আগামীর চোখ
কারখানায় ব্যবসায়ীরা আমলারা চেয়ারে

মহাত্মন
সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ জনাব, সেলাম নেবেন। আপনাদের দপ্তরের একটি ঐতিহাসিক ‘শোকজ’ নোটিস দেখে কুমিল্লাবাসী হিসেবে বুকটা গর্বে আর পকেটটা ভয়ে দুরু দুরু করে উঠল। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের এক অতি-উচ্চাকাঙ্ক্ষী রাজস্ব কর্মকর্তা নাকি আমাদের কুমিল্লার ডিসি বা ‘জেলা হর্তাকর্তা’ হওয়ার জন্য আট কোটি টাকার নগদ চুক্তি করেছেন! তা-ও আবার স্বয়ং বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে!
আমরা সাধারণ জনতা ভাবতাম, বাজারে শুধু পটোল, আলু আর মাংসের দরদাম হয়। এখন দেখছি ‘ডিসি’ পদেরও নিলাম হয়। যিনি বেশি টাকা দেবেন, কুমিল্লার তখত-তাউস নাকি তারই হবে! অবশ্য ওই রাজ-কর্মকর্তাকে আমি বিন্দুমাত্র দোষ দিচ্ছি না। দোষ দেব কেন? এ তো স্রেফ খাঁটি ব্যবসা! আপনাদের এই ডিসি পদের খাতায়-কলমে মূল বেতন মেরেকেটে সত্তর হাজার টাকা। কিন্তু ক্ষমতার বহর? তিনি একাধারে জেলার হর্তাকর্তা, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, আবার খাজনা আদায়ের কালেক্টরও। পদাধিকার বলে তিনি নাকি একাই ১২০টি কমিটির দণ্ডমুণ্ডের কর্তা! জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করে মানুষের মুখ বন্ধ করা থেকে শুরু করে পুলিশের ওপর ছড়ি ঘোরানো, অস্ত্রের লাইসেন্স বিলি— সব জাদুদণ্ড তার হাতে। মুঘল আমলের ‘আমির’ আর ‘কাজি’র এমন নিখুঁত আধুনিক ফিউশন দুনিয়ার আর কোথাও মিলবে না। তো, এমন আলাদিনের চেরাগ— আট কোটি টাকা তো সামান্য ‘স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট’! ব্যবসায়ীরা কারখানায় খাটান, আমলারা চেয়ারে খাটান।
এখন পরিষ্কার হচ্ছে, কেন ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আপনাদের সচিবালয়ে ডিসি হওয়ার জন্য ‘দেশপ্রেমিক’ আমলারা জুতোপেটা, হাতাহাতি আর মারামারি করেছিলেন। আমরা ভেবেছিলাম ওটা বুঝি নিয়মকানুনের লড়াই। এখন বুঝছি, ওটা আসলে ছিল ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁস’ কার কবজায় যাবে, সেই মহালড়াকু সিন্ডিকেট যুদ্ধ! ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সেও নাকি তারা একধাপ এগিয়ে। আট কোটির আসল উসুল করতে উনার হয়তো বড়জোর আট মাস লাগত! যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অবশ্য চেনা স্ক্রিপ্ট মেনে বলছেন— সব নাকি জাল, সব ষড়যন্ত্র। বিভাগীয় কমিশনার সাহেবও যেন আকাশ থেকে পড়েছেন! বলছেন, ‘এমনও হয় নাকি!’ আমরাও তাই বিশ্বাস করে চোখ-কান বুজে বসে আছি।
হে সচিব মহোদয়, যদি সত্যিই আপনাদের চাকরিতে এমন নিলামের ব্যবস্থা চালু হয়ে থাকে, তবে আমাদের একটু আগেভাগে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানাবেন। পরেরবার কুমিল্লার সাধারণ মানুষ নিজেরা চাঁদা তুলে আরও বড় ডাক দেবে। অন্তত কোন জমিদার আমাদের জেলায় রাজত্ব করতে আসবে, তা আগে থেকে জানার অধিকারটুকু তো এই অভাগা প্রজার থাকা উচিত!
আরজগুজার
এক করদাতা কুমিল্লাবাসী।




