রয় কিনকে ‘মিথ্যাবাদী’ বললেন ব্রুনো ফার্নান্দেস

পর্তুগিজ তারকা ব্রুনো ফার্নান্দেস।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেস সাধারণত মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই সব সমালোচনার জবাব দিতে পছন্দ করেন। তবে এবার আর চুপ থাকতে পারলেন না। ক্লাব কিংবদন্তি রয় কিনের এক মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই পর্তুগিজ মিডফিল্ডার। কিনের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘মিথ্যা’ বলার অভিযোগ এনেছেন তিনি।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে রয় কিন দাবি করেছিলেন, ব্রুনো দলের চেয়ে নিজের অ্যাসিস্টের রেকর্ডের পেছনে বেশি ছুটছেন। কিনের এমন মন্তব্যকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং মনগড়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইউনাইটেড অধিনায়ক।
প্রিমিয়ার লিগে নটিংহাম ফরেস্টের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ওই ম্যাচে অ্যাসিস্টের একটি রেকর্ড স্পর্শ করার পর ম্যাচ পরবর্তী সাক্ষাৎকারে ব্রুনো বলেছিলেন, ‘আজ হয়তো এমন কিছু মুহূর্ত ছিল যখন শট না নিয়ে আমার পাস দেওয়া উচিত ছিল। অ্যাসিস্ট করতে পেরে আমি খুশি, তবে তার চেয়েও বড় কথা দলের জয় এবং মৌসুমটি দারুণভাবে শেষ করতে পারা।’
তবে ব্রুনোর এই বক্তব্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেন রয় কিন। জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘দ্য ওভারল্যাপ’-এ সাবেক এই আইরিশ তারকা বলেছেন, ‘ম্যাচ শেষে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অধিনায়ক বলল, ‘‘কয়েকবার হয়তো আমার শট নেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু আমি পাস দিয়েছি।’’ একজন ফুটবলারের মানসিকতা কীভাবে একটা ম্যাচের মধ্যে ব্যক্তিগত রেকর্ডের দিকে থাকতে পারে? এই মানসিকতা নিয়ে ট্রফি জেতা সম্ভব নয়।’ ইউনাইটেডের এই জয় ও রেকর্ড উদযাপনে ক্ষুব্ধ কিন পুরো বিষয়টিকে একটি ‘সার্কাস’ বলেও অভিহিত করেন।
কিনের এই মন্তব্যের পর আর মুখ বুজে থাকেননি ব্রুনো। ‘দ্য ডায়েরি অব আ সিইও’ পডকাস্টে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেছেন, ‘আমি সমালোচনাকে ভয় পাই না। যে কেউ আমার সমালোচনা করতে পারে, আমি কখনো পাল্টা জবাব দিইনি। কিন্তু আমি মিথ্যা বলা পছন্দ করি না। রয় কিন যা বলেছেন তা মিথ্যা। ভাগ্য ভালো যে সবকিছুর রেকর্ড (ভিডিও) রয়েছে।’
সাবেক কোচ ওলে গানার সুলশারের মাধ্যমে রয় কিনের ফোন নম্বরও জোগাড় করার চেষ্টা করছেন ব্রুনো, যাতে সরাসরি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পারেন। তিনি যোগ করেন, ‘আমি ওলেকে তার (কিন) ফোন নম্বর দিতে বলেছি যাতে একটা টেক্সট করতে পারি। আমি তার মুখোমুখি হয়ে বলতে চাই যে, আমি সমালোচনা পছন্দ না করলেও মেনে নিই, কিন্তু মিথ্যা কথা মেনে নেব না।’
রয় কিন সমালোচনা করলেও মাঠের পারফরম্যান্সে ব্রুনো ফার্নান্দেস ছিলেন দুর্দান্ত। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে থিয়েরি অঁরি ও কেভিন ডি ব্রুইনার রেকর্ড ভেঙে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ২১টি অ্যাসিস্ট করার অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি। সেই সঙ্গে করেছেন ৯টি গোল।
তার এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই লিগে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করে দুই মৌসুম পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিরছে রেড ডেভিলরা। ব্যক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে চলতি মে মাসেই ফুটবল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফডব্লিএ) বর্ষসেরা পুরুষ ফুটবলার এবং প্রিমিয়ার লিগের ‘প্লেয়ার অব দ্য সিজন’ পুরস্কার জেতেন ৩১ বছর বয়সী এই তারকা।
চলতি মৌসুমে ইউনাইটেড সাবেক তারকাদের সমালোচনার মুখে পড়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজের উচ্চতা এবং আর্লিং হালান্ডকে আটকানোর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন পল স্কোলস ও নিকি বাট। তা নিয়ে মার্টিনেজের সঙ্গেও সাবেক এই তারকাদের দ্বিমত তৈরি হয়েছিল।
এদিকে ব্রুনোর মন্তব্যের পরই রয় কিন তার ইনস্টাগ্রামে একটি গাধার ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘অতিরিক্ত মনোযোগ পেলে গাধাও নিজেকে সিংহ ভাবতে শুরু করে।’






