সম্পাদকীয়
নতুন অভিভাবক নতুন প্রত্যাশা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বাংলাদেশের রাষ্ট্রজীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার এবং রাজপথে সংগ্রামের ইতিহাস তাকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার বিশেষ মর্যাদা এনে দিয়েছে। আমরা মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানাই।
জাতি আজ তার নেতৃত্বের দিকে আশাবাদী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। তার জীবনেও ঘটল নতুন অধ্যায়ের পথচলা। মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবন শুধু ক্ষমতার করিডরে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও জনমানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। দেশের নানা সংকটময় সময়ে তিনি রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন দলীয় ও জাতীয় স্বার্থে। তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ধৈর্য এবং সংলাপমুখী মনোভাব দেশের অন্যতম গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। রাজনৈতিক আদর্শের বিপক্ষ শিবিরেও তিনি সমান গ্রহণযোগ্য ও আদৃত।
রাষ্ট্রপতির পদ দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে। এই পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর একজন ব্যক্তিকে সমগ্র জাতির অভিভাবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়। মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও পরিমিতিবোধ তাকে সেই দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবে। তিনি এমন এক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন, যখন বাংলাদেশ নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন— অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক মেরূকরণ, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা রাষ্ট্রকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। এই বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতির বিচক্ষণতা ও নৈতিক নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি সংবিধানের রক্ষক হিসেবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা সমুন্নত রাখবেন, রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য ও সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে উৎসাহ দেবেন এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠবেন বলে সবার প্রত্যাশা।
দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ গণমানুষের কণ্ঠ স্বাধীন ও অবারিত ছিল না। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, জনগণের এসব আকাঙ্ক্ষাকে বন্দি করা যায় না। গণমানুষের ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষাই পরিশেষে বড় শক্তি হয়ে ওঠে। মির্জা ফখরুলের অভিভাবকত্বে এ বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
বাংলাদেশের ইতিহাসে দেখা গেছে, দূরদর্শী নেতৃত্ব জাতিকে সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছে। মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বেও সেই প্রত্যাশা বেড়েছে। তার অভিভাবকত্বে বাংলাদেশ গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধের পথে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাবে— এমন বিশ্বাস অমূলক নয়।
দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির দীর্ঘদিনের দুর্বলতার মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, ক্ষমতার পালাবদল হলেও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী না হয়ে ওঠা। তার প্রতি জাতির আস্থার পারদ ঊর্ধ্বগামী। তার দুটি দিক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে সুধীসমাজ মনে করে— একটি মানবিকতা, অন্যটি রাজনৈতিক চেতনা। তিনি শুধু একজন শিক্ষাবিদই নন; অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও সজ্জন ব্যক্তি। তার এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির মর্যাদা আরও সমুন্নত করবে।
নতুন রাষ্ট্রপতির প্রতি আমাদের শুভকামনা। আমরা আশা করি, তিনি হবেন সংহতির প্রতীক, প্রজ্ঞার কণ্ঠস্বর এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার নাম। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দিক হারাবে না; বরং আত্মবিশ্বাস ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে এগিয়ে যাবে। দেশের মানুষ আজ সেই আশার বাতি জ্বালিয়ে রেখেছে। আমরা তার সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করি।






