সিলেট টেস্ট
মাঠের সবুজ আর কালো মেঘ যখন দুশ্চিন্তা

সংগৃহীত ছবি
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলোয়াড়দের ড্রেসিং রুমটা যে দালানে, সেটা নির্মাণ করা হয়েছে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সময়ের স্থাপত্যশৈলিতে। লাল রঙের টালির ছাদ মনে করিয়ে দেয় পুরনো দিনের চা-বাগানের বাংলোর নকশাকে। জৈষ্ঠ্যের শুরুতে আকাশে জলদ মেঘের ওড়াওড়ি, রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি আর একপশলা ভিজে হাওয়া মনে করিয়ে দেয় সিলেটের সঙ্গে বিলেতের দীর্ঘদিনের সংযোগকেই। এই বিলেতি আবহাওয়াই হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম।
দুপুর গড়িয়ে বিকাল হলো, বৃষ্টিও থামল। পাকিস্তান দলের ক্রিকেটারদের অনুশীলন ছিল বিকালে, দলের সবাই এসে দাঁড়িয়ে গেলেন উইকেটের একপাশে। গভীর মনযোগ দিয়ে দেখলেন আগামী ৫ দিনের রণভূমিকে। ঢাকা টেস্টের পর সাদমান ইসলামের স্কোয়াড থেকে ছিটকে যাওয়াটা নিশ্চিত করেছে। সিলেটে বদল আসছে একাদশে।
তানজিদ হাসান তামিমকে ১০৯ নম্বর টেস্ট ক্যাপটা দেওয়া হতে পারে শনিবার সকালে, এমনটাই আভাস মিলেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে সেঞ্চুরি আর হাফ-সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম, প্রধান নির্বাচকের ভাবনায় তাই সাদা বলেও তাকে একটু পরখ করে দেখার বাসনা ছিল। তামিম ‘টেস্ট’ পরীক্ষায় বসতে যাচ্ছেন খুব সম্ভবত দেশের ভেতর সবচেয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে। মেঘলা আকাশ, একদিন আগেও মাঠ থেকে আলাদা করা যাচ্ছিল না এমন সবুজ উইকেট। সেখানে ইনিংসের গোড়াপত্তনে নামাটা প্রথমবার টেস্ট খেলতে যাওয়ার জন্য জুতসই নয় মোটেও।
তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে এই মাঠেই কিছুদিন আগে খেলে যাওয়া মুশফিক অবশ্য অভয় দিয়ে বলেছেন, শুরুর সময়টা পার করে দিতে পারলে এই উইকেট ব্যাটসম্যানদের বন্ধু হয়ে ওঠে, ‘সম্প্রতি আমরা এখানেও বিসিএল এর একটা ম্যাচ খেলেছি। তো সিলেটে বরাবরই খুব সুন্দর ব্যাটিং উইকেট হয়ে থাকে। হয়তো শুরুতে বোলারদের একটু সাহায্য থাকে। কিন্তু যেটা বললাম যে, আবহাওয়ার কারণে হয়তো উইকেটে ভেজা ভাব থাকতে পারে।’
ভেজা ঘাসের উইকেট, মেঘলা আকাশ, সকালের হালকা শীতলতা; সব মিলিয়ে যদি সিলেটের সকালে বিলেতের আবহ নেমে আসে, তাহলে সেটা বড় পরীক্ষাই নেবে ব্যাটসম্যানদের। সিলেটে নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে জিতেছে বাংলাদেশ, তবে গত বছর এ-রকম সময়েই হেরেছিল জিম্বাবুয়ের কাছে। ব্লেসিং মুজারাবানি হয়ে উঠেছিলেন বল হাতে মূর্তিমান অভিশাপ, নিয়েছিলেন ২ ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট। পাকিস্তানের পেস বোলিং আক্রমণটাকে ফিকে দেখিয়েছে মিরপুরে, যদিও মোহাম্মদ আব্বাস প্রথম ইনিংসে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। ইংলিশ কাউন্টিতে খেলার অভিজ্ঞতা আছে এই পেসারের। সঙ্গে শাহিন শাহ, হাসান আলিরা মিলে এই উইকেটে দিনের শুরুর সুবিধাটা নিলে বিপদটা বাড়তে পারে বাংলাদেশের।
উল্টোদিকে আশার কথা হচ্ছে এবাদত হোসেনের জায়গায় শরিফুল ইসলামের একাদশে ঢোকার সম্ভাবনাও জোরালো। তাসকিন, নাহিদ রানার সঙ্গে শরিফুল মিলে পাকিস্তানের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে শুরুতেই আউট করে দিতে পারলে বাংলাদেশ পেয়ে যেতে পারে দারুণ একটা শুরু। সম্ভাবনা আর আশঙ্কা দুইই আছে, কোনটা হবে সেটা বলে দেবে শনিবার সকালের মহাগুরুত্বপূর্ণ টস, যা হয়তো গড়ে দেবে ম্যাচের ভাগ্যই।




