‘স্কটিশ জাহাজ’ ডোবার পর কোচের পদত্যাগ

সংগৃহীত ছবি
২০১৯ সাল থেকে স্কটল্যান্ডের কোচের দায়িত্বে স্টিভ ক্লার্ক। তার হাত ধরে টানা দুটি ইউরো খেলার পাশাপাশি ২৮ বছর পর স্কটল্যান্ড ফিরেছিল বিশ্বকাপে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আরও ৪ বছর চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আজ স্কটল্যান্ডের আনুষ্ঠানিক বিদায়ের কিছুক্ষণ পরই পদত্যাগ করলেন ক্লার্ক।
ঘানার বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার জয়ের পরই নিশ্চিত হয়ে যায় স্কটল্যান্ডের এবার নকআউট খেলা হচ্ছে না। ‘স্কটিশ জাহাজ’ ডুবির পরই এক বিবৃতিতে ক্লার্ক বলেছেন, ‘এই বিদায়ের সবচেয়ে আবেগঘন অংশটি হলো আমার খেলোয়াড়দের জন্য, যাদের ছাড়া ২০১৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত আমরা যত স্মৃতি জমিয়েছি তার একটিও তৈরি হতো না। তারা সব প্রশংসা ও অভিনন্দনের যোগ্য এবং তাদের কোচ হতে পারাটা সত্যিই সম্মানের ছিল। আমাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ এবং আমার উত্তরসূরির জন্য শুভকামনা।’
বোস্টনে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল স্কটল্যান্ড। কিন্তু একই শহরে মরক্কোর কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ার পর, মায়ামিতে ব্রাজিলের কাছে ৩-০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয় তারা। তবু আট সেরা তৃতীয় দলের একটি হিসেবে শেষ ৩২-এ যাওয়ার আশা টিকে ছিল তাদের। আজ সেই আশাটুকুও পুরোপুরি নিভে যায়।
সাত বছর আগে ক্লার্ক যখন স্কটল্যান্ডের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন, তখন ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের পর দেশটি কোনো বড় টুর্নামেন্টের মূল পর্বে পৌঁছাতে পারেনি। তার অধীনে স্কটিশরা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের আগে দুটি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও খেলেছিল। তবে, বাছাইপর্বে সফল হলেও মূল টুর্নামেন্টগুলোতে স্কটল্যান্ড পারফর্ম করতে পারেনি। এই মাসের শুরুতে হাইতির বিপক্ষে জয়টিই ছিল বড় টুর্নামেন্টগুলোর মূল পর্বে তাদের একমাত্র জয়।
স্কটিশ এফএ-এর প্রধান নির্বাহী ইয়ানম্যাক্সওয়েল কোচের বিদায়ের পর বলেন, ‘বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ায় আমরা সবাই হতাশ হলেও, স্টিভের সাত বছরের দায়িত্বে যে অগ্রগতি হয়েছে তা ভুলে গেলে চলবে না। ২০১৯ সালে একটি যাত্রা শুরু করে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করা,একটি বড় টুর্নামেন্টে স্কটল্যান্ডকে ফিরিয়ে আনার যে দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছিল, তিনি তার চেয়েও বেশি কিছু করে দেখিয়েছেন।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘রেকর্ড গড়া অবদানের জন্য আমরা স্টিভকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা জানি যে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার হতাশা যখন কেটে যাবে, তখন স্কটল্যান্ডের সমর্থকেরা আবারও গর্বের সঙ্গে বড় টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার এই সোনালী স্মৃতিগুলোর জন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে।’




