গণভোটের ম্যান্ডেট অস্বীকার রাজনৈতিক প্রতারণা : জেএসডি

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। ছবি: সংগৃহীত
সংবিধান সংস্কার পরিষদের পরিবর্তে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করে বিএনপি সরকার তাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। তাদের ভাষ্য, গণভোটের ম্যান্ডেট অস্বীকার করা রাজনৈতিক প্রতারণার শামিল।
বুধবার (১৫ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা বলেছেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন। জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের প্রেক্ষিতে গণমাধ্যমে এই বিবৃতি দিয়েছে দলটি।
জেএসডি বলছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক পটভূমি, জনগণের সার্বভৌম আকাঙ্ক্ষা এবং জাতীয় সনদ ও গণভোটে প্রকাশিত গণরায়ের আলোকে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এখন সময়ের দাবি।
দলটির দাবি, জনগণ শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য আত্মদান করেনি, বৈষম্য দূরীকরণ, রাষ্ট্র পরিচালনার বিদ্যমান কাঠামোর পরিবর্তন, ক্ষমতার ভারসাম্য, জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন কাঠামো তথা অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে তারা। দুঃখজনকভাবে, বর্তমান সরকার সেই গণআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পরিবর্তে জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করে অগ্রসর হচ্ছে তথাকথিত সংশোধনের পথে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অথচ জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণভোটে সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক পুনর্গঠনের পক্ষে সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছে জনগণ। নামসর্বস্ব সংশোধন সেই ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের বিকল্প হতে পারে না।’
জেএসডি আরও বলছে, সংবিধান কোনো সরকার বা সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার দলিল নয়; এটি জনগণের সার্বভৌম সম্মতির দলিল। ফলে জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট উপেক্ষা করে গতানুগতিক সংশোধনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ভিত্তি নির্ধারণের চেষ্টা জনগণের সার্বভৌম সিদ্ধান্তকেই অস্বীকার করা। সরকার নির্বাচনপূর্ব রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কারের যে অঙ্গীকার করেছিল, বর্তমান উদ্যোগ তার সম্পূর্ণ বিপরীত। এটি শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ নয়; জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতারণা।
অবিলম্বে গণভোটে অনুমোদিত ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিনিধিত্বশীল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সাংবিধানিক কাঠামো প্রণয়ন করে অধিকতর সংস্কারের ভিত্তি স্থাপনের দাবি জানাচ্ছে দলটি।
তাদের ভাষ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার প্রত্যক্ষ প্রকাশ। সেই গণরায় উপেক্ষা করে সরকার যদি গণভোটে অনুমোদিত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের উদ্যোগ গ্রহণের পরিবর্তে গতানুগতিক সংবিধান সংশোধনের পথেই অগ্রসর হয়, তবে ভবিষ্যতে উদ্ভূত সব রাজনৈতিক, সাংবিধানিক ও আইনি সংকটের দায়ভার বহন করতে হবে বর্তমান সরকারকেই।




