Agamir Somoy E-Paper
শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের স্বপ্নের ফেরিওয়ালা সামাদ
শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় কলাম

নেতৃত্বের গুণাবলি প্রথম থেকেই ছিল স্পষ্ট

দীপা দত্ত
agamir somoy
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৮
নেতৃত্বের গুণাবলি প্রথম থেকেই ছিল স্পষ্ট

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কথা লিখতে বসে ছাত্ররাজনীতির সোনালি দিনগুলোর স্মৃতি ভীষণ মনে পড়ছে। ফখরুলের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির সময়কালে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের একজন অত্যন্ত সক্রিয় ও প্রগতিশীল নেতৃত্বস্থানীয় কর্মী হিসেবে। পারিবারিক একটি সমৃদ্ধ রাজনৈতিক পটভূমি থাকার পাশাপাশি নিজস্ব মেধা ও আদর্শের কারণেই ফখরুলকে আমরা শুরু থেকে অত্যন্ত প্রগতিশীল ও প্রতিশ্রুতিশীল কর্মী হিসেবে পেয়েছি। নিজের নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক আদর্শ দিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমরা তাকে দেখেছি অত্যন্ত গতিশীল ও নীতিবান এক রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে। তার মধ্যে নেতৃত্বের সব রকম গুণ প্রথম থেকেই স্পষ্ট ছিল।

১৯৬৯-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দিনগুলোতে আমরা ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ)-এর কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বে থেকে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সাহসী। ফখরুলসহ তার পুরো ব্যাচটি আমাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্বৈরাচারী আইয়ুবশাহির বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। ফখরুলদের ওই ব্যাচটি ছিল ভীষণ মেধাবী ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন। তাদের মধ্যে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আহমেদ কামাল, অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. নুরুল আমিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিনের নাম বেশ মনে পড়ছে। ১৯৬৯-এর ১১ দফা আন্দোলনের সময় সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ থেকে যখন উত্তরবঙ্গে গণসংযোগ কর্মসূচি করছিলাম, তখন ফখরুলের পরিবারের ইতিবাচক ভূমিকা দেখেছি। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রগতিশীল ধারার রাজনীতিকে সমর্থন জানানোর ব্যাপারে ফখরুলদের পুরো পরিবারের একটি সুনাম ছিল। ফখরুলের ছোট বোন, ভগ্নিপতিসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গেও আমার পরিচয় হয়েছিল। তারা সবাই ছিলেন গভীর মানবিক গুণাবলির অধিকারী। পারিবারিক এই মানবিক ও গণমুখী আবহ ফখরুলের জীবনদর্শন গঠনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

ছাত্র ইউনিয়নের একটি ঘটনা এখনো আমার স্মরণে খুব উজ্জ্বল। আইয়ুব খানের শাসনামলে, ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমিতে ছাত্র ইউনিয়নের উদ্যোগে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলাম আমরা— সম্ভবত রবীন্দ্রজয়ন্তী বা পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে। অনুষ্ঠানটির জন্য স্থান নির্বাচন থেকে শুরু করে নিমন্ত্রণপত্র ছাপা— সব কাজ শেষ করা হয়েছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার ঠিক আগের দিন স্বৈরাচারী আইয়ুব খানের সরকারের প্রভাবে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করেই অনুমতি বাতিল করে দেয়। সরকারের এমন প্রতিক্রিয়াশীল ও অন্যায্য সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আমরা ছাত্র ইউনিয়ন নেতাকর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ি। সেই বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন হায়দার আনোয়ার খান জুনো; ফখরুলও ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয়। ফলে তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন আন্দোলন দমাতে জুনো ভাই, ফখরুলসহ আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হুলিয়া ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। কিন্তু সরকারের সেই দমননীতির কাছে আমরা নতি স্বীকার করিনি। ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীদের অদম্য সাহসী পদক্ষেপে রাতারাতি বিকল্প পরিকল্পনা করা হয় এবং পরদিন পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে রমনা বটমূলে আয়োজন করা সম্ভব হয়। পুলিশ চারদিকে সতর্ক পাহারায় থাকলেও এবং ফখরুলদের গ্রেপ্তারের জন্য তাড়া করলেও সেদিন তারা কাউকে ধরতে পারেনি। সে অনুষ্ঠানে কামাল লোহানী ভাইয়ের পরিচালনায় ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ক্রান্তি’র পরিবেশনায় ‘জ্বলছে আগুন ক্ষেতে ও খামারে’ শীর্ষক প্রখ্যাত নৃত্যনাট্য উপস্থিত সবাইকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। সেই প্রতিকূল দিনগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে ফখরুলের মতো নেতাকর্মীদের এমন নির্ভীক অংশগ্রহণ বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে। আমি সে সময় পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন গ্রুপ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছিলাম এবং ফখরুলকে সবসময় প্রতিটি প্রগতিশীল পদক্ষেপে সামনের সারিতেই দেখেছি।

