আগামীর চোখ
ওসির দার্শনিক অজ্ঞতা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ঈশ্বরদী থানা
জনাব, সেলাম নেবেন। মফস্বল ডেস্কের টেবিলে বসে আপনার কীর্তিগাথা পড়ছিলাম। পড়ার পর থেকে আমার মাথা কাজ করছে না। বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে দশা, তাতে চোর-পুলিশ খেলাটা তো প্রায়ই দেখি। কিন্তু আপনাদের এই খেলাটা তো অলৌকিক থিয়েটারকেও হার মানিয়ে দিল!
শিক্ষকরা নাকি এক ছাত্রকে শাসন করেছিলেন। আহা, শিক্ষকের এত বড় বাড়বাড়ন্ত! ব্যস, ছাত্রের মামা আর সাঙ্গোপাঙ্গ এসে শিক্ষকদের হাড়গোড় ভেঙে বুঝিয়ে দিলেন— এ যুগে গুরুমশাইগিরি চলবে না।
শিক্ষকরা মার খেয়ে থানায় গেলেন, মামলা ঠুকলেন। আপনার পুলিশ বাহিনী চার দিন ধরে ‘তন্নতন্ন’ করে আসামি খুঁজছে। আর এদিকে মামলার দুই দুর্ধর্ষ আসামি আপনার থানা থেকে ঠিক ১০০ গজ দূরের এক ভবনে বসে জমকালো সংবাদ সম্মেলন করে ফেললেন। তারা সমাজ সংস্কারের ভাষণ দিলেন; ক্যামেরা ফ্ল্যাশ হলো, ভিডিও ফেসবুকে ভাসল। পুরো বিশ্ব তা দেখল, শুধু দেখল না ঈশ্বরদী থানা!
এ তো খাঁটি প্লেটোর ‘গুহা-তত্ত্ব’! গুহার ভেতরের মানুষ যেমন আসল পৃথিবীটা দেখতে পায় না, শুধু দেয়ালে ছায়া দেখে; আপনার পুলিশ বাহিনীও মনে হয় থানার চার দেয়ালের ভেতরের ছায়াকেই দুনিয়া ভাবছে। নাকি আসামিরা কোনো জাদুবলে আপনার থানার সামনে অদৃশ্য হওয়ার ‘ব্ল্যাক হোল’ তৈরি করে রেখেছিল? থানার পাশে বসে আসামিরা বুক ফুলিয়ে প্রেস কনফারেন্স করছে, আর আপনি বলছেন, ‘আমি তো ভাই কিছুই জানি না!’ আপনি কি এ কথা বলেছিলেন দার্শনিক সক্রেটিসকে মাথায় রেখে, যিনি বলেছিলেন, ‘আমি শুধু এটুকুই জানি যে আমি কিছুই জানি না।’
কিন্তু স্যার, সমস্যা হলো আপনাদের এই দিব্যচক্ষু হারানোর খেলায় আমাদের এক গরিব সাংবাদিকের জীবন ঝুলছে। যে প্রতিনিধি এ খবরটা আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন, তিনি তো কোনো সিসি ক্যামেরা নন যে, ছবি তুলে হাওয়া হয়ে যাবেন। তিনি এ সমাজেরই চুনোপুঁটি এক মানুষ। আসামিরা যখন থানার ১০০ গজের ভেতরে বসে রাষ্ট্রকে বুড়ো আঙুল দেখাতে পারে, তখন তারা কতটা ক্ষমতাধর, তা বুঝতে রকেট সায়েন্টিস্ট হওয়া লাগে না। ওই প্রতিনিধির কপালে যে কী আছে, তা ভেবে আমার বুক কাঁপছে।
দয়া করে এবার একটু বাস্তব দুনিয়ায় পা রাখুন। শিক্ষকদের গায়ে হাত তোলার বিচার করে অন্তত এই বার্তাটা দিন যে, দেশটা পুরোপুরি মগের মুল্লুক হয়ে যায়নি।
ইতি
এক বিহবল সাব-এডিটর




