আগামীর সময়

জুমার দিনের যে সময়ে দোয়া কবুল হয়

  • জুমার দিনে দোয়া কবুলের লুকানো সময়
  • জুমার দিনে কখন খুলে যায় কবুলের দরজা
জুমার দিনের যে সময়ে দোয়া কবুল হয়

সংগৃহীত ছবি

জুমা বা শুক্রবার সপ্তাহের সেরা দিন। এ দিনটি শুধু মসজিদে গিয়ে জামায়াতের সহিত নামাজ আদায়ের জন্যই সেরা নয়; বরং দিনটি রহমত, মাগফিরাত ও দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ সুযোগে ভরপুর হওয়াও এর সেরা হওয়ার কারণ। ব্যস্ত জীবনের ভিড়ে আমরা অনেক সময় এ দিনের বিশেষ আমলগুলোকে অবহেলা করি। অথচ রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের জুমার দিনের এমন একটি মুহূর্তের কথা জানিয়েছেন, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা-ই চায়, তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (স.) জুমার দিন সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং বলেন, ‘এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যে কোন মুসলিম বান্দা যদি এ সময় সালাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহর নিকট কিছু প্রার্থনা করে, তবে তিনি তাকে অবশ্যই তা দিয়ে থাকেন এবং তিনি হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে বুঝিয়ে দিলেন যে, সে মুহূর্তটি খুবই সংক্ষিপ্ত।’ (বুখারি, হাদিস: ৯৩৫)

যদিও এই সময়টি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি, তবে সাহাবায়ে কেরাম ও আলেমদের গবেষণায় দুইটি সময়কে অধিক গ্রহণযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এক. এই সময়টি ইমাম খুতবার জন্য মিম্বরে ওঠা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত। আবূ মূসা আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি তোমার পিতাকে রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে জুমার দিনের বিশেষ মুহুর্তটি সম্পর্কে হাদিস বর্ণনা করতে শুনেছ? বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ। আমি পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ইমামের বসা থেকে সালাত শেষ করার মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে সে মুহুর্তটি নিহিত।’ (মুসলিম, হাদিস: ৮৫৩)

দুই. এই দ্বিতীয় মতটি অধিক শক্তিশালী ও অধিকাংশ আলেমের কাছে প্রাধান্যপ্রাপ্ত। সেটি হলো; আসর নামাজের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত শেষ সময়। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বলেন:  আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জুমার দিনের ওই সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: ‘এটি আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮; তিরমিজি, হাদিস: ৪৮৯)

এই বর্ণনাগুলো থেকে স্পষ্ট হয়, জুমার দিনের শেষ ভাগে বিশেষভাবে দোয়ায় মনোযোগী হওয়া উচিত। আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টুকু দোয়া, ইস্তিগফার, দরুদ শরিফ এবং আল্লাহর কাছে একান্তভাবে চাওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযোগী।

সুতরাং জুমার এই বরকতময় সময়ে দোয়ার প্রতি যত্নশীল হওয়া একজন মুমিনের জন্য বিশেষ সুযোগ। এটি শুধু চাওয়ার সময় নয়, বরং নিজের গুনাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা, অন্তরের পরিশুদ্ধি এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গভীর করার একটি অনন্য মুহূর্ত।

জুমার দিনে দোয়া কবুল হওয়ার এই বিশেষ সময় আমাদের জন্য এক অমূল্য নেয়ামত। সচেতনভাবে এ সময়টুকু কাজে লাগাতে পারলে জীবনের বহু অপূর্ণতা পূর্ণ হতে পারে।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই বরকতময় সময়ের যথাযথ কদর করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক

saifpas352@gmail.com

 

    শেয়ার করুন: