মদরিচ-কেইনদের রেকর্ডের দিনে বিবর্ণ রোনালদো

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ দিনে তিন মহাতারকা মাঠে নামলেন তিনটি আলাদা স্টেডিয়ামে। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, লুকা মদরিচ এবং হ্যারি কেইনকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহের কোনো কমতি ছিল না। কিন্তু তিনজনের গল্প হলো একেক রকম। নিজ নিজ দলের হয়ে কেইন এবং মদরিচ জ্বলে উঠলেও রোনালদো ছিলেন অনেকটা আড়ালে।
প্রথম ম্যাচে কঠোর সমালোচনার পর দ্বিতীয় ম্যাচে জোড়া গোল করে রোনালদো হুংকার দিয়েছিলেন, ‘আমি ফিরে এসেছি, আমি ফিরে এসেছি!’ এ কথা শোনার পর পর্তুগিজ সমর্থকরা অনেকটা আশ্বাস পেয়েছিলেন। সি আর সেভেন ছন্দে থাকলে দলের পথটা অনেক সহজ হয়ে যায়। কিন্তু কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রতে পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থেকেও কোনো ছাপ রাখতে পারেননি রোনালদো। গোলকিপার কামিলো ভার্গাসের সঙ্গে একা মুখোমুখি হয়েও জাল খুঁজে পাননি পর্তুগিজ অধিনায়ক, যদিও সেটি অফসাইড হিসেবে গণ্য হতো। কঙ্গো ম্যাচের মতো আবারও সমালোচনার তীর থেকে রেহাই পাননি তিনি। পর্তুগালের ঐতিহ্যবাহী পত্রিকা ‘আ বোলা’ তাকে ১০-এর ভেতর ৪ রেটিং দিয়ে মাঠের সবচেয়ে খারাপ খেলোয়াড় আখ্যা দিয়েছে। রোনালদো-নেভেসদের রাউন্ড অব ৩২-এর প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া।
টুর্নামেন্টে ক্রোয়েশিয়ার বাঁচামরার লড়াইয়ে যার ওপর সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা ছিল সেই লুকা মদরিচ ফিরেছেন চিরচেনা ছন্দে। ফিলাডেলফিয়ায় ঘানার বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতে গ্রুপ ‘এল’-এ দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেছে ক্রোয়েশিয়া। ৪০ বছর ২৯১ দিন বয়সে মদরিচ বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট করা সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়েন। ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে তার কর্নার থেকে নিকোলা ভ্লাসিচ হেড করে বিজয়সূচক গোলটি করেন। ম্যাচে বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি পাসিংয়েও নিখুঁত ছিলেন এই ৪০ বছর বয়সী মিডফিল্ডারের। ম্যাচ শেষে কোচ জ্লাতকো দালিচের মুখেও শোনা গিয়েছে মুগ্ধতা, ‘লুকা সত্যিকার অর্থেই অসাধারণ ছিলেন। গোলে সহায়তা করেছেন, দুইবার প্রতিপক্ষের গোল ঠেকিয়েছেন। এটাই তার চরিত্র।’
একই গ্রুপের আরেক ম্যাচেও রেকর্ড ছুঁয়েছেন ইংল্যান্ডের তারকা হ্যারি কেইন। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে পানামার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে ইংল্যান্ড গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ করেছে। ৬৮তম মিনিটে জুড বেলিংহামের ক্রস থেকে হেডে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের ১১তম গোল পূরণ করেন কেইন, ছাড়িয়ে যান গ্যারি লাইনেকারের দীর্ঘদিনের রেকর্ড। ইংল্যান্ডের সর্বকালের বিশ্বকাপ সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন তিনি। সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার অনুভূতি সম্পর্কে কেইন বলেছেন, ‘এটা আমার জন্য গর্বের মুহূর্ত। বিশ্বকাপে ১১ গোলে পৌঁছানো অসাধারণ অনুভূতি— এই মুহূর্তগুলো আমি কখনো অবহেলা করি না।’




