বাংলাদেশের জয়ের পর অস্ট্রেলিয়াকে লারার সতর্কবার্তা

সংগৃহীত ছবি
ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়ার ৯ উইকেটের হারে দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে কিছু তারকা ক্যারিয়ারের প্রায় শেষ প্রান্তে। তাদের বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়া কিভাবে তা সামলাবে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্যারিবীয় কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা। একইসঙ্গে দলটির বেঞ্চ টিম নিয়েও সতর্ক করেছেন তিনি।
মারারা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট জেতে বাংলাদেশ। পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে খেলতে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। দলে ছিলেন প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়নের মতো অভিজ্ঞ বোলাররা। বয়সের কারণে এই বোলিং আক্রমণ নিয়েও এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে উসমান খাজা অবসর নিয়েছেন। দলের আরও কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারও ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে। এমন পরিস্থিতিতে লারা মনে করেন, একসঙ্গে একাধিক তারকার অবসর অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় সংকট তৈরি করতে পারে,‘একসঙ্গে অবসর নেওয়ার চেয়ে ধাপে ধাপে অবসর নেওয়াই ভালো।‘
অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ ক্রিকেটারদের নিয়েও চিন্তিত লারা, ‘অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ খেলোয়াড়দের দিকে তাকালে দেখি অনেক ব্যাটারের গড় ৩০ এর ঘরে। তাই দলের চার-পাঁচজন একসঙ্গে চলে গেলে পরিস্থিতি সামলানো খুব কঠিন হবে।’
নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই অস্ট্রেলিয়াকে সতর্ক করেছেন লারা। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘১৯৯২ সালের দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষেত্রেও এমনটা হয়েছিল। গর্ডন গ্রিনিজ, ভিভ রিচার্ডস, ম্যালকম মার্শাল ও জেফ ডুজনের মতো খেলোয়াড়রা অল্প সময়ের ব্যবধানে চলে গিয়েছিলেন।’
গ্রিনিজ, রিচার্ডস ও ডুজন ১৯৯১ সালের ইংল্যান্ড সফরের পর বিদায় নেন। একই সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ান মার্শালও। তখন মাত্র ২২ বছর বয়সী লারার ওপরই মূলত নতুন করে গড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিং লাইনআপের দায়িত্ব এসে পড়ে।
শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর আগের অবস্থানে ফিরতে পারেনি। সত্তর ও আশির দশকে বিশ্ব ক্রিকেটে একক আধিপত্য ধরে রাখা দলটি এরপর সংকটের মুখে পড়ে। সেই সময়ের পতনের পুরোটা নিজের ক্যারিয়ারে দেখেছেন লারা।
অস্ট্রেলিয়ার পরিস্থিতি অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে পুরোপুরি এক নয়। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট অবকাঠামো ও খেলোয়াড় তৈরির ব্যবস্থা অনেক বেশি শক্তিশালী। তবে লারার মূল সতর্কবার্তা হলো প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড, নাথান লায়ন ও স্টিভ স্মিথের মতো অভিজ্ঞরা যদি অল্প সময়ের মধ্যে একসঙ্গে বিদায় নেন তাহলে তাদের জায়গা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় তাই অস্ট্রেলিয়ার জন্য শুধু একটি টেস্ট হার নয়, ভবিষ্যৎ দল গঠনের ক্ষেত্রেও একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন লারা।






