আবাহনীকে কাঁদিয়ে কিংসের লিগ শিরোপা

সংগৃহীত ছবি
আবাহনী ০-২ বসুন্ধরা কিংস
পেশাদার যুগে সাফল্যে সেরা ছিল আবাহনী, তারা জিতেছিল ছয় শিরোপা। টানা পাঁচ শিরোপায় আবাহনীর ঘাড়েই নিঃশ্বাস ফেলছিল বসুন্ধরা কিংস। শুক্রবার কুমিল্লায় আবাহনীকে কাঁদিয়ে তাদেরই ছুঁয়ে ফেলেছে বসুন্ধরা। মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে আবাহনীর শিরোপা পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন ভেঙে বসুন্ধরা জিতেছে ২-০ ব্যবধানে।
এ মৌসুমে বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলাররা ঠিকঠাক বেতন পাননি। লিগের মাঝপথে দায়িত্ব ছেড়ে চলে যান আর্জেন্টাইন কোচ মারিও গোমেজ। দুই নাইজেরিয়ান ইমানুয়েল টনি ও ইমানুয়েল সানডে তো বকেয়া না পেয়ে খেলাই বন্ধ করে দেন। দেশীয়দের ক্ষোভ ছিল, যা মাঠের বাইরে মাঝেমধ্যে প্রকাশও করেছেন। তবে মাঠে হতোদ্যম হননি, দলকে হতাশ করেননি। তাতেই এক মৌসুম পর ফের মসনদে কিংস।
আবাহনীর জন্য অনেক হারানোর ম্যাচ এটি। টানা ছয় মৌসুম পর তাদের সামনে ছিল শিরোপার হাতছানি। ২০২৪-এর আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ক্লাবটিকে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে। এর মধ্যেই চলতি লিগের দ্বিতীয় পর্বে মারুফুল হকের শিষ্যরা ছিল ভীষণ ধারাবাহিক, জিতেছিল টানা সাত ম্যাচ। তবে 'ডু-অর-ডাই' ম্যাচেই খেই হারাল তারা। আরেকবার ভাঙল তাদের শিরোপার স্বপ্ন।
১৭ ম্যাচে ১১ জয়ে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে কিংস এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এদিকে ফর্টিস এফসি ব্রাদার্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে আবাহনীকে ছুঁয়ে ফেলেছে। দুই দলেরই সংগ্রহ এখন সমান ৩৪। কিংস অ্যারেনায় শেষ রাউন্ডে তলানির ফকিরেরপুলের বিপক্ষে বসুন্ধরা খেলবে আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচ। অন্যদিকে শেষ রাউন্ডে আবাহনী ও ফর্টিস ভিন্ন ভিন্ন মাঠে লড়বে রানার্সআপ হওয়ার আশায়।
অথচ লম্বা একটা সময় ম্যাচটি এগোচ্ছিল ড্রয়ের দিকে। নিশ্চিত জয়ের লক্ষ্যে আবাহনী নেমেছিল আক্রমণভাগে শক্তি বাড়িয়ে। সুলেমান দিয়াবাতে, এমেকা ওগবাহ, শেখ মোরসালিন, মিরাজুল ইসলামরা প্রথমার্ধ জুড়ে চেষ্টা করেছেন মেহেদী হাসান শ্রাবণকে পরাস্ত করতে। বেশ ক’টি সুযোগ তৈরি করেও তারা গোল পাননি।
কার্ডের খাঁড়ায় এ ম্যাচে ছিলেন না রাকিব হোসেন। কিংসের আক্রমণভাগের দায়িত্বে ছিলেন স্রেফ দোরিয়েলতন গোমেজ। আবাহনী কোচ মারুফুল চেয়েছেন শুরু থেকেই দোরিয়েলতনকে বোতলবন্দি রাখতে, পেরেছিলেনও।
বিরতি থেকে ফিরে দুই দলই চেষ্টা করেছে গোলের। ৬৬ মিনিটে এমেকার থ্রু পাস ধরতে ছুটছিলেন মিরাজুলের বদলি ব্রুনো মাতোস। বিপদ বুঝে বের হয়ে এসে সেই বল আয়ত্তে নেন কিংস কিপার শ্রাবণ। অল্পের জন্য বলের নাগাল পাননি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
৭২ মিনিটে কিংসকে পেনাল্টি উপহার দেন আসাদুজ্জামান বাবলু। দোরিয়েলতনের থ্রু পাস নিয়ে বক্সে ঢুকছিলেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। সাইড ট্যাকলে তাকে ফেলে দেন আবাহনী অধিনায়ক বাবলু। বেজে ওঠে পেনাল্টির বাঁশি। স্পট কিক থেকে দোরিয়েলতন ডান পায়ের শটে মিতুল মারমাকে পরাস্ত করেন। দোরিয়েলতনের ১৮তম গোলে কিংস পেতে শুরু করে শিরোপার সুবাস।
এর পাঁচ মিনিট পর সোহেল রানা জুনিয়রের কাছ থেকে পাস পেয়ে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে সোহেল রানা সিনিয়র বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে কিংসের শিরোপা নিশ্চিত করেন।
আবাহনীকে আরেকবার হতাশ করে বসুন্ধরা এখন চলতি মৌসুমে ট্রেবল জয়ের স্বপ্নে বিভোর। চ্যালেঞ্জ কাপ, লিগ শিরোপার পর তাদের লক্ষ্য ফেড কাপের ফাইনালে মোহামেডানকে হারানোর। চার দিন পর কিংস অ্যারেনাতেই হবে সেই শিরোপার লড়াই।




