সবুজ প্যানেলের পরিচিতি সভায় জামায়াতসহ ১১-দলীয় জোটের হুঁশিয়ারি

জামায়াতসহ ১১-দলীয় জোটের নেতারা
ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সবুজ প্যানেলের পরিচিতি সভা। জামায়াতসহ ১১-দলীয় জোটের এই প্রার্থীদের বিজয়ী করতে দেওয়া হয়েছে হুঁশিয়ারি। আজ মঙ্গলবার পুরান ঢাকার একটি রেস্টুরেন্টে এই আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত অতিথিদের ভাষ্য, আগামী ২৯ ও ৩০ এপ্রিল ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। নির্বাচনের ফল নিয়ে ঘরে ফিরে যাব। তাতে যা করার দরকার হয়, তাতে আমরা প্রস্তুত। আমাদের রক্তাক্ত করে বিজয় ছিনিয়ে নিতে পারবে না। আমরা আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পাহারা দেব এই নির্বাচনেও।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সরকার দুই মাসের মধ্যে জনগণকে রাজপথে আসতে বাধ্য করেছে। যে ইস্যু সংসদে সমাধান হওয়া উচিত, সেটিকে রাজপথে আনা উচিত নয়। ফলাফলে কারচুপি করে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন, এটা আপনারাও জানেন, জনগণও জানে। গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করবেন না।
পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, আমরা জুলাই শহীদের মাকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করিয়ে জুলাইকে সংসদে নিয়ে যাচ্ছি। আর একটি দল এমন ব্যক্তিকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করাচ্ছে, যে এর আগে ফ্যাসিস্টদের প্রতিনিধিত্ব করেছে। গণভোট ইস্যুতে তিনি জানান, তারা (বিএনপি) ৭০ শতাংশ জনগণের রায় গণভোটকে বাতিল করে টানেল ও বাংকার নির্মাণ করে প্রমাণ করছে, জনগণের আস্থার জায়গায় যেতে পারবে না তারা। দুই মাসে লক্ষ করেছি, সরকার পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে দলীয়করণ করছে এবং স্থানান্তর করছে নব্য ফ্যাসিবাদকে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, জুলাইয়ের পর অতীতে কখনো কল্পনা করা যায়নি এই বাংলাদেশ। যে স্বপ্ন নিয়ে জুলাই হয়েছিল, সেটি নিছক ক্ষমতার পালাবদল বা নির্বাচনের জন্য ছিল না। বাংলাদেশকে আমূল বদলে দেওয়ার জন্যই হয়েছিল জুলাই। আমরা এমন একটি বিচারব্যবস্থা চাই, যেখানে এক্সিকিউটিভের কাছে মাথা নত করবেন না বিচারকরা।
তার ভাষ্য, আমরা পরিবর্তিত বিচারব্যবস্থা দেখতে চাই। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও আদেশ দিতে দ্বিধাবোধ করবেন না খোদ ম্যাজিস্ট্রেটও। এমন বিচারালয় না হলে আমাদের স্বাধীন বিচারব্যবস্থার স্বপ্ন ব্যর্থ হবে। আমরা ইঙ্গিতনির্ভর সুপ্রিম কোর্ট দেখতে চাই না। আমরা এমন বিচারাঙ্গন চাই, যেখানে বিচার পাবে সবচেয়ে তুচ্ছ মানুষটিও।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনিরের ভাষ্য, বিচারব্যবস্থা স্বাধীন না হলে সীমা থাকবে না সমাজের মানুষের ভোগান্তির। আগে বিচার বিভাগীয় সচিবালয় ছিল। এই সরকার তাদের জুলাই সনদে কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ না থাকলেও তা বাতিল করেছে। আমরা রিট করেছি। আজ তিনটি আপিল ফাইল হয়েছে। আমরা এই সচিবালয়ের স্থিতাবস্থা চেয়েছি। আমরা বিজয়ী না হলে আগামী পাঁচ বছরে ন্যায়বিচার বলে থাকবে না কিছু।
জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বক্তব্যে বলেছেন, জনগণ জিম্মি দশা ও ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে মুক্তি চায়। তারা চায় তাদের ভোট রক্ষা হোক। জাতীয় নির্বাচনে অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতা বা যেকোনো কারণে আমরা ভোট রক্ষা করতে পারিনি। উপনির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। কারচুপি হলে ভোট হবে না। কিন্তু ভোটকেন্দ্র ছাড়া যাবে না। আমরা প্রয়োজনে আপনাদের পাশে এসে দাঁড়াব, আপনাদের সাহস দেব, কিন্তু ভোট বর্জন করা যাবে না।
এ অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ল'ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম, ঢাকা বার ইউনিটের সভাপতি আব্দুর রহমান মুসাসহ জামায়াত ও এনসিপির নেতারা।

