তরুণ ভোট টানতে ডিজিটাল দৌড়, শেষ সময়ে স্মার্টফোনেই প্রচার

সংগৃহীত ছবি
শেষ মুহূর্তে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রার্থীরা সরাসরি হাজির হচ্ছেন ভোটারের স্মার্টফোনে। দেশের প্রায় চার কোটি তরুণ ভোটারকে নিজেদের পক্ষে নিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) জানায়, দেশে বর্তমানে ইন্টারনেট গ্রাহক প্রায় ১৩ কোটি। এর মধ্যে অন্তত ছয় কোটি ৫০ লাখ মানুষ ফেসবুক এবং প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ ইউটিউব ব্যবহার করেন। পাশাপাশি বড় একটি অংশ সক্রিয় ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বলছে, দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী ১৩ কোটি ৬৯ লাখ। তবে বিটিআরসির হিসাবে এই সংখ্যা ১৮ কোটি ৭০ লাখ। বিপুল এই জনগোষ্ঠীর কাছে দ্রুত পৌঁছাতে শেষ সময়ে ডিজিটাল মাধ্যমকেই সবচেয়ে কার্যকর মনে করছেন প্রার্থীরা।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বর্তমানে প্রায় ৫৮ লাখ অনুসারী রয়েছে। দেশের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে এটি অন্যতম বড় ডিজিটাল উপস্থিতি। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড পেজে অনুসারী ২৯ লাখ।
নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আলোচনায় থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাহিদ ইসলামের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রায় ১৩ লাখ অনুসারী রয়েছে। তাঁর আরেকটি ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে অনুসারী প্রায় ১৫ লাখ। ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী তাসনিম জারার ভেরিফায়েড পেজের অনুসারী ৭৩ লাখ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারী সংখ্যা সরাসরি ভোটের ফল নির্ধারণ করে না। তবে ডিজিটাল যুগে জনমত গঠন, রাজনৈতিক বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া এবং বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের সক্ষমতা বোঝাতে এই উপস্থিতির গুরুত্ব বাড়ছে।
ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ফলোয়ার এখন রাজনৈতিক মূলধন। একজন নেতার ভার্চুয়াল পৌঁছ যত বড়, তাঁর বার্তা তত দ্রুত এবং বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়ে। প্রচার বন্ধের সময়ে এটিই সবচেয়ে সক্রিয় প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠে। তবে অনুসারী ও ইন্টার্যাকশনের পেছনে অর্গানিক সক্রিয়তা কতটা, আর পেইড প্রোমোশন বা বটের ভূমিকা কতটা, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।

