ফ্লিকের জাদুর ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া বার্সা

সংগৃহীত ছবি
ক্যাম্প ন্যুতে হার এড়ালেই নিশ্চিত হতো শিরোপা। হান্সি ফ্লিকের দল কাজটা সারল দাপটের সঙ্গেই। রিয়াল মাদ্রিদকে ২-০ গোলে হারিয়ে তিন ম্যাচ হাতে রেখেই লা লিগার শিরোপা উল্লাসে মাতল কাতালানরা।
৯৪ বছর পর এল ক্লাসিকোতে নির্ধারণ হয়েছে লা লিগা শিরোপা। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে লা লিগা ট্রফি নিশ্চিত করার আনন্দ পেল বার্সা। লা লিগায় বার্সার শিরোপা এখন ২৯টি। ৩৬ ট্রফি নিয়ে সবার ওপরে আছে রিয়াল।
শেষ এক দশকে অবশ্য লা লিগায় দাপট দেখিয়েছে বার্সাই। ১০ বছরে বার্সা জিতেছে পাঁচ শিরোপা, রিয়ালের ঘরে উঠেছে চারটি, আতলেতিকো মাদ্রিদ জিতেছে একবার।
গতবারের মতো এবারও মৌসুম জুড়েই দারুণ ফর্মে ছিল ফ্লিকের বার্সা। বিশেষ করে এই বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে বার্সা যেন হয়ে উঠেছে অপ্রতিরোধ্য। টানা ১১ জয়ে শিরোপা দৌড়ে রিয়ালকে পেছনে ফেলেছে ইয়ামাল-রাফিনিয়ারা।
ক্যাম্প ন্যুতে বার্সা যেন অজেয়। লিগে এই মৌসুমে নিজেদের মাঠে কখনোই হারেনি তারা। এখন পর্যন্ত লিগে মাত্র চারটি ম্যাচে হেরেছে ফ্লিকের দল।
সব টুর্নামেন্ট মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৫৩ ম্যাচে বার্সা জিতেছে ৪২ ম্যাচে, জয়ের হার ৭৯ শতাংশ। ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগে ৮৩ শতাংশ জয়ের হারে শুধু বায়ার্নই এগিয়ে আছে তাদের চেয়ে।
এই মৌসুমে প্রতিপক্ষের জালে গোলবন্যা বইয়েছে বার্সা ফরোয়ার্ডরা। লা লিগায় ৩৫ ম্যাচে তাদের গোল ৯১টি। গোল হজম করেছে মাত্র ৩১টি। গোলের দিক দিয়েও বার্সার চেয়ে অনেক পিছিয়ে রিয়াল (৭০টি)।
একদিকে বার্সার টানা জয়, আরেক দিকে রিয়ালের হোঁচট। আলভারো আরবেলোয়ার অধীনে এই মৌসুমে শিরোপা ছাড়াই কাটিয়ে দিতে হয়েছে মাদ্রিদকে। দলের মধ্যে সমন্বয়হীনতা, কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে নানা গুঞ্জন, সবশেষ চুয়ামেনি-ভালভার্দে দ্বন্দ্ব; রিয়াল শিবির যেন একেবারেই ছন্নছাড়া।
এই সুযোগটা দারুণভাবেই কাজে লাগিয়েছে বার্সা। শিরোপা নিশ্চিত হতে পারত আগেই। ক্যাম্প ন্যুতেই শেষ পর্যন্ত বার্সার অপেক্ষার অবসান ঘটে।
র্যাশফোর্ড-তোরেসের গোলে শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে শিরোপা উল্লাসে মাতে বার্সা। একরাশ হতাশা নিয়ে সেই উল্লাস দূর থেকেই দেখেছেন ভিনিসিয়ুস-বেলিংহামরা।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ফ্লিক যেন দলের ‘ফাদার ফিগার’। বাবার মতো পুরো দলকে আগলে রেখেছে, দিয়েছেন দিকনির্দেশনা।
মৌসুম জুড়ে ফ্লিকের দারুণ কৌশলের কাছেই হার মেনেছে প্রতিপক্ষ। একই সঙ্গে দলের ফুটবলারদের সেরাটাও বের করে এনেছেন এই জার্মান কোচ।
ফ্লিকের দায়িত্ব নেওয়ার আগের মৌসুমে ডাবল জিতেছিল রিয়াল। ফ্লিক যখন কোচ হিসেবে কাতালান ক্লাবটিতে আসেন, তখন দলের অবস্থা টালমাটাল। অন্যদিকে তারকাখচিত মাদ্রিদে যোগ হলেন এমবাপ্পেও। ফ্লিকের হাই লাইন ডিফেন্স কৌশল কতটুকু টক্কর দিতে পারবে এই মাদ্রিদকে, সেটাই ছিল বড় প্রশ্ন।
ফ্লিক অবশ্য ভুল প্রমাণ করলেন সব ভবিষ্যদ্বাণীকেই। তার অধীনে চ্যাম্পিয়নস লিগ না জিতলেও ঘরোয়া টুর্নামেন্টে বার্সা হয়ে উঠল অপ্রতিরোধ্য। টানা দুবার তাই রিয়ালকে কাঁদিয়ে লিগ শিরোপা জিতল কাতালানরা। শুধু কি তাই, ঘরোয়া টুর্নামেন্টে গত দুই বছরে ৬ ট্রফির ৫টি বাগিয়ে নিয়েছে বার্সা।
লা লিগা জয়ের পর ফ্লিক জানিয়ে দিলেন, এবার তার লক্ষ্য ১০০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শেষ করা। এই মুহূর্তে ৩৫ ম্যাচে বার্সার পয়েন্ট ৯১। শেষ তিন ম্যাচ জিতলেও ১০০ পয়েন্ট ছোঁবেন তারা।
পরের মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার প্রত্যয়টা এই মৌসুমেই নিলেন ফ্লিক। ফ্লিক কি পারবেন ঘরোয়া টুর্নামেন্টের এই সাফল্য চ্যাম্পিয়নস লিগেও নিতে?




