নকআউটে কাউকেই ছোট ভাবার সুযোগ নেই

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী জার্মানি কেন টানা তিন বিশ্বকাপে এমন ছন্নছাড়া পারফরম্যান্স করেছে? রাউন্ড অব ৩২-তে কোনো দলকেই ছোট ভাবার সুযোগ নেই। প্যারাগুয়ে টিপিক্যাল লড়াকু লাতিন আমেরিকান দল। জার্মানি গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আরেক লাতিন দল ইকুয়েডরের কাছেও হেরেছিল। জার্মান গণমাধ্যম ও বিশ্বের শীর্ষ পত্রিকাগুলো, এমনকি ইয়ুর্গেন ক্লপের মতো কিংবদন্তি কোচও এই দল নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। মূল কারণ হলো, দলটি একটি ট্রানজিশনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নয়ার, কিমিচ, গোরেৎস্কা, রুডিগারদের বাদ দিলে বাকিরা তরুণ প্রতিভা। ২০১৪ সালের চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় যেমন— বোয়াটেং, শোয়াইনস্টাইগার, ক্রুস, মুলার, রয়েসরা একটা দীর্ঘ ও ধারাবাহিক ডেভেলপমেন্ট পাথওয়ে পার করে শীর্ষ পর্যায়ে পারফরম্যান্স করেছেন। তাদের বিদায়ের পরই দলের এই অবস্থা হয়েছে।
শিরোপাপ্রত্যাশী দল যেমন— ফ্রান্স, স্পেন, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল গ্রুপ পর্বে শুরুর একাদশ ও খেলার কৌশলে খুব বেশি পরিবর্তন আনেনি। জার্মানি, ইকুয়েডর ও প্যারাগুয়ে ম্যাচে বড় পরিবর্তন এনেছে। উন্দাভকে নাম্বার টেন পজিশনে খেলানো, মুসিয়ালাকে বেঞ্চে রাখা এবং কম কার্যকর লেরয় সানেকে শুরুর একাদশে রাখা। মাঝমাঠে পাভলোভিচ ও মেচা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও নিয়মিত হোল্ডিং মিডফিল্ডে খেলা কিমিচকে তার চেনা পজিশনে না খেলানো নিয়েও আলোচনা চলছে। শ্লটারব্যাকের ইনজুরির কারণে রুডিগার ও জোনাথনকে নিয়ে আসা হয়েছিল। প্যারাগুয়ের গোলটি এসেছে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডের জায়গায় একটা ছোট ভুলের কারণে, যেখানে পাভলোভিচ বা মেচার থাকার কথা ছিল। তবে প্যারাগুয়েকেও খাটো করে দেখা যাবে না। তারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো খেলেছে এবং দুর্বল দল হিসেবে ম্যাচকে এক্সট্রা টাইমে নেওয়ার কৌশল সফলভাবে কাজে লাগিয়েছে। ফুটবলে মাঝেমধ্যে ভাগ্যেরও ভূমিকা থাকে, আর এদিন সেটিও জার্মানির পক্ষে ছিল না।
এবার আসি মরক্কোর কাছে নেদারল্যান্ডসের হারের আলোচনায়। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো এবারও গ্রুপ পর্ব থেকে রাউন্ড অব ৩২ পর্যন্ত ধারাবাহিক পারফর্ম করেছে। বরং কাছাকাছি র্যাংকিংয়ের দুটি দলের লড়াইয়ে যোগ্যতর দল হিসেবেই মরক্কো জিতেছে। নেদারল্যান্ডস সবসময় ফেভারিট তকমা নিয়ে বিশ্বকাপে আসে, কিন্তু আজও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। ১৯৮৮ সালের ইউরোপিয়ান কাপ ছাড়া তাদের আর কোনো বড় শিরোপাও নেই।
মরক্কো ৪-২-৩-১ ফরমেশনে অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে খেলেছে, কোনো পজিশন রোটেশনও করেনি। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডস সুইডেনের সঙ্গে এত কঠিন ম্যাচ খেলার পরও হঠাৎ ৫-২-৩ ফরমেশনে চলে যায়, যেখানে ডামফ্রিস ও ভ্যান ডি ভেন আক্রমণে উঠে গিয়ে ক্রস করার পরিকল্পনা ছিল, আর গাকপো-সামারভিল ভেতরে এসে জায়গা তৈরি করে দেওয়ার কথা ছিল; কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। গাকপোর গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে এক্সট্রা টাইমে যেতে বাধ্য হয় তারা। টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসের ইতিহাস খারাপ— এ পর্যন্ত আটবার হেরেছে। এটিকে ইউরোপ-আফ্রিকা ফুটবলের তুলনা হিসেবে দেখা ঠিক নয়, বরং কাছাকাছি র্যাংকিংয়ের দুটি দলের সমানে সমান লড়াই, যেখানে মরক্কো প্রাপ্য জয়টা ছিনিয়ে নিয়েছে আর নেদারল্যান্ডসকে নিজেদের ফরমেশন পরিবর্তনের মাশুল গুনতে হয়েছে।




