, জর্ডান, তিউনিসিয়া ও পানামার। গ্রুপে তৃতীয় হওয়া সেরা আট দলও যাবে পরের রাউন্ডে, তাই কোনো ম্যাচে না জিতেও গাণিতিক সম্ভাবনা টিকে আছে উজবেকিস্তান, ইরাক, সৌদি আরব, নিউজিল্যান্ড, কুরাসাও, কাতার আর দক্ষিণ আফ্রিকার।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে পয়েন্ট সমান হলে গোল ব্যবধানের চেয়ে প্রাধান্য পাবে মুখোমুখি লড়াইয়ের ফল। অর্থাৎ যে দুই দলের পয়েন্ট সমান, তাদের খেলায় যে দল জিতেছে সেই দলই এগিয়ে থাকবে। সেই ম্যাচটি যদি ড্র হয়, যেমনটি হতে পারে ‘সি’ গ্রুপে, যেখানে ব্রাজিল আর মরক্কো ড্র করেছে, তখন দেখা হবে গোল ব্যবধান। সেখানেও যদি সমান হয়, তাহলে যে দল বেশি গোল করেছে তারা এগিয়ে যাবে। এখানেও যদি সমান হয়, তাহলে দেখা হবে দলীয় শৃঙ্খলা। এরপরও যদি দুই দলকে পৃথক করা না যায়, তাহলে ফিফা র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা দলই উত্তীর্ণ হবে পরের রাউন্ডে।
আর্জেন্টিনা এরই মধ্যে হয়ে গেছে ‘জে’ গ্রুপের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। রাউন্ড অব থার্টি টু অর্থাৎ শেষ ৩২-এর খেলায় আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের সঙ্গে, যেটি এই মুহূর্তের হিসাবে হতে পারে উরুগুয়ে অথবা কেপ ভার্দে। তবে গ্রুপের শেষ ম্যাচে উরুগুয়ে যদি স্পেনকে হারিয়ে দেয় আর কেপ ভার্দে হারিয়ে দেয় সৌদি আরবকে, তখন গ্রুপে এখন শীর্ষে থাকা স্পেনেরই বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যেতে পারে!
শেষ ৩২-এর পর শেষ ১৬, সেখানে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে ‘ডি’ গ্রুপের রানার্সআপ ও ‘জি’ গ্রুপের রানার্সআপের ম্যাচের জয়ী দল। ‘ডি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে পৌঁছে গেছে পরের পর্বে, রানার্সআপ হওয়ার লড়াইটা অস্ট্রেলিয়া আর প্যারাগুয়ের মধ্যে। একই গ্রুপের তুরস্ক এরই মধ্যে নিয়েছে বিদায়। ‘জি’ গ্রুপের সম্ভাব্য রানার্সআপ বেলজিয়াম বা মিসর। বড় কোনো অঘটন না ঘটলে শেষ ষোলোতেও শীর্ষ বাছাই হিসেবে বিশ্বকাপের ড্র’তে ১ নম্বর পটে থাকা কোনো দলের দেখা হবে না আর্জেন্টিনার।
ফাইনালে যাওয়ার পথে আর্জেন্টিনা যে ভাগে, জার্মানি পুরোপুরি বিপরীতে। ‘ই’ গ্রুপের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন জার্মানির সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ‘এ’ থেকে ‘এফ’ গ্রুপের কোনো এক তৃতীয় সেরা দল। সেটি হতে পারে চেক প্রজাতন্ত্র, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, স্কটল্যান্ড, প্যারাগুয়ে বা সুইডেন। এই ম্যাচটি যদি জার্মানি জিততে পারে, তাহলে শেষ ষোলোয় মুখোমুখি হয়ে যাবে জার্মানি ও ফ্রান্স। ‘আই’ গ্রুপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স, যদিও গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ নরওয়ে। আর্লিং হলান্ডদের কাছে যদি এমবাপ্পেরা হেরে যান, সেক্ষেত্রে ‘আই’ গ্রুপের শীর্ষ দল হয়ে যাবে নরওয়ে। শেষ ৩২-এর ম্যাচে ফ্রান্স বা নরওয়ের প্রতিপক্ষ হবে স্কটল্যান্ড, প্যারাগুয়ে, সুইডেন বা বেলজিয়ামের কোনো এক দল।
ব্রাজিলকে ‘সি’ গ্রুপের সম্ভাব্য গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ধরে যদি ভবিষ্যতের নকশাটি আঁকা যায়, তাহলে শেষ ৩২-এর ম্যাচে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হতে পারে জাপান বা সুইডেন। শেষ ষোলোর বাধা পার হলে ব্রাজিলের সঙ্গে দেখা হবে নরওয়ে বনাম আইভরি কোস্ট ম্যাচের জয়ী দল, কপাল বেশি খারাপ হলে নরওয়ের জায়গায় দলটি ফ্রান্সও হয়ে যেতে পারে। আর কোনো কারণে দেখা গেল গোল ব্যবধানে পিছিয়ে গ্রুপে ব্রাজিল হয়ে গেল দ্বিতীয়, তখন নকআউটের শুরুতেই ডাচদের সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে সেলেসাওদের।
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল যদি কলম্বিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, তাহলে নকআউটের শুরুতে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে প্যারাগুয়ে, ইকুয়েডর, সুইডেন, সেনেগাল, আলজেরিয়া বা ক্রোয়েশিয়া।
দুটি করে ম্যাচ শেষে এখন পর্যন্ত যা অবস্থা, তাতে আর্জেন্টিনারই পরের দুটি ম্যাচ আপাতদৃষ্টিতে সবচেয়ে সহজ। জর্ডান ও কেপ ভার্দে, ফিফা র্যাংকিংয়ের ৬৩ ও ৬৭ নম্বর দল। বিশ্বকাপে আর কোনো দলেরই পরের দুটি ম্যাচেই এত সহজ প্রতিপক্ষ নেই!





