দশম শ্রেণি পর্যন্ত ছেলে-মেয়ে সবার জন্য অবৈতনিক শিক্ষা চাইলেন জামায়াতের এমপি

ছেলে ও মেয়ের অধিকার যদি সমান হয়, তবে ছেলেদের কেন অবৈতনিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে না— জাতীয় সংসদে এমন প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নিসা সিদ্দীকা।
বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া তার এই বক্তব্য ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে আলোচনা। বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মত দিচ্ছেন অনেকে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন নুরুন্নিসা সিদ্দীকা। একই সঙ্গে তিনি দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব ছেলে-মেয়ের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা চালু এবং ছেলেদের জন্যও শিক্ষাবৃত্তি চালুর দাবি জানান।
স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘গতকাল জাতীয় সংসদে আমার পাঁচ মিনিটের ভাষণ নিয়ে তুমুল আলোচনা পর্যালোচনা হতে পারে। কিন্তু আমি এ বাস্তবতার সাক্ষী গত ১৬ বছর ধরে।’
তিনি লিখেন, ‘আমার একটি সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের স্কুল আছে। আমি মহিলাদেরকে শিক্ষিত করার জন্য গত ২০ বছর ধরে কাজ করছি। প্রথমে মায়েদের শিক্ষা দিয়ে শুরু করি। তারপর শিশুদের স্কুল। আমার এ স্কুল থেকে শতশত ছাত্রছাত্রী এ পর্যন্ত বের হয়েছে। তারা মাত্র ১০-১২ জন এসএসসি বা তার চেয়ে উপরে গিয়েছে। অধিকাংশই তৃতীয় শ্রেণী পাশ করার পর বাবা-মা মনে করে এদের আর পড়ালেখার দরকার নেই। ছেলেরা রোজগার করবে। আর ফাইভ সিক্সে ওঠার পর মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। কার সাথে? সম্পূর্ণ অশিক্ষিত ভবঘুরে ছেলের সাথে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘আমার স্কুলে যেসব গার্ডিয়ান আসেন,তারা তো সবাই সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণীর। এখানে দেখা যায়, মা চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়া। কিন্তু বাবা অশিক্ষিত, অনেক সময় স্বাক্ষরও করতে জানে না। সৌভাগ্যবান দুই এক জন নারী যারা অশিক্ষিত স্বামীর ঘর করেও সুখে আছে। পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সংসার চালায়। অধিকাংশেরই স্বামী আর এক নারী নিয়ে সংসার করছে। এখানে শুধু বাচ্চা প্রদান করতে আসে।’
‘এর কারণ কি? মেয়েদের মত ছেলেরাও যদি অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ পেত তাহলে কষ্ট করে বাবা-মা তাদেরকে কিছুদিন পড়াতো। একই পরিবারে মেয়েটা পড়ছে অবৈতনিক আর ছেলেটাকে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে কাজে। কারণ লেখাপড়ার খরচ চালানোর সামর্থ্য বাবা-মায়ের নেই। এই নিষ্ঠুর বাস্তবতা আমাদের সমাজ, আমাদের সরকার বসে বসে দেখছে? সবাই তারস্বরে চিৎকার করছে 'নারী শিক্ষা' 'নারী শিক্ষা'। কিন্তু পুরুষ শিক্ষিত না হলে সেই নারীকে মূল্যায়ন করবে কে? এ কথাটা কি একবারও মাথায় আসে না?’
দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘দশম শ্রেণী পর্যন্ত সকল ছেলে মেয়ের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা চালু হোক। মেয়েদের মত ছেলেদের জন্যও শিক্ষাবৃত্তি চালু করা হোক।’




