Agamir Somoy E-Paper
শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের স্বপ্নের ফেরিওয়ালা সামাদ
শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় বিশেষ লেখা

দুঃস্বপ্নের শহরে

শিবব্রত বর্মন
শিবব্রত বর্মন
agamir somoy
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৪৭
দুঃস্বপ্নের শহরে

ঢাকা অনেক জনবহুল শহর বটে। কিন্তু কতোটা জনবহুল? গত বছর জাতিসংঘের এক গবেষণা প্রতিবেদন জানিয়েছে, আমাদের এই প্রিয় রাজধানী এখন বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল শহর। এক নাম্বারে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা।

জনসংখ্যা কত ঢাকার? জাতিসংঘের ‘ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্টস’ নামক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ শহরে এখন ৩ কোটি ৬০ লাখ লোকের বসবাস। অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের সময় গোটা দেশের যা জনসংখ্যা ছিল, তার অর্ধেকের বেশি এখন এ শহরে বসবাস করে। অনেকের সন্দেহ, ঢাকার সত্যিকার জনসংখ্যা হয়ত আরো বেশি।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকার জনসংখ্যা ছিল ১০ থেকে ১৫ লাখের মতো। এখন প্রতি বছর ৫ লাখ লোক নতুন করে ঢাকায় ঢুকছে। কল্পনা করুন, প্রতি বছর ৫ লাখ। দেশের অনেক জেলা শহরের জনসংখ্যা ৫ লাখের মতো হবে। মানে প্রতি বছর একটা করে মানিকগঞ্জ বা কুড়িগ্রাম বা নাটোর ঢুকে যাচ্ছে ঢাকার ভিতরে। ভয়াবহ চিত্র। আপনি যদি শহর ঢাকাকে একটা দৈত্য বা অজগর সাপের সঙ্গে তুলনা করেন, তাহলে এই অজগর গ্রাস করে ফেলছে দেশের প্রায় পুরো জনসংখ্যা। একটা সময় কি এমন হওয়া সম্ভব যে দেশের সবাই ঢাকায় থাকছে?

জাতিসংঘের ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৫০ সাল নাগাদ ঢাকা দুনিয়ার এক নম্বর জনবহুল শহরে পরিণত হবে। তখন এর জনসংখ্যা হবে ৫ কোটি ২০ লাখ। মানে পুরো দেশের চার ভাগের এক ভাগ লোক ঢাকাবাসী।

এই বিপুল সংখ্যক মানুষের চাপ ঢাকা কী করে সহ্য করবে? কীভাবে নগর পরিকল্পনা করবেন বিশেষজ্ঞরা?

আমরা এখনই যে এক ‘আনম্যানেজেবল’ শহরে বসবাস করছি, সেটা আমরা হাড়ে হাড়ে বুঝি, প্রতিনিয়ত। যানজট দূর করার কোনো পরিকল্পনাই এখানে বাস্তবায়ন করা যায় না। যে কোনো উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়ে। স্বয়ংক্রীয় সিগনাল ব্যবস্থা মাসখানেকের বেশি টেকে না। আমি মেট্রো রেলে চলাচল করি। দিব্যি বুঝতে পারি, আর কিছু দিনের মধ্যে মেট্রো রেল ব্যবহারযোগ্য থাকবে না। ভিড়ের চোটে চিড়ে চ্যাপ্টা হয়ে এখনই আলুর দম হতে হচ্ছে যাত্রীদের। কিছু দিন পর যে অবস্থা দাঁড়াবে, সেটা নেওয়ার সামর্থ্য সকলের থাকবে না।

ঢাকা চিরকালই ভিড়ের শহর ছিল। ১৬৩০ সালে মোঘল ঢাকার লোকসংখ্যা ছিল ২ লাখ। তখন পুরো ইউরোপে ২ লাখের ওপরে লোকসংখ্যার শহর ছিল লন্ডনসহ মাত্র তিনটি। সে হিসেবে সেই সময়কালেই ঢাকা আকারে-প্রকারে ইউরোপের সবচেয়ে বড় শহরগুলোর সমান ছিল। তখন দিল্লিতে ছিল ৫ লাখ লোকের বসবাস।

১৯৯০ এর দশকের শুরুতে একটা ছোট মফস্বল শহর থেকে যখন এই শহরে পা রেখেছিলাম, কলেজে পড়তে, তখন ঢাকা শহরটা এরকম ছিল না। তখনও পান্থপথ চালু হয়নি। পুরো শহর জুড়ে দুটামাত্র ফুটওভার ব্রিজ – ফার্মগেটে আর নিউমার্কেটে। তখনও শাহবাগ মোড়ে একটা গোল ফোয়ারা ছিল। আর মানিকমিয়া এভিনিউতে কোনো ডিভাইডার ছিল না। আমরা সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বসে বসে বাদাম খেতে পারতাম। ছয় নম্বর বাস চলত শহরের দীর্ঘতম রুটে। আর রিকশায় চেপে সারা শহর ঘোরা যেত। পুরো সাত মসজিদ রোডে একটা মাত্র খাবারের দোকান ছিল – লা বামবা। পরিসংখ্যান বলছে তখন ঢাকা শহরের জনসংখ্যা ছিল ৬১ লাখ।

আমি এ যাবৎ পৃথিবীর যতগুলো শহর ঘুরেছি, তার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর লেগেছে তাসখন্দ শহর। মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তানের এ রাজধানী শহরে ছায়াঢাকা পথ আর একটার পর একটা নয়নাভিরাম বাগ-বাগিচা দেখে আফসোস হয়েছিল খুব। মনে হয়েছিল, আমাদের ঢাকা শহর তো এরকমই হওয়ার কথা ছিল। বাগান আর খালবিলের শহর হতে পারত ঢাকা।

আমরা এটা কী শহর বানালাম!

এই শহরেই আমরা বুড়ো হব। আমাদের চলৎশক্তি কমে যাবে। এর পাবলিক ট্রান্সপোর্টে আমরা আর উঠতে পারব না। এর ভাঙ্গা ফুটপাথে হকার ঠেলে হাঁটা আমাদের জন্যে দুঃসাধ্য হয়ে যাবে। সবচেয়ে বড় শঙ্কা: বুড়োদের প্রতি নির্বিকার ও অসহিষ্ণু এক শহরে আমাদের চলতে-ফিরতে হবে। এখনই মেট্রো ট্রেনে যেভাবে তরুণ বয়সীদের নির্বিকার বসে থাকতে দেখি, অশক্ত ব্যক্তিদের পিছনে ফেলে যুবকদের দৌড়ে লিফটে উঠতে দেখি, আমি আশা করি না আগামীতে এর কোনো হেরফের হবে। আমাদের স্কুলগুলোয় নাগরিক সদাচার শেখানো হয় না। পরিবারেও আমরা সেই শিক্ষা দেই না।

২০৫০ সালে আমার বয়স সত্তর ছাড়িয়ে যাবে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহরে বসবাস বুড়ো বয়সে কোনো গর্বের বিষয় হবে না। ৫ কোটি মানুষের শহরে বসবাসের দুঃস্বপ্ন আমাকে এখনই তাড়া করে।

    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise