আগামীর চোখ
মড়ায় কোরামিন!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
নির্বাহী প্রকৌশলী
পানি উন্নয়ন বোর্ড, গাইবান্ধা
সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর ভয়াল ভাঙনের কবলে পড়া ‘ভোরের পাখি’ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আর্তনাদ কেউ শোনেনি। নদী যখন প্রতিদিন একটু একটু করে স্কুলের বারান্দা, মাঠ আর শ্রেণিকক্ষ গিলে খাচ্ছিল, তখন আপনাদের দূরবীন দিয়েও দেখা যায়নি। আপনারা হয়তো ভাবছিলেন, ‘দেখি না, তিস্তা কতদূর যেতে পারে!’ তিস্তা পরীক্ষায় পাস করেছে।
বিদ্যালয়টি নদীর পেটে চলে যাওয়ার পর এখন হঠাৎ করেই ঘুম ভাঙল আপনাদের। শুরু করেছেন জিও ব্যাগ ফেলা। অর্থাৎ রোগী মারা যাওয়ার পর ডাক্তার স্টেথিস্কোপ গলায় ঝুলিয়ে ছুটে এসেছেন! এখন মড়া দেহকে বঁাচিয়ে তুলতে দিচ্ছেন কোরামিন ইনজেকশন!
আপনাদের কাণ্ডকারখানা দেখে মনে হচ্ছে, জিও ব্যাগের ওপর ভর করে বিদ্যালয়টি আবার ভেসে উঠবে। নিউটন আপেল দেখে মহাকর্ষ সূত্র আবিষ্কার করেছিলেন। আপনারা সম্ভবত স্কুলটিকে নদীতে ডুবে যেতে দেখার পর জিও ব্যাগ ফেলে পানি থেকে স্কুল তোলার সূত্র আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন।
আপনাদের কাণ্ড দেখে নদীরও বোধ হয় হাসি পাচ্ছে। নদী হয়তো মনে মনে বলছে, ‘এ কোন বোকার রাজ্যে এসে পড়লাম বাবা! ভাঙার পর রক্ষা করতে এসেছে!’
মনে হচ্ছে জিও ব্যাগের ওপর ভর করে বিদ্যালয়টি আবার ভেসে উঠবে
এমন দৃশ্য পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায়, বলুন? আপনি কল্পনা করে দেখুন তো— আগুনে ঘর পুড়ে ছাই হওয়ার পর ফায়ার সার্ভিস এসে পানি ছিটাচ্ছে কিংবা ডাকাতি শেষ হওয়ার পর পুলিশ এসে তল্লাশি করছে। কেমন লাগবে দেখতে, নিশ্চয় হাস্যকর? আপনারাও ঠিক ওই রকম অদ্ভুত কাজই করছেন।
স্কুলটি নদীতে হারিয়ে গেছে, কিন্তু দায়িত্বহীনতার সাক্ষী হিসেবে স্কুলের কিছু ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে আশপাশে। হয়তো একদিন সেগুলোও নদীর স্রোতে ভেসে যাবে। তারপর সেসব রক্ষার বাহানায় আরও কিছু জিও ব্যাগ আনার সুযোগ পাবেন।
নদীতে স্কুল বিলীনের পর জিও ব্যাগ ফেলার ঘটনা দেখে পাউবোর জন্য একটা স্লোগান ঠিক করেছি— ‘আগে ভাঙন, পরে ভাবনা’। পছন্দ হলে জানাবেন। পছন্দ না হলে নতুন করে ভাবতেও পারি!
আমাদের আশঙ্কা— যদি কোনো দিন পুরো তিস্তা নদীই পথ বদলে ফেলে, তখন হয়তো তার তীরে দাঁড়িয়ে জিও ব্যাগ হাতে পাউবো কর্মকর্তারা বলবেন, ‘চিন্তার কিছু নেই, আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। নদী চলে গেছে ঠিকই, তবে তাকে রক্ষার কাজ শুরু করেছি!’
ইতি
এক স্থানীয় বাসিন্দা






