মেসি পেরেছেন এবার পালা রোনালদোর

‘একটা ছয়-সাত ম্যাচের টুর্নামেন্ট বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় নির্ধারণ করতে পারে না’— ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে ঠিক এমন মন্তব্যই করেছিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। তার মতে, একটি বিশ্বকাপ জয় কখনোই শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হতে পারে না। এখানেই থামেননি পর্তুগিজ সুপারস্টার, বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্নও নাকি দেখেন না তিনি!
রোনালদো এমনই। ঠোঁটকাটা স্বভাবের। মনে যা আসে বলে দেন অবলীলায়। নিন্দুকদের শায়েস্তা করতে বিশ্বকাপ ছুড়ে ফেলার সাহসও দেখাতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতা তো অন্য কথা বলছে। তিনি বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দেখেন না, অথচ ৪১ পেরিয়ে যাওয়ার পরও খেলতে যাচ্ছেন আরেকটি বিশ্বকাপ। শুধু তা-ই নয়, ২০৩০ বিশ্বকাপ খেলার সুপ্ত ইচ্ছাও আছে তার মনে। এর মানে, রোনালদোও জানেন ও মানেন বিশ্বকাপের পরিধি সব কিছুকে ছাড়িয়ে।
লিওনেল মেসির অপেক্ষা ফুরিয়েছে ২০২২ বিশ্বকাপে। রোনালদোর জন্য সোনালি ট্রফি জেতার তাগিদ বেড়েছে আরও। প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাপকাঠিতে এ দুজন কেউ কাউকে ছাড় দেননি। বিশ্বকাপ সাফল্যে কেন পিছিয়ে থাকবেন রোনালদো! ৪৮ দলের ফুটবল মহাযজ্ঞে কি অধরা ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে পারবেন সিআরসেভেন?
পর্তুগালের সম্ভাবনার পালে হাওয়া লাগছে। ফুটবল বিশ্লেষকরা ফেভারিটের তকমা সেঁটে দিচ্ছেন তাদের নামের পাশে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও দুর্দান্ত স্কোয়াড পর্তুগালকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের। তাদের রক্ষণে বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডাররা। মাঝমাঠ তো এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা। দুর্বলতা যদি কিছু থাকে, সেটা আক্রমণভাগে। এখানে প্রশ্ন তুলতে পারেন, রোনালদো থাকতে দুর্বলতা কীসের? তা বটে। বয়স ৪১ হলেও রোনালদোর পারফরম্যান্সে টগবটে তরুণের ছাপ। প্রতিপক্ষদের এখনো গোলের বন্যায় ভাসিয়ে যাচ্ছেন। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ালে হয়ে ওঠেন আরও ভয়ংকর। মাঝমাঠ থেকে বলের জোগান ঠিকঠাক এলে রোনালদো একাই গড়ে দিতে পারেন ব্যবধান।




