এল ক্লাসিকো জিতেই বার্সার শিরোপা উৎসব

বাবা হারানো ফ্লিককে নিয়ে বার্সা খেলোয়াড়দের শিরোপা উৎসব।: সংগৃহীত
উপলক্ষ্যটা ছিল উৎসবের। সেটা বিষাদে ঢেকে যেতে পারত বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিকের বাবার মৃত্যুতে। পেশাদার ফ্লিক শোককে শক্তিতে পরিণত করে এল ক্লাসিকোয় দাঁড়ালেন ডাগআউটে। শিষ্যরাও হতাশ করেনি তাকে। রিয়াল মাদ্রিদকে ২-০ গোলে হারিয়ে লা লিগার শিরোপা জয়ের উৎসবে মাতল বার্সেলোনা।
অশান্তির আগুনে পোড়া রিয়ালের বিপক্ষে একটা পয়েন্ট হলেই চলত বার্সেলোনার। শুরু থেকে চড়াও হয়ে ক্যাম্প ন্যুতে তারা জিতল ২-০ গোলে। একটি করে গোল মার্কাস রাশফোর্ড ও ফেররান তোরেসের। সর্বশেষ ১৯৩২ সালের এল ক্লাসিকোয় নির্ধারিত হয়েছিল শিরোপা। সেবার মৌসুমের শেষ দিনে বার্সেলোনার সঙ্গে ড্র করে লিগ জিতেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। আজ রিয়ালকে হারিয়ে শিরোপা জিতল বার্সা।
ঢোল, ভুভুজেলা নিয়ে আসা দর্শকরা ‘ওলে ওলে’ গানে মাতিয়ে রেখেছিলেন সারাক্ষণ। রেফারির শেষ বাঁশির পর সমুদ্রের গর্জনই যেন উঠল গ্যালারিতে। এল ক্লাসিকো জিতে শিরোপা উৎসবের চেয়ে মধুর আর কি হতে পারে?
৩৫ ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার পয়েন্ট ৯১ আর রিয়ালের ৭৭। ১৪ পয়েন্টের এই ব্যবধান মেটানো আর সম্ভব নয় দুইয়ে থাকা রিয়ালের। তাই টানা দ্বিতীয়বার ফ্রিকের হাত ধরে শিরোপা উৎসবে মাতল বার্সা।
গত নভেম্বরেই চ্যাম্পিয়নস লিগে চেলসির কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল বার্সেলোনা। সেই চেলসির আগামীবার চ্যাম্পিয়নস লিগই খেলা হচ্ছে না। আর বার্সেলোনা ৩ ম্যাচ হাতে রেখে জিতে গেল লা লিগা।
ফ্লিকের বাবার মৃত্যুতে ম্যাচের আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন দুই দলের খেলোয়াড়ররাসহ পুরো গ্যালারি। এরপর নীরব হওয়ার পালা শুরু রিয়ালের।
নবম মিনিটেই মার্কাস রাশফোর্ডের জাদুকরী ফ্রিকিকে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। বার্সার ক্যারিয়ারে এটাই নিজের সেরা গোল রাশফোর্ডের। ডি-বক্সের একটু বাইরে ফেররান তরেস ফাউলের শিকার হলে ফ্রি কিক পেয়েছিল বার্সেলোনা।
এ নিয়ে লিগে সবশেষ ছয় ম্যাচে চারটি গোল করলেন রাশফোর্ড। লা লিগায় তার গোল আটটি, মৌসুমে সব মিলিয়ে ১৪টি। আর ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবার ফ্রি কিক থেকে গোল করলেন রাশফোর্ড। ২০১২ সালে লিওনেল মেসির পর বার্সেলোনার হয়ে এল ক্লাসিকোয় সরাসরি ফ্রি কিক থেকে প্রথম গোল করলেন ধারে খেলতে আসা এই ইংলিশ তারকা। গ্যালারিতে তখন খুশিতে আত্মহারা চোট পাওয়া লামিন ইয়ামাল।
গ্যালারির উৎসবটা ১৮তম মিনিটে দ্বিগুণ করেন ফেররান তরেস। দানি ওলমোর চোখ জুড়ানো পাসে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই স্প্যানিয়ার্ড তারকা। বাঁ দিক থেকে আসা ক্রস ডি-বক্সে আন্টোনিও রুডিগারের চ্যালেঞ্জ সামনে দারুণভাবে কাটব্যাক করেছিলেন ওলমো।
বিরতির আগে ব্যবধান ৩-০ করার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন রাশফোর্ড। গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়াকে একা পেয়ে যান তিনি। তবে কর্তোয়ার এক হাতের অসাধারণ সেভে বেঁচে যায় রিয়াল।
প্রথম ৩৫ মিনিটে বার্সেলোনার বক্সে ১১বার বল স্পর্শ করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তারপরও বার্সার রক্ষণের দৃঢ়তায় হোয়ান গার্সিয়াকে সেভ করতে হয়েছে কেবল একটিই।
রিয়ালের গনসালো গার্সিয়া আর চুয়ামেনি বিরতির আগে সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন ব্যবধান কমানোর। ব্যর্থ হন দুজনই।
বিরতির কিছুক্ষণ পর দুই দলের খেলোয়াড়দের উত্তেজনায় শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি। হলুদ কার্ড দেখেন ফ্রান গার্সিয়া ও দানি ওলমো। এল ক্লাসিকোয় এমন উত্তেজনা অবশ্য অস্বাভাবিকও নয়!
৫৪ মিনিটে ফেররান তরেসকে হতাশ করেন থিবো কর্তোয়া। স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডের আড়াআড়ি শট বাম পা বাড়িয়ে দিক বদলে দেন রেয়াল চোট কাটিয়ে ফেরা এই গোলরক্ষক।
৬৩ মিনিটে জুড বেলিংহাম জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে হতাশ হতে হয় রিয়ালকে। শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। আর এল ক্লাসিকো জিতে ২৯তম লা লিগা শিরোপার আনন্দে মাতে বার্সেলোনা।







