রুহিন হোসেন প্রিন্স
দেশ আজ উগ্র দক্ষিণপন্থার কবলে

সমাবেশে বক্তব্য দেন রুহিন হোসেন প্রিন্স
দেশ আজ উগ্র দক্ষিণপন্থার কবলে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।
তিনি বলেছেন, ‘সাম্প্রদায়িক ও আধিপত্যবাদী শক্তি নানাভাবে সমাজে প্রভাব বিস্তার করছে। মানুষের প্রকৃত সংকট আড়াল করা হচ্ছে এবং তরুণদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নীতিনিষ্ঠ বাম গণতান্ত্রিক শক্তিকে নিজেদের আন্দোলন আরও জোরদার করার আহ্বান জানাই।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সাবেক সদস্য রতন সেন হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত ও পুনর্বিচারের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেছেন তিনি। রতন সেনের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
কমরেড রতন সেন ব্রিগেডের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেছেন, ১৯৯২ সালের ৩১ জুলাই খুলনা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে কমরেড রতন সেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এ হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত বিচার হয়নি। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি আরও অপরাধ সংঘটনে অপশক্তিকে উৎসাহিত করছে।
তিনি জানান, মামলার তদন্ত শেষে বিচারিক প্রক্রিয়ায় কয়েকজন আসামির সাজা হলেও উচ্চ আদালতে তারা খালাস পান। রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। এতে প্রকৃত হত্যাকারী ও নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের বিচারের আওতায় আনার সুযোগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
রুহিন হোসেন প্রিন্স বললেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং স্বাধীন বাংলাদেশে শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের আন্দোলনে রতন সেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম এগিয়ে নিতে হবে।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে কার্তিক চক্রবর্তী বলেছেন, ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে নয়, শোষিত মানুষের পক্ষে আপসহীন অবস্থান নেওয়ার কারণেই রতন সেনকে হত্যা করা হয়েছিল। কৃষকের জমি রক্ষা, বিল ডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতাবিরোধী আন্দোলন এবং শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এ কারণেই তিনি শোষকগোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন।
সমাবেশ থেকে তিনটি দাবি জানানো হয়। এক. রতন সেন হত্যা মামলার আপিল দ্রুত নিষ্পত্তি; দুই. প্রয়োজন হলে পুনঃতদন্ত বা বিচার বিভাগীয় তদন্ত; এবং তিন. খুলনায় তার নামে স্মারক বা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও তার জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কীরিটী রঞ্জন বিশ্বাস, সৈয়দ লুৎফুল হক মিঠু, নিয়াজ ফাতেমা সিদ্দিকী শিল্পী, হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল, জাহিদ হোসেন খান, বিকাশ সাহা, সেকেন্দার হায়াত, মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল, হাসান তারেক, চঞ্চল দাস, ঝর্ণা খানম, নাসরিন আক্তার, মাহমুদ হোসেন রনি, তারিকুজ্জামান, পুষ্পেন রায় ও অপু সরকার প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরানা পল্টনে সিপিবি কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।








