দুই বছরে ৪০ কোটি টাকার লোকসান
এই বছর হচ্ছে না বিপিএল

ছবি: আগামীর সময়
বিপিএলের আয়োজন নিয়ে ছিল নানা অভিযোগ। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এবার জানালেন, এই বছরের শেষভাগে বিপিএল আয়োজন করবেন না তারা।
গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আজ বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘এই বছর বিপিএল মাঠে গড়াচ্ছে না। আমরা একটি নতুন ফর্মুলা নিয়ে কাজ করছি। যখন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে, তখন আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেব যে আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্যালেন্ডারটি আমরা কীভাবে সাজাচ্ছি। এটি বেশ ভিন্নধর্মী ও রোমাঞ্চকর হতে চলেছে।’
তামিম আরও জানান, ‘আমি আগেই বেশ কয়েকবার ইঙ্গিত দিয়েছিলাম যে, আমি বিপিএল এভাবে পরিচালনা করব না। এখানে মূলত দুই-তিনটি বড় ইস্যু রয়েছে। প্রথমত, আমাদের মূল এজেন্ডা ছিল যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন সম্পন্ন করা।’
ফিক্সিংয়ের কারণে ২০১৪ সালে প্রথমবার বাতিল হয় বিপিএলের আসর। এছাড়া করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময় ২০২১ সালেও বসেনি দেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের আসর।
অবশ্য বিপিএল আয়োজনের ইচ্ছায় কোনো ঘাটতি নেই বিসিবির। তবে হুটহাট করে নয়, বরং সময় নিয়ে ভালোভাবেই আয়োজনের পক্ষে তামিম।
বিসিবি সভাপতি জানান, ‘বিপিএল বাস্তবায়নের জন্য আমাদের ইচ্ছা এক হাজার শতাংশ রয়েছে। তবে আমি কোনো তাড়াহুড়ো করতে চাই না। আমি কাজটি সঠিকভাবে করতে চাই, সেজন্য যদি ৬ বা ১২ মাস সময়ও লাগে, আমি তা নেব। আমরা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছি। যারা নিয়ম লঙ্ঘন করেছে বা খেলাপি হয়েছে, সেই বিষয়গুলো সমাধান করতে হবে। বকেয়া পেমেন্ট বা ব্যাংক গ্যারান্টিসংক্রান্ত সমস্যাগুলো ধাপে ধাপে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দিইনি। আমার মূল অগ্রাধিকার হলো পুরো সিস্টেমকে ঠিক করা, যাতে বিসিবি লাভজনক একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।’
গত দুই বছরে প্রায় ৪০ কোটি টাকার ক্ষতির কথাও জানালেন তামিম, ‘সমস্যা হলো, যদি কোনো দল টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায় বা কমপ্লায়েন্স পূরণ না করে, তবে বিসিবিকে সেই দলের দায়িত্ব নিতে হয়। গত দুই বছরে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকার মতো লোকসান হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে তো বিসিবির লাভ করার কথা, লোকসান নয়। তাই এই সমস্যাগুলোর সমাধান না করা পর্যন্ত, লোকসান গুনে টুর্নামেন্ট চালিয়ে যাওয়া আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।’
পরবর্তী বিপিএলের পরিকল্পনা নিয়ে বিসিবি সভাপতি তামিম বলেন, ‘আমরা
চাচ্ছি আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে সব ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে।
আগে যা হতো—একেবারে শেষ মুহূর্তে সবকিছু করা হতো। আমরা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো
চূড়ান্ত করতে চাই, যাতে কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে বা সরে দাঁড়ালে আমাদের হাতে বিকল্প খোঁজার
মতো যথেষ্ট সময় থাকে। আমরা একটি সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আগামী বছর এটি আয়োজন
করার চেষ্টা করব। আমি চাইলে কালকেই পাঁচটি দল দাঁড় করিয়ে দিতে পারি, কিন্তু আমি তা
করব না। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিযোগিতামূলক ফেয়ার ক্রিকেট নিশ্চিত
করা এবং বিসিবির সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখা। এর জন্য যদি আমাকে কোনো সমালোচনাও শুনতে
হয়, তবুও আমি রাজি।’






