মেসি থাকলে জয়ের সম্ভাবনাও থাকে
- বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের অন্যতম সদস্য এডেন হ্যাজার্ড। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নেমেছেন। দুর্দান্ত এক দল নিয়েও ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে গিয়েছিল এডেন হ্যাজার্ডের বেলজিয়াম। তুলে দেওয়া হলো ফিফাকে দেওয়া তার সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ।

প্রশ্ন: এবারের বিশ্বকাপে কেমন করবে বেলজিয়াম?
এডেন হ্যাজার্ড: নিঃসন্দেহে বেলজিয়াম নিজেদের গ্রুপের সেরা দল। তবে প্রথম ম্যাচ কখনোই সহজ হয় না। বর্তমান স্কোয়াডে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররাও আছে। এবার শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না বেলজিয়ামকে। সেটাই হয়তো তাদের আরও স্বাধীনতা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে সাহায্য করবে। বেলজিয়াম নিয়ে প্রত্যাশা অনেক, তবে ২০১৮ বা ২০২২ সালের তুলনায় সেটা কম।
প্রশ্ন: বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্ম তো নেই।
এডেন হ্যাজার্ড: এগুলো সাংবাদিকদের দেওয়া নাম। ‘গোল্ডেন জেনারেশন’, ‘সিলভার জেনারেশন’— আপনি যা খুশি বলতে পারেন। আমরা জানতাম, আমাদের দলে অসাধারণ কিছু খেলোয়াড় রয়েছে, যারা শীর্ষ ক্লাবগুলোর হয়ে নিয়মিত ট্রফি জিতছে। আমরা প্রায় সবাই একই বয়সী ছিলাম এবং একই সময়ে পরিণত হচ্ছিলাম। বিশ্বকাপ জেতা খুব কঠিন কাজ। হ্যাঁ, আমরা একটি বিশ্বকাপ জিততেও পারতাম! আমাদের দারুণ একটি যাত্রা ছিল। ২০১৮ সালে আমরা যা অর্জন করেছি, তা নিয়ে দল এবং পুরো দেশ ভীষণ গর্বিত।
প্রশ্ন: নিজের প্রথম বিশ্বকাপ কেমন কেটেছিল আপনার?
এডেন হ্যাজার্ড: ২০১৪ সালে ব্রাজিলে আমার প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছিলাম। এটা ছিল একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। সত্যি বলতে সেই সময়ের খেলোয়াড়দের জন্য দারুণ শেখার সুযোগ ছিল। আমরা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিলাম এবং আর্জেন্টিনার কাছে হেরে গিয়েছিলাম। আমরা আরও ভালো করতে পারতাম, কারণ সেটি আর্জেন্টিনার সেরা দলগুলোর একটি ছিল না। তাদের দলে মেসি ছিল, আর মেসি যদি আপনার দলে থাকে, তাহলে জয়ের সম্ভাবনা সবসময়ই থাকে। আমাদের বিশ্বকাপ মোটেও খারাপ যায়নি। বরং ব্যক্তিগত ও দলগত— দুদিক থেকেই আমরা বেশ ভালোভাবে টুর্নামেন্ট খেলেছি। সেই আসরই ভবিষ্যতের সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল।
আমরা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিলাম এবং আর্জেন্টিনার কাছে হেরে গিয়েছিলাম। আমরা আরও ভালো করতে পারতাম, কারণ সেটি আর্জেন্টিনার সেরা দলগুলোর একটি ছিল না
প্রশ্ন: ২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে সেই হার কি এখনো পীড়া দেয়?
এডেন হ্যাজার্ড: আমি বলব না যে ২০১৮ বিশ্বকাপে সবার চেয়ে অনেক ভালো ছিলাম। কারণ, সবসময়ই আমার চেয়ে ভালো খেলোয়াড় ছিল। তবে সেই টুর্নামেন্টে আমি নিজেকে অসাধারণ শক্তিশালী অনুভব করেছিলাম। শুধু ফুটবলীয় দক্ষতায় নয়, শারীরিক ও মানসিকভাবেও আমি তখন ক্যারিয়ারের সেরা অবস্থানে ছিলাম। আমার কাছে সেই হার লজ্জার কিছু ছিল না। ম্যাচের দুই-তিন দিন পর অবশ্য মনে হচ্ছিল, আমরা একটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার সুযোগ হারিয়েছি। কিন্তু পরে বুঝেছি, আমরা এর চেয়ে বেশি কিছু করতে পারতাম না। আজও মনে হয়, আমরা সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিলাম। আর যখন এভাবে হারতে হয়, তখন নিজেকে খুব বেশি দোষারোপ করার সুযোগ থাকে না।
প্রশ্ন: ২০২২ বিশ্বকাপের হতাশাজনক পারফরম্যান্স দলের ওপর কেমন প্রভাব ফেলেছিল?
এডেন হ্যাজার্ড: আমার মনে হয় আমাদের শুধু ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে একটি গোল দরকার ছিল। আমরা ভালো খেলেছিলাম। ম্যাচটি জিততে পারলে নকআউট পর্বে চলে যেতাম। এরপর তো নকআউট ফুটবল, যেখানে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। আমাদের দলের তখনো অনেক গুণগত মান ছিল এবং আমরা একে অন্যকে খুব ভালোভাবে চিনতাম। তরুণ খেলোয়াড়রাও উঠে আসছিল। আমি বলছি না যে, আমরা পরের ধাপে উঠলে বিশ্বকাপ জিততাম, কারণ সেটা কেউ জানে না। তবে আমি মনে করি না আমরা সাফল্য থেকে খুব দূরে ছিলাম।
প্রশ্ন: বর্তমান কোচ রুডি গার্সিয়া থেকে কেমন সাফল্য আশা করছেন?
এডেন হ্যাজার্ড: তিনি আগে কখনো জাতীয় দল কোচিং করাননি, কিন্তু আমি এটাকে কোনো সমস্যা মনে করি না। এই দায়িত্ব সামলানোর মতো যথেষ্ট অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। তিনি একজন খোলামেলা মানুষ, নিজের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেন এবং অসাধারণ একজন ব্যক্তি। আমার মনে হয়, আমাদের ঠিক এমন একজন কোচই প্রয়োজন।
প্রশ্ন: অবসর জীবনটা কেমন কাটছে?
এডেন হ্যাজার্ড: আমি ফুটবল থেকে বেশ খানিকটা দূরে সরে এসেছি। একসময় ফুটবলই আমার সময়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ দখল করে রাখত আর সেটা আমার কাছে ঠিকই ছিল, কারণ আমি সেটাই করতে ভালোবাসতাম। কিন্তু এখন আমি জীবনের নতুন অধ্যায়ে এগিয়ে গেছি।
প্রশ্ন: এবারের বিশ্বকাপ মাঠে বসে দেখার কি কোনো পরিকল্পনা আছে?
এডেন হ্যাজার্ড: তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে আমার মনে হয় বাচ্চারা কোনো ম্যাচ দেখতে গেলে খুব খুশি হবে!




