Agamir Somoy E-Paper
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহে ছোটেন আইয়ুব
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় ইসলাম

আন্তর্জাতিক নারী দিবস

ইসলামের ইতিহাসে আলোকিত নারীর পদচিহ্ন

শাব্বির আহমদ
agamir somoy
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, ২০:৪৮
ইসলামের ইতিহাসে আলোকিত নারীর পদচিহ্ন

ছবি: এআই নির্মিত

মানবসভ্যতার ইতিহাসে নারীকে ঘিরে নানা অবিচার ও বৈষম্যের ঘটনা পাওয়া যায়। কিন্তু ইসলাম আবির্ভূত হওয়ার পর নারীর মর্যাদা, অধিকার ও সামাজিক ভূমিকা এক নতুন মাত্রা লাভ করে। ইসলাম নারীর সম্মানকে কেবল পারিবারিক পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং জ্ঞান, দাওয়াত, সমাজসেবা এবং সাহসিকতার ক্ষেত্রেও তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে অসংখ্য নারী এমনভাবে আলো ছড়িয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে মুসলিম নারী শুধু সমাজের অংশ নন, বরং সভ্যতা নির্মাণেরও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।

ইসলামের ইতিহাসে প্রথম উজ্জ্বল নাম উম্মুল মুমিনীন খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (রা.)। তিনি ছিলেন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রথম স্ত্রী এবং ইসলামের প্রথম ইমান আনয়নকারী নারী। নবুয়তের সূচনালগ্নে যখন সমাজের বিরোধিতা তীব্র হয়ে ওঠে, তখন খাদিজা (রা.) তার অটল সমর্থন, প্রজ্ঞা ও সম্পদ দিয়ে ইসলামের দাওয়াতকে শক্ত ভিত্তি প্রদান করেন। পবিত্র কোরআনে মহানআল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে চাদর আবৃত ব্যক্তি, উঠুন এবং সতর্ক করুন।’ (সূরা মুদ্দাসসির, আয়াত: ১–২)

এই কঠিন দায়িত্ব পালনের শুরুতে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশে যে মানুষটি সবচেয়ে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি ছিলেন খাদিজা (রা.)। তার এই অবদান ইসলামের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

ইসলামের ইতিহাসে আরেক উজ্জ্বল নাম সায়্যিদা আয়েশা সিদ্দিকা (রা.)। তিনি ছিলেন জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও শিক্ষার এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। সাহাবিদের মধ্যে বহু মানুষ তার কাছ থেকে হাদিস ও ইসলামী জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি দুই হাজারের বেশি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যা সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিমসহ বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থে সংরক্ষিত আছে। ইমাম যাহাবি (রহ.) উল্লেখ করেন, ফিকহ ও জ্ঞানের ক্ষেত্রে আয়েশা (রা.) ছিলেন সাহাবিদের অন্যতম শীর্ষ আলেমা। (সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা)

ইসলামের ইতিহাসে সাহসিকতার এক অনন্য উদাহরণ হলেন নুসাইবা বিনতে কা‘ব (রা.), যিনি উম্মে আম্মারা নামে পরিচিত। উহুদের যুদ্ধে যখন পরিস্থিতি সংকটময় হয়ে উঠেছিল, তখন তিনি হাতে অস্ত্র তুলে নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রক্ষা করার জন্য লড়াই করেছিলেন। ইতিহাসে উল্লেখ আছে যে তিনি সেই যুদ্ধে একাধিক আঘাত পেয়েছিলেন। (ইবনে হিশাম, আস-সিরাহ)

নারীদের অবদান শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তারা শিক্ষা ও সমাজসেবার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় শিফা বিনতে আবদুল্লাহ (রা.)-এর কথা। তিনি ছিলেন শিক্ষিত ও প্রাজ্ঞ নারী। খলীফা উমর (রা.) তাকে বাজার তদারকির দায়িত্ব দিয়েছিলেন, যা প্রমাণ করে যে মুসলিম সমাজে নারীর দক্ষতা ও যোগ্যতার স্বীকৃতি ছিল। (আল-ইসাবাহ লি ইবন হাজার আসকালানী, ৮/২০১)

এছাড়া ইসলামের ইতিহাসে অসংখ্য নারী হাদিস শিক্ষা ও বর্ণনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিখ্যাত হাদিসবিশারদ ইমাম যাহাবি (রহ.) উল্লেখ করেছেন যে মুসলিম ইতিহাসে বহু নারী হাদিস শিক্ষাদানে খ্যাতি অর্জন করেছেন এবং তাদের মধ্যে অনেকের কাছ থেকে বিশিষ্ট আলেমরাও জ্ঞান অর্জন করেছেন। (সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা)

ইসলাম নারীকে জ্ঞান অর্জনের ব্যাপারে উৎসাহিত করেছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

‘জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ ২২৪) মুহাদ্দিসগণ ব্যাখ্যা করেছেন যে এখানে মুসলিম বলতে নারী-পুরুষ উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। তাই ইসলামের ইতিহাসে আমরা দেখতে পাই, বহু নারী শিক্ষা, ফিকহ ও হাদিসচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

বর্তমান যুগে যখন নারীকে ঘিরে নানা আলোচনা চলছে, তখন ইসলামের ইতিহাসের এই উজ্জ্বল উদাহরণগুলো আমাদের সামনে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পথ তুলে ধরে। ইসলাম নারীকে মর্যাদা, দায়িত্ব ও সম্ভাবনার এমন একটি ক্ষেত্র দিয়েছে, যেখানে তিনি পরিবার, শিক্ষা ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রেক্ষাপটে মুসলিম সমাজের জন্য প্রয়োজন এই ইতিহাসকে নতুন করে স্মরণ করা। কারণ এই ইতিহাস আমাদের শেখায় যে মুসলিম নারী কখনোই নিস্তব্ধ বা নিষ্ক্রিয় ছিলেন না; বরং তিনি জ্ঞান, সাহস ও নৈতিকতার আলো দিয়ে সমাজকে পথ দেখিয়েছেন।

ইসলামের ইতিহাসে এই আলোকিত নারীদের পদচিহ্ন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—যখন নারী তার ঈমান, জ্ঞান ও দায়িত্ববোধকে ধারণ করেন, তখন তিনি শুধু একটি পরিবার নয়, বরং পুরো সমাজকে আলোকিত করতে পারেন।

লেখক: শিক্ষার্থী, এন. আকন্দ কামিল মাদরাসা, নেত্রকোনা

ইসলামনারী দিবস
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise