মুখোমুখি ফিফা-উয়েফা
বিশ্বকাপ বয়কট করবে ইউরোপের দেশগুলো?

সংগৃহীত ছবি
উয়েফার সঙ্গে ফিফার সম্পর্কের টানাপোড়ন চলছে অনেকদিন ধরেই। এবারের বিশ্বকাপের বেশ কিছু ইস্যুতে মুখোমুখি অবস্থানে ছিল দুই সংস্থা। এবার জানা গেল, বেসরকারি বিনিয়োগ ইস্যুতে আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে বেশ কয়েকটি ইউরোপিয়ান দেশ!
ফিফা ঘোষণা দিয়েছে, ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামের একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করছে তারা। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে ফিফার সম্প্রচার, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি, লাইসেন্সিংয়ের মতো বাণিজ্যিক স্বত্ব এবং বিভিন্ন টুর্নামেন্ট পরিচালনার কার্যক্রম এক ছাতার নিচে আনা হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী এফএফইর নিয়ন্ত্রণহীন শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের থেকে সর্বোচ্চ ৪২০ কোটি ডলার পেতে চায় ফিফা। সংস্থাটির মূলধন ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার। ফিফার দাবি, সদস্যদেশগুলোর অনুমোদন পেলে এই পরিকল্পনার মাধ্যমে আগামী চার বছরে ফুটবল উন্নয়নে ১ হাজার কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করা সম্ভব হবে।
তবে ফিফার এমন উদ্যোগের সঙ্গে একমত হতে পারছে না উয়েফা। তারা বলছে, ফিফা তাদের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে উয়েফাভুক্ত ৫৫টি দেশ এই সপ্তাহেই জরুরি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে বসতে যাচ্ছে।
স্কাই স্পোর্টস বলছে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সামনে এগিয়ে গেলে তাকে চাপে ফেলতে বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি দিতে পারে উয়েফার দেশগুলো।
২০২১ সালে প্রতি দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল ফিফা। তবে উয়েফার বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকির মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে তারা। এবারও ফিফার নতুন পরিকল্পনা ঠেকাতে একই ধরনের কৌশল নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম পর্যন্ত এই ব্যাপারে মুখ খুলেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ফুটবল বিনিয়োগকারীদের সম্পদ নয়। এটি শুধু তাদের, যারা বৃষ্টি-রোদ উপেক্ষা করে প্রতি সপ্তাহে গ্যালারিতে আসেন এবং মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে দলকে সমর্থন করেন।’
উয়েফা ও ফিফার সম্পর্ক বেশ আগেই তলানিতে পৌঁছেছে। ফিফার শাসনব্যবস্থা নিয়ে একাধিক বিতর্ক, বিশেষ করে বিশ্বকাপে ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড ও নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে সংস্থাটির ভূমিকার প্রতিবাদে ফাইনালেও যাননি উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার চেফেরিন।
বিনিয়োগের এমন নতুন নিয়মের খবর প্রকাশের পর এক বিবৃতিতে উয়েফা বলেছে, ‘ফুটবলের আত্মা ও এর পরিচালনব্যবস্থা কোনো বেচাকেনার সম্পদ নয়। ফিফা এমন একটি সীমা অতিক্রম করেছে, যা ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কখনোই অতিক্রম করা উচিত নয়। বিষয়টিকে উয়েফা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। প্রতিটি জাতীয় ফুটবল সংস্থারও একইভাবে দেখা উচিত। এছাড়া লিগ, ক্লাব, খেলোয়াড়, সমর্থক, সরকার; ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ভাবেন, প্রত্যেকেরই এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।’






