রাড্ডা হাসপাতাল ভাঙচুর : জড়িতদের গ্রেপ্তারে ৭ দিনের আলটিমেটাম জামায়াতের

ছবি: আগামীর সময়
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা-এমসিএইচ-এফপি ক্লিনিক ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের সাত দিনের মধ্যে গ্রেপ্তার এবং নেপথ্যের মদদদাতাদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছে জামায়াত। এ সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির নেতারা।
আজ রবিবার বিকালে মিরপুরে রাড্ডা সেন্টারের সামনে ঢাকা-১৪ আসনের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক দাবি নিয়ে এখানে আসিনি। রাড্ডা হাসপাতাল থেকে শত শত মা ও শিশু বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন। মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ কেড়ে নেওয়া যাবে না।’
ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে গড়িমসির অভিযোগ তোলেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ এই সদস্য। ‘দীর্ঘ সময় পার হলেও কেন পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে না। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, হামলাকারীদের পেছনে মদদদাতারাও রয়েছেন। অপরাধীদের আড়াল করতে রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না।’
হাসপাতালের ক্ষয়ক্ষতি ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া সব ওষুধ ফিরিয়ে দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানটিকে অত্যাধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি এর আইনগত কর্তৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে। কোনো দালালচক্রের হাতে হাসপাতালটির নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া যাবে না।
চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বন্ধের আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, জনগণ রাস্তায় নেমে এলে আবারও জুলাইয়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পুলিশি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হাসপাতালটি ভাঙচুর করা হয়েছে। তাই এ ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণও তদন্ত করতে হবে।
‘মিরপুরে কোনো চাঁদাবাজ থাকতে পারবে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন। পুলিশের গুলির ভয় দেখিয়ে তাদের দমিয়ে রাখা যাবে না’—উল্লেখ করেন সেলিম উদ্দিন।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হলে সরকারের প্রতি সন্দেহের অবকাশ থাকবে না। অন্যথায় সরকারকেও দায়বদ্ধতার আওতায় আনা হবে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কথা বলা হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেন, মিরপুরে সুলভ মূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অন্যতম প্রতিষ্ঠান রাড্ডা হাসপাতাল। শত শত মা ও শিশু এখান থেকে চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন। অথচ হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনা নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন তিনি।
ব্যারিস্টার আরমানের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না বলে তাদের আশঙ্কা। সাত দিনের মধ্যে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হলে আরও বড় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
‘কথিত গডফাদার পাবেল এবং লেলিন, শুভ্র, রাসেল ও সজীবসহ ঘটনায় জড়িত সবাইকে সাত দিনের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে’-যোগ করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন, জামায়াত নেতা ডা. মঈন উদ্দিন, মনিরুল ইসলাম মৃধা ও জি এম হাফিজুর রহমানসহ অনেকে।






