গুপ্তদের উচিৎ শিক্ষা দিতে হবে: তারেক রহমান

সংগৃহীত ছবি
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচারের মতোই গুপ্তরা এখন নতুন জালিমে পরিণত হয়েছে। তাদের উচিত শিক্ষা দিতে হবে ও তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বরিশাল নগরীর ঐতিহাসিক বেলস পার্ক ময়দানে বুধবার দুপুরে নির্বাচনি জনসভায় তিনি একথা বলেন।
দীর্ঘ দুই দশক পর বরিশালে পা রাখলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। সমাবেশ মঞ্চে উঠলে নেতা-কর্মী-সমর্থকরা করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানায়। হাত নেড়ে সমর্থকদের শুভেচ্ছার জবাব দেন তারেক রহমান।
আসন্ন নির্বাচনে জনগণ তাদের জবাবদিহির সরকার নির্বাচিত করবে বলে আশা জানান বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে দেখেছি, স্বৈরাচার যে ভাষায় জনগণকে কথা বলত, গুনিমানি ব্যক্তিকে অপদস্থ করত, মানুষকে ছোট করত... কিন্তু দুঃখের সঙ্গে খেয়াল করলাম, সেই রীতি বন্ধ হয়নি। একটি দল গুপ্ত পরিচয়ে পরিচিত। এই গুপ্তরা এখন নতুন জালেমের ভূমিকায় আবির্ভাব হয়েছে দেশের মানুষের কাছে।’
নারীদের ঘরে বন্দি করে রেখে দেশকে সামনে নেয়া যাবে না উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘নারী-পুরুষ এক সঙ্গে মিলে কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে তা না হলে প্রত্যাশিত দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।’
তারেক রহমান বলেন, ‘অত্যন্ত কষ্ট ও ঘৃণার সঙ্গে দেখছি, এই জালেমদের নেতা প্রকাশ্যে নারীদের অত্যন্ত কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছেন। যেই নেতা ও কর্মীরা মা-বোনদের জন্য সম্মান দেখায় না, শ্রদ্ধা নেই মা-বোনদের প্রতি, তাদের কাছে বাংলাদেশের মানুষ আত্মসম্মানসূচক আচরণ আশা করতে পারে না। তাদের কাছে মানুষের মর্যাদা নেই...’
‘...গুপ্তদের কুমিল্লা জেলার একজন নেতা বলেছেন, ১২ তারিখ পর্যন্ত জনগণের পা ধরবেন, ১২ তারিখের পর জনগণ তাদের পা ধরবে। কোন পর্যায়ের মানুষ তারা, কোন পর্যায়ের মানুষ হলে জনগণকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে, মানুষকে কীভাবে তারা ট্রিট করছে, তাদের মানসিকতা কোন পর্যায়ের তা বেরিয়ে এসেছে। এরা নির্বাচিত হলে জনগণের ভাগ্যে কি দুর্বিষহ জীবন নেমে আসবে, তা বোঝা যাবে। তাই গুপ্তদের উচিৎ শিক্ষা দিতে হবে, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’
এই 'গুপ্ত দলের' সঙ্গে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের তুলনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা হলো মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। ৭১, ৮৬, ৯৬সহ বিগত ১৫ বছর তাদের সঙ্গে ছিলেন তারা।’
বরিশালের সমস্যাগুলোর বিষয়ে তারেক বলেন, ‘বরিশালে নদী-ভাঙন সবচেয়ে বড় সমস্যা, বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। অনেক কাজ রয়ে গেছে, এই কাজগুলো করতে হলে জনগণকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে...’
‘...অনেক কাজ বিএনপির আমলে শুরু হয়েছিল। যা শেষ করা যায়নি। অনেক কাজ জমে গেছে, সমাধান করতে হবে। বিএনপি জয়ী হলে এসব সমস্যার সমাধানে কাজ করতে চায়।’
সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক।
সমাবেশের একদিন আগেই বিভাগের ৬ জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা বরিশাল নগরীতে আসতে শুরু করেন। মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই বেলস পার্ক মাঠে জড়ো হতে থাকেনে তারা। অনেকে রাতে সমাবেশ স্থলে অবস্থান করেন। শুভেচ্ছা বিনিময়, স্লোগান, নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনায় সারা রাতই সরগরম ছিল সমাবেশস্থল।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এই সমাবেশে বরিশাল বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের বিএনপি ও মিত্র জোটের সব প্রার্থী উপস্থিত রয়েছেন।
বুধবার সকাল থেকে মিছিলের নগরীতে পরিণত হয় বরিশাল। একের পর এক মিছিলে সকালেই প্রায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে সমাবেশস্থল। বেলুন, ধানের শীষ প্রতীক ও দলীয় রঙে সাজানো হয়েছে বেলস পার্ক মাঠ। ব্যানার–ফেস্টুন ও স্লোগানে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে।
কোরআন ও গীতাপাঠের মধ্য দিয়ে বেলা ১১টায় সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। বেলা ১২টার দিকে হেলিকপ্টারে করে নগরীর বরিশাল স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে পৌঁছান বিএনপি চেয়ারম্যান।
সবশেষ ২০০৮ সালে এই মাঠে নির্বাচনি জনসভা করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। আর তার ছেলে তারেক রহমান সবশেষ বরিশাল সফর করেছিলেন ২০০৫ সালে। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তিনি তৃণমূল বিএনপির কর্মী সভায় অংশ নিয়েছিলেন।
বরিশালের জনসভা শেষ করে দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। সেখানে জনসভা শেষে হেলিকপ্টারে ঢাকা ফিরবেন এই বিএনপি নেতা।

