মডেল, শ্রমিক, ডিজাইনারদের নিয়ে সান মারিনো দল

সান মারিনো
সান মারিনো ইউরোপেরই দল। ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগালের মতো পরাশক্তির সঙ্গে খেলেও নিয়মিত। তবে মাত্র ৩৫ হাজার জনসংখ্যার দেশটিতে ফুটবলকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়াটা বিলাসিতা। তাই আজ প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দলটির প্রায় বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই ফুটবলের বাইরে বেছে নিয়েছেন অন্য পেশা। কেউ চাকরি করেন, কেউ ব্যবসা, কেউ ছাত্র তো কারও জীবন চলে মডেলিং করে।
অধিনায়ক মাত্তেও ভিতাইওলি জাতীয় দলে খেলেন ২০০৭ সাল থেকে। অভিষেকের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। এত কম বয়সে সান মারিনোর জার্সিতে খেলেননি আর কেউ। এতদিনে জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১০০ ম্যাচ খেলার কৃতিত্ব ভিতাইওলির। এত লম্বা ক্যারিয়ার হলেও ভিতাইওলির মূল পেশা ফুটবল নয়। তিনি একজন পেশাদার গ্রাফিকস ডিজাইনার। অর্থাৎ তার সংসার চলে গ্রাফিকস ডিজাইনারের কাজ করে। বাকি সময়টা তিনি খেলেন ফুটবল। শুরুতে চাকরি করলেও এখন ফ্রিল্যান্সিং করেন সান মারিনো অধিনায়ক।
ডিফেন্ডার মিশেল সেভোলি মোটর সায়েন্সে স্নাতক করেছেন। তবে কাজ করেন শ্রমিক হিসেবে। কাজ শেষে যান ফুটবল মাঠে। কারণ পেশা যাই হোক, ফুটবল ছাড়া বাঁচার কথা ভাবতেও পারেন না মিশেল। ২৭ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার খেলেন ইতালিয়ান ক্লাব কার্লি পিয়েত্রাকুতায়।
ইতালির সীমান্তের দেশ হওয়ায় সান মারিনোর অনেক ফুটবলারই খেলেন ইতালিয়ান বিভিন্ন লিগের ক্লাবে। ইতালির সফল ক্লাবগুলোর অন্যতম জুভেন্টাসেও নাম লিখিয়েছিলেন গোলকিপার এদোয়ার্দো কলম্বো। ২০১৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত জুভেন্টাসে থাকলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি একটিও। এরপর সাতটি ক্লাব বদলে তিনি এখন খেলেন মাল্টার ক্লাব গিজিরা ইউনাইটেডে।
এদোয়ার্দো কলম্বোর মতো পেশাদার কয়েকজন খেলোয়াড় আছেন সান মারিনোয়। তবে অপেশাদারদের সংখ্যাই বেশি। তাদেরই অন্যতম সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার দান্তে রসি। এমবিএ করেছেন তিনি। খণ্ডকালীন চাকরির পর দান্তে খেলেন ফুটবল। তার শুরুটা হয়েছিল লিওনেল মেসির স্মৃতিবিজড়িত নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজ ক্লাবে। তার জন্মও আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে। তবে ক্লাব ফুটবলে মেলে ধরতে পারেননি নিজেকে। পুরো ক্লাব ক্যারিয়ারে যেখানে খেলেছেন ২৭ ম্যাচ, সেখানে জাতীয় দলের হয়ে তার ম্যাচ ৩৮টি।
২৩ বছর বয়সী উইঙ্গার আন্দ্রেয়া কনতাদিনি একটা সময় করতেন মডেলিং। এখন খেলেন ইতালিয়ান ক্লাব পিয়েত্রাকুতায়। এই ক্লাবে খেলেন সান মারিনোর একাধিক ফুটবলার। এ ছাড়া ইতালির সিরি ‘ডি’র ক্লাব অলবিয়ায় খেলেন নিকোলা ন্যানি। সিরি ‘ডি’র আরেক ক্লাব সেনজিলিয়ানোয় খেলেন লেফট উইঙ্গার নিকো সেনসলি।




