উগান্ডায় দাদি-নানিদের ক্রিকেটে নতুন বাঁক

মনের আনন্দে খেলছেন দাদি-নানিরা। ছবি: সংগৃহীত
‘বাংলাদেশ না খেলায় স্কটল্যান্ড এসেছে। পাকিস্তান না খেললে ২১ নম্বর দল চলে আসবে’-গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বলেছিলেন পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি। আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের এই ২১ নম্বর দলটি উগান্ডা। ক্রিকেট ঐতিহ্যে তারা অনেক পিছিয়ে। তবে আফ্রিকান অঞ্চলে উগান্ডা উঠে আসছে দ্রুতই।
টেস্ট খেলা দল জিম্বাবুয়েকেও টি-টোয়েন্টিতে হারিয়েছে উগান্ডা। এবার হয়তো একটা দিক দিয়ে পেছনে ফেলল বিশ্বের সব ক্রিকেট পরাশক্তিকেই। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা, মানসিক চাপ আর একাকিত্ব কাটাতে উগান্ডায় বেছে নেওয়া হয়েছে ক্রিকেটকে। দেশটির বয়স্ক নারীরা মনের আনন্দে ক্রিকেট খেলে কাটাচ্ছেন একাকিত্ব। এই দলটিকে বলা হচ্ছে ‘ক্রিকেট গ্র্যানিজ’।
রাজধানী কাম্পালা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরের জিনজা জেলার একটি মাঠে প্রতি শনিবার ক্রিকেট খেলতে আসেন ৫০ থেকে ৯০ বছর বয়সী নারীরা। পায়ে জুতোই নেই অনেকের। শরীরের পোশাক গোড়ালি সমান। কিন্তু খেলার উদ্দেশ্য যখন শারীরিক সুস্থতা তখন পোশাক আর জুতোয় কী আসে যায়! পাশাপাশি এই ক্রিকেট মাঠ পরিণত হয়েছে সামাজিক মেলবন্ধনের কেন্দ্রেও।
৭২ বছর বয়সী জেনিফার ওয়াইবি নানিয়োঙ্গা এ নিয়ে বলেছেন, ‘আগে প্রায়ই পিঠের ব্যথার জন্য ডাক্তার দেখাতে হতো, কিন্তু গত এক বছর ক্রিকেট খেলায় আমাকে আর ক্লিনিকে যেতে হয়নি।’
২০২৫ সালে কিভুবুকা নামের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে ১০ জন বয়স্ক নারীকে নিয়ে এর শুরুটা করেন কোচ অ্যারন কুসাসিরা। তিনি শুরুতে আনতে চেয়েছিলেন শিশুদের। কিন্তু আসা শুরু করেন বয়স্করা। এখন অবশ্য বয়স্ক আর শিশু কোনো শিক্ষার্থীর কমতি নেই এই কোচের কাছে! নাতিদের সঙ্গে মনের আনন্দে খেলছেন দাদি-নানিরা।

