বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
১৪০৪ দিন পর ফিরে মোসাদ্দেকের ৮৬*

ছবি: আগামীর সময়
দিনের হিসেবে ১৪০৪ দিন। ৫ আগস্ট ২০২২ সালের পর ৯ জুন ২০২৬ প্রায় ৪ বছরের ব্যবধানে ওয়ানডে দলে প্রত্যাবর্তন মোসাদ্দেক হোসেনের। সাবেক প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, দলে মেহেদি হাসান মিরাজ থাকলে সেখানে মোসাদ্দেক হোসেনের জায়গা নেই। ওয়ানডে অধিনায়ক মিরাজের দলেই ফিরলেন মোসাদ্দেক, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে করেছেন অপরাজিত ৮৬ রান। তানজিদ হাসান তামিমের ৫৪, নাজমুল হোসেন শান্ত'র ৬৭ রানের সঙ্গে মোসাদ্দেকের ৭০ বলে ৮৬ রানের ইনিংসে ভর করে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ৫০ ওভারে ২৮৫ রানের লক্ষ্য রেখেছে বাংলাদেশ। রান তাড়ায় ইনিংসের প্রথম বলেই তাসকিন আহমেদের বলে বোল্ড অজি ওপেনার ম্যাথু শর্ট।
টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক জশ ইংলিশ। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই সাইফ হাসান আউট হয়ে গেলেও দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদ হাসান তামিম (৫৪) ও নাজমুল হোসেন শান্ত'র (৬৭) দৃঢ়তায় বিপদে পড়েনি বাংলাদেশ। ৯১ বলে ৯৬ রানের জুটি গড়েন দুজনে মিলে। এরপর ম্যাট রেনশ খানিকটা বিপদে ফেলেছেন বাংলাদেশকে, ১৫ রানের ব্যবধানে নাজমুল ও লিটন দাসকে আউট করে।
সেখান থেকে ফের তাওহিদ হৃদয় আর মোসাদ্দেকের ব্যাট দিয়েছে ভরসা। ৯০ বলে ৭৫ রানের জুটি দুজনের। মোসাদ্দেককে রেখে হৃদয় আউট হয়ে গেলে (৩১) অধিনায়ক মিরাজ তাকে খুব একটা সঙ্গ দিতে পারেননি, আউট হয়ে যান ৩ রান করে। শেষদিকে বরং তাসকিন আহমেদের সঙ্গে জুটি জমে মোসাদ্দেকের। তাসকিনের ১৬ বলে ২০ রানেই বাংলাদেশের সংগ্রহটা আড়াইশ ছাড়ায়।
৪ বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরে মোসাদ্দেক খেলেছেন চমৎকার এক ইনিংস। যদিও কিছুটা ভাগ্যের ছোঁয়া ছিল, শেষবেলাতেও অ্যাডাম জাম্পা তার ক্যাচ ছাড়লেন গালিতে। কিছুটা ভাগ্যপ্রসূত রান এসেছে ব্যাটের কানায় লেগে। তবে ভাগ্য তো সাহসীদেরই সঙ্গী হয়! ৭০ বলে ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংস, ৭টা চার আর ৩ খানা ছক্কা মেরেছেন মোসাদ্দেক। গায়ের সঙ্গে লেপ্টে থাকা আবাহনী লেজেন্ড আর খালেদ মাহমুদ সুজনের শিষ্য, শুধুই ঘরোয়া ক্রিকেটে মানানসই-এসব তকমা ঝেড়ে ফেলার মত একটা ইনিংসই খেলেছেন মোসাদ্দেক। ম্যাচের জয়-পরাজয়ের নিষ্পত্তি এখনো বাকি, তবে বলে দেয়াই যায় যে পরের ম্যাচটা খেলতে অন্তত আবার ৪ বছর অপেক্ষা করতে হবে না তাকে।




