টিকিট পাচ্ছেন না ইরানি সমর্থকরা

ইরানের ফুটবলারদের বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচের মাত্র ১০ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দিয়েছে দেশটির সরকার। এবার ইরানের সমর্থকদের টিকিট না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফিফার বিরুদ্ধে। ইরানের ফুটবল ফেডারেশন একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের মাধ্যমে একটি টিকিটও পাচ্ছেন না ইরানের সমর্থকরা। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দল তাদের সমর্থকদের জন্য ম্যাচের মোট বরাদ্দকৃত টিকিটের ৮ শতাংশ পেয়ে থাকে।
লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো খেলবে ইরান। প্রথম দুই ম্যাচ লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে, যথাক্রমে নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে। এরপর সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে খেলবে ইরান। এই ম্যাচগুলোর টিকিট কিনতে পারছেন না ইরানের সমর্থকরা। ফেডারেশন তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত প্রক্রিয়ার ওপর ভরসা করে অনেক ইরানি ফুটবলভক্ত এরই মধ্যে ম্যাচগুলোয় উপস্থিত থাকার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা করে ফেলা সত্ত্বেও এটি ঘটেছে। ইরানি দর্শকদের তাদের বৈধ টিকিট বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা পরিচালনার মূল চেতনা এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে যে সমতার নীতি রয়েছে, তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।’ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ফুটবলারদের ভিসা দিতেও অনেক কঠোরতা অবলম্বন করেছে। প্রদেয় ভিসায় ইরানের ফুটবলারদের যুক্তরাষ্ট্রে রাত্রিযাপনের অনুমতি নেই। ম্যাচের দিন মেক্সিকো থেকে বিমানে এসে খেলা শেষে আবার তাদের মেক্সিকোয় ফিরে যেতে হবে। শুধু তাই নয়, ইরান ফুটবল দলসংশ্লিষ্ট ১০ জন সাপোর্ট স্টাফকেও ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। তবে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানিয়ান রিপাবলিকান গার্ডের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকেই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হবে না। লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরান থেকে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা ইরানিদের একটি বড় কমিউনিটি রয়েছে। শহরের ওয়েস্টউড অংশটিকে অনেকেই বলেন ‘তেহরাঞ্জেলস’। আশ্রয় নেওয়া ইরানিদের বেশিরভাগই জরথুস্ত্র ধর্ম অনুসারী, যে ধর্মের উৎপত্তি ইরানে। বাড়ির খুব কাছে ইরানের জাতীয় ফুটবল দল খেললেও ইরানি কমিউনিটিতে তাদের খেলা দেখা নিয়ে আগ্রহ কম। ইরানি-আমেরিকান রুজবেহ ফারহানিপুরের কাছে ইরানের এই জাতীয় দল ইরানের অত্যাচারী সরকারের প্রতীক, ‘এরা আমার মাকে মেরেছে, বন্ধুকে মেরেছে, কাছের আত্মীয়কে মেরেছে। এই অত্যাচারী শাসক গোষ্ঠী আর আমার মধ্যে কোনোদিন শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে না।’ বরং লস অ্যাঞ্জেলেসের ইরানি বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী পরিকল্পনা করছে সোফি স্টেডিয়ামের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করার। এই সমাবেশের আয়োজকদের একজন আরিজো রাশিদিয়ান বলেছেন, ‘এখন ইরান যে পতাকা ব্যবহার করছে, সেটি অত্যাচারী সরকারের পতাকা, ইরানের প্রকৃত পতাকা নয়। আমরা ইরানের সত্যিকারের পতাকা নিয়ে দাঁড়াব।’




