পাঁচ পেসার প্রস্তুত, একাদশে কতজন

পাঁচ পেসারের সঙ্গে বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের। ছবি: সংগৃহীত
ম্যাকাইয়ের উইকেট দেখে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর মনে হয়েছে, এখানে পেসারদের জন্য বাড়তি কিছু আছে। অনুশীলনের উইকেটে বাউন্সও ছিল একটু বেশি। স্কোয়াডে থাকা পাঁচ পেসারই প্রস্তুত।
যারা অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত পেস আক্রমণকে সঠিক জবাব দিতে জানে। এর প্রমাণরা গত টেস্টেই দিয়েছে বাংলাদেশ, ম্যাকাইতে দ্বিতীয় টেস্টে আরও একবার সেই জবাব দেওয়ার পালা। বাংলাদেশ পেসাররা যে পারবেন তার প্রমাণ পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে।
অভিজ্ঞতা, সাফল্য, অতীত সামর্থ্য যত কিছুই থাকুক না কেন, নির্দিষ্ট টেস্টে যারা ভালো করবে তারাই সফল। বাংলাদেশ পেসারদের সঙ্গে অজি পেসারদের এই সব দিকেই দুরত্বটা অনেক। তবুও ডারউইনে ভালো করে সফল হয়েছেন হাসান মাহমুদ-তাসকিন আহমেদরা।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত তাই দৃঢ় কন্ঠেই বললেন তার পেসাররা সবাই প্রস্তুত, ‘উইকেট ভালো মনে হয়েছে। আমরা যে উইকেটে অনুশীলন করেছি, এখানে অবশ্যই একটু বাউন্স বেশি ছিল। আমাদের পাঁচজন পেসার স্কোয়াডে আছে, সবাই প্রস্তুত।’
তবে চার পেসার খেলানো মানেই যে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ শক্তিশালী হবে, আর তিন পেসারে নামলে তা দুর্বল হয়ে যাবে—বিষয়টা এত সরল নয়। প্রথম টেস্টই তার বড় প্রমাণ। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সম্মিলিত টেস্ট উইকেট ছিল ১ হাজার ৭০৯টি, বাংলাদেশের বোলারদের ৬৩৪টি। ব্যবধান ১ হাজার ৭৫ উইকেট। অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের বিচারে তাই অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণ ছিল অনেক এগিয়ে।
২০২০ এর পর অস্ট্রেলিয়ার বিশাল উইকেট পার্থক্যে টেস্ট হারের নজির বাংলাদেশের ম্যাচের আগে ছিল দুইটি। সবচেয়ে বেশি ছিল ভারতের সঙ্গে। ২০২৪ পার্থ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ক্যারিয়ার উইকেট সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫২২টি। অন্যদিকে ভারতের মাত্র ২৭৫টি। ১ হাজার ২৪৭টি উইকেট পার্থক্য নিয়েও ম্যাচ হারে অস্ট্রেলিয়া। আবার একই বছর ব্রিসবেনে উইন্ডিজের সঙ্গে ১ হাজার ১১১ উইকেটের পার্থক্য নিয়েও ম্যাচ হেরেছে তারা। ওই টেস্টে অজি বোলারদের ১ হাজার ৫০১টি ক্যারিয়ার উইকেটের বিপরীতে উইন্ডিজ বোলারদের মিলিত উইকেট সংখ্যা ছিল ৩৯০টি।
তাহলে দ্বিতীয় টেস্টে কি চার পেসার নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ? প্রশ্নটা উঠছে মূলত উইকেটের চরিত্র আর ম্যাকাইয়ের বাতাসের কারণে।
চার পেসার খেলালে স্বাভাবিকভাবেই একাদশ থেকে একজন স্পিনারকে বাদ দিতে হবে। বাংলাদেশ অবশ্য দুই স্পিনার নিয়েই প্রথম টেস্ট খেলেছে। শান্তও জানেন, সিদ্ধান্তটা সহজ নয়। তাই উইকেটকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে রাখতে চান তিনি।
তবে চার পেসারের সম্ভাবনা থাকলেও স্পিনকে একেবারে বাইরে রাখছেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক। তাই টসের আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চায় বাংলাদেশ।
‘পজিটিভ দিক হলো, আমাদের দুইজন স্পিনার আছে, যারা যেকোনো কন্ডিশনে ভালো বল করে। যেহেতু আরও একটু সময় আছে, সকালে এসে আরেকবার উইকেট দেখে দলের জন্য যে সিদ্ধান্তটা ভালো হবে, সেটাই নেব ইনশাআল্লাহ,’ বলেছেন শান্ত।
ম্যাকাইয়ের আরেকটি বিষয় পেসারদের জন্য বাড়তি সুবিধা হয়ে উঠতে পারে—বাতাস। অস্ট্রেলিয়ার এই মাঠে বাতাসের গতি ও দিক কাজে লাগাতে পারলে নতুন বলে সুইং আদায় করার সুযোগ থাকবে। হাসান মাহমুদ, ইবাদত হোসেনদের জন্য সেটি হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র।
শান্তর ভাষায়, ‘বাতাসের কারণে বোলাররা একটু সাহায্য পাবেই। সুইং হয়তো একটু বাড়তি পেতে পারে। বাতাসটা যদি বোলাররা ব্যবহার করতে পারে, অবশ্যই বোলারদের জন্য একটা বাড়তি সুবিধা থাকবে।’
অস্ট্রেলিয়া অবশ্য একাদশে চার পেসারের পথে হাঁটেনি। দ্বিতীয় টেস্টের জন্য আগের বোলিং আক্রমণই রেখেছে তারা, স্কট বোল্যান্ডকে বাইরে রেখেছে। এর অর্থ, স্বাগতিকেরা হয়তো ধরে নিচ্ছে—ম্যাকাইয়ের উইকেট টেস্টের তৃতীয়-চতুর্থ দিনে স্পিনারদেরও কাজে আসতে পারে। সেই জায়গা থেকেই বাংলাদেশের একাদশ নিয়ে কৌতূহল আরও বাড়ছে। দুই স্পিনার রেখে তিন পেসার, নাকি একজন স্পিনার কমিয়ে চার পেসার—উত্তর মিলবে টসের আগে।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার মতো ম্যাচের এক দিন আগে একাদশ ঘোষণার চল নেই। তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।
কিন্তু মাঠে শেষ কথা বলে নির্দিষ্ট দিনের পারফরম্যান্স। অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে থেকেও বাংলাদেশের বোলাররা প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংকে চাপে ফেলেছেন, ম্যাচ জিতিয়েছেন দলকে। অর্থাৎ বোলারের ক্যারিয়ার উইকেট নয়, ওই নির্দিষ্ট দিনে কে কতটা কার্যকর—সেটিই আসল।






