বিসিবির নাটক, কোনোকিছুই আর অবাক করে না সিমন্সকে

বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ ফিল সিমন্স। ছবি: আগামীর সময়
দুই বছর ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) একের পর এক নাটকীয়তার জন্ম হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে সভাপতি পরিবর্তন হয়েছে তিনবার। কোনোটাই যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে হয়নি। এই নাটকীয় সময়গুলোর নীরব সাক্ষী হয়ে আছেন জাতীয় দলের কোচ ফিল সিমন্স। আজ বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এসব নিয়ে তার মুখে শোনা গেল দার্শনিক উত্তর।
নিউজিল্যান্ড সিরিজ উপলক্ষে দলের প্রতিনিধি হয়ে মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন সিমন্স। তার কাছে প্রশ্ন ছিল— দুই বছরে তিনবার বিসিবি সভাপতির পরিবর্তনকে তিনি কীভাবে দেখছেন? জবাবে হেসে সাবেক এই ক্যারিবিয়ান তারকা বলেন, ‘এটা শুধু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বলছি না, জীবনের অভিজ্ঞতাই এমন। আমি যথেষ্ট চড়াই-উতরাই দেখেছি এবং জানি যে প্রতিদিন নতুন কিছু ঘটতে পারে। তাই আমি কিছুতেই অবাক হই না।’
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৎকালীন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়। সভাপতি হয়ে আসা ফারুক আহমেদও বেশিদিন টিকতে পারেননি। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে অপমানজনকভাবে সরিয়ে চেয়ারে বসায় আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে। তিন মাস পর আয়োজিত প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ণ মেয়াদে বুলবুল বিসিবির মসনদে বসেন। কিন্তু তার বিদায়টা হয়েছে ভীষণ অপমানজনক।
বুলবুলের আমলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা নগ্নভাবে প্রকাশিত হয়ে যায়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে বিএনপি। এই ধারাবাহিকতায় বুলবুলের আয়োজিত নির্বাচন ঘিরে তদন্ত হয়। সেই তদন্তে বুলবুলের সব গোমর ফাঁস হয়ে গেলে তাকে অপসারণ করা হয়। নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির নতুন সভাপতি হয়ে আসেন তামিম ইকবাল।
এদিকে তামিম ইকবালও সব ধরনের ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিক অবসর নেননি। তিনি বিপিএল খেলেছেন গত আসরেও। এত কম বয়সে বা খেলোয়াড়ী ক্যারিয়ারকে আনুষ্ঠানিক বিদায় না জানিয়েও দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ চেয়ারে বসাটাও অনেকের কাছে আশ্চর্যজনক। সিমন্সের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘আমরা বরং ক্রিকেটেই থাকি।‘