ছাত্ররাজনীতি শেষে আমি কর্মজীবনে প্রবেশ করি। যদিও আমার অনেক সহযোদ্ধা পেশাদার রাজনীতিকে বেছে নিয়েছিলেন। ফখরুলও ছাত্ররাজনীতির পর শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। অবশ্য একসময় রাজনীতিতে আবার ফিরেও আসেন। কিন্তু আমার ফেরা হয়নি। ছাত্ররাজনীতির পর রাজনীতির ময়দানে দেখা না হলেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমাদের মাঝেমধ্যে দেখা হতো। ফখরুল বিনয়ের সঙ্গে এগিয়ে এসে কথা বলতেন। সর্বশেষ আমাদের দেখা হয়েছিল ২০২৪ সালে, যেদিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হায়দার আকবর খান রনো ভাইকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছিল। ফখরুল এসেছিলেন তার দলের পক্ষ থেকে রনো ভাইকে শ্রদ্ধা জানাতে। সেদিনও ভিড়ের মধ্যে দূর থেকে ফখরুল আমার সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করতে ভোলেননি।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আমরা মাঠের রাজনীতিতে একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে দেখেছি। আপসকামিতা তার মধ্যে ছিল না। যার জন্য তাকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, কারাভোগ করতে হয়েছে, কষ্ট পেতে হয়েছে। দীর্ঘ সংগ্রামমুখর রাজনীতির প্রতিটি চড়াই-উতরাইয়ে আপসহীন নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেছেন ফখরুল। তার এমন দিনও গেছে, অল্প কিছু নেতাকর্মী নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকেছেন; কিন্তু অবস্থান ছাড়েননি। আজ তার দল রাষ্ট্রক্ষমতায়। যদিও আমি তার ওই রাজনৈতিক দল বা আদর্শ সমর্থন করি না।

রাষ্ট্রপতি পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন, এটি অবশ্যই দেশের জন্য ইতিবাচক। আমি আশা করব, তিনি চিরাচরিত রাষ্ট্রপতিদের মতো শুধু সরকারের লিখে দেওয়া নির্ধারিত ভাষণ পাঠেই নিজের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখবেন না

তবে এখন মানুষের জীবনযাত্রায় কতটা স্বস্তি ফিরে এসেছে, তা নিয়ে আলোচনার অবকাশ রয়েছে। অল্প কয়েক মাসের কার্যক্রম দেখে একটি নির্বাচিত সরকারকে হয়তো চূড়ান্তভাবে মূল্যায়ন করা যায় না; তবুও দেশের খেটে খাওয়া মানুষ, সাধারণ কৃষক, পোশাক ও অন্যান্য সেক্টরের শ্রমিক কিংবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক সুরক্ষার প্রশ্নে নানা সংকট দৃশ্যমান। সেগুলোর কিছু কিছু সমাধান এই সময়টিতে করা খুব বেশি কঠিন ছিল না। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে অসমাপ্ত গঙ্গা পানিচুক্তি, অমীমাংসিত সীমান্ত সমস্যা, সুন্দরবনবিধ্বংসী রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প চুক্তি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বিভিন্ন অসম ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তির ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দেশের মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি। মানবাধিকার কমিশন, বিচার-সংক্রান্ত কমিশন, নারীবিষয়ক কমিশন ও শিক্ষা কমিশনের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে আরও গভীর দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন ছিল।

এই রাজনৈতিক-প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন, এটি অবশ্যই দেশের জন্য ইতিবাচক। আমি আশা করব, তিনি চিরাচরিত রাষ্ট্রপতিদের মতো শুধু সরকারের লিখে দেওয়া নির্ধারিত ভাষণ পাঠেই নিজের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখবেন না; তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ছাত্ররাজনীতির সময়ের প্রগতিশীল ভাবধারা তাকে একজন সফল রাষ্ট্রপতি হতে সাহায্য করবে; একজন মেধাবী ও জনবান্ধব রাজনীতিবিদ হিসেবে রাষ্ট্রপতি পদে তার নিয়োগ দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে আরও মর্যাদাশীল ও স্বাধীন করতে সহায়তা করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তিসহ অসমাপ্ত আলোচনার সম্মানজনক সমাধানে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আমি আশা রাখি।

সবশেষে বলব, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অতীত আওয়ামী সরকারের মতো কিংবা কোনো প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর ভুল নীতির পুনরাবৃত্তি ঘটতে দেবেন না। তিনি হবেন সব দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে আসা একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব, যিনি সরকারের নীতি সংশোধন ও জনমুখী সংস্কারের ক্ষেত্রে এক অগ্রবর্তী ও দূরদর্শী অভিভাবকের ভূমিকা পালন করবেন। তার উজ্জ্বল রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করি।

 

লেখক: ১১ দফার অন্যতম স্বাক্ষরকারী এবং তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ)-এর সহসম্পাদক

 

মির্জা ফখরুলছাত্ররাজনীতিরাজনৈতিকনীতিবানগণঅভ্যুত্থানশাসনামল
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise