রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

সংগৃহীত ছবি
ঈদুল ফিতরের আগে দেশবাসীকে দারুণ এক উপহার দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজরা। নাটকীয় আর রোমাঞ্চেভরা ম্যাচে তারা পাকিস্তানকে হারালেন ১১ রানে। ‘ফাইনালে’ পারিণত হওয়া শেষ ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে নিশ্চিত করল সিরিজও।
পাকিস্তান মানেই ‘অনুনেময়’। জেতা ম্যাচ তারা হেরে যায় অবিশ্বাস্যভাবে। আবার মুঠো গলে ফস্কে যাওয়া ম্যাচেও ফিরে আসতে জানে দুর্দান্ত প্রতাপে। আজ মিরপুরে শেষ ওয়ানডেও এর ব্যতিক্রম হল না।
প্রায় হারা ম্যাচ রোমাঞ্চ ছড়িয়ে জয়ের দুয়ারে চলে গিয়েছিল পাকিস্তান। সেঞ্চুরির পর জয়ের সুবাস পাইয়ে দিয়েছিলেন সালমান আলী আগা। কিন্তু তাসকিন আহমেদ তাকে ফেরানোর পর ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ।
স্নায়ুর চাপ ধরে রেখে পাকিস্তানকে হারাল ১১ রানে। বাংলাদেশের ২৯০ রানের জবাবে পাকিস্তান অলআউট হয় ২৭৯-তে। এই জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করল বাংলাদেশ। তাতে র্যাঙ্কিংয়ে ১০ থেকে ৯ নম্বরে উঠে এসে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার পথে ভালোভাবে ফিরে এল তারা।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। শেষ দিকে সালমান আলি আগার লড়াইয়ের পরও জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।
এদিন রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের। বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার দাপুটে বোলিংয়ে মাত্র ১৭ রানেই তিন উইকেট হারায় সফরকারীরা।
ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাহিবজাদা ফারহানকে ৬ রানে ফেরান তাসকিন। পরের ওভারে নাহিদ রানা আউট করেন মাজ সাদাকাতকে ৬ রানে। নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ৪ রানে ফিরিয়ে দেন তাসকিন।
চাপে পড়া পাকিস্তানকে টানার চেষ্টা করেন গাজি ঘুরি ও আব্দুল সামাদ। তবে বড় জুটি গড়া হয়নি তাদের। ঘুরি ৩৯ বলে ২৯ এবং সামাদ ৪৫ বলে ৩৪ রান করে আউট হন।
একশ রানের আগেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে পাকিস্তান। বিপদের সময় দলের হাল ধরেন সালমান আলি আগা। তাকে সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছিলেন সাদ মাসুদ। অভিষিক্ত এই ব্যাটার দারুণ শুরু পেয়েছিলেন।
তবে ৩৮ রানে তাকে থামিয়েছেন মুস্তাফিজ। দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড করেন এই বাঁহাতি পেসার। তাতেই ৭৯ রানে থামে সালমান-মাসুদ।
ক্রিজে নেমে দেখে-শুনেই খেলছিলেন ফাহিম আশরাফ। সালমানের সঙ্গে আরেকটি জুটি গড়ার প্রয়াস চালান তিনি। কিন্তু সেই সুযোগ দেননি তাসকিন আহমেদ। বাঁহাতি এই ব্যাটারকে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান তিনি। আউট হওয়ার আগে ৯ রান করেন ফাহিম।
বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার তাসকিন আহমেদ। একাই চারটি উইকেট নেন তিনি।
এর আগে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি। ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৯০/৫ (তানজিদ ১০৭, হৃদয় ৪৮*, লিটন ৪১, সাইফ ৩৬ ; রউফ ৩/৫২, আবরার ১৪৯)। পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ২৭৯ (সালমান ১০৬, মাসুদ ৩৮, আফ্রিদি ৩৭ ; তাসকিন ৪/৪৯, মোস্তাফিজ ৩/৫৪)। ফল: বাংলাদেশ ১১ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা : তানজিদ হাসান। সিরিজসেরা : তানজিদ হাসান ও নাহিদ রানা।

