আগামীর সময়

মতামত

ভোটের আগে কোন পথে জনমত

ভোটের আগে কোন পথে জনমত

ফাইল ছবি

ভোটের আর মাত্র এক দিন বাকি। মাঠের প্রচার থেমে গেছে, কিন্তু রাজনৈতিক অঙ্ক থামেনি। কে এগিয়ে, কার সম্ভাবনা বেশি, শেষ মুহূর্তে কোন দিকে ঝুঁকতে পারে ভোটারদের মন, এসব প্রশ্ন এখন চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সর্বত্র। এই আবহে প্রকাশিত তিনটি জনমত জরিপ নতুন করে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। মজার বিষয় হলো, তিন প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান তিন রকম ইঙ্গিত দিচ্ছে। কোথাও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, কোথাও আবার বড় ব্যবধানে এগিয়ে একটি জোট।

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল’ অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি বা আইআইএলডির জরিপে ভোটের শতাংশের হিসাবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সামান্য এগিয়ে। তাদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৪৪ দশমিক ১ শতাংশ, আর জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষে ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ। ব্যবধান মাত্র শূন্য দশমিক ২। অর্থাৎ জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে এখানে কার্যত সমানে সমান লড়াই। কিন্তু আসন হিসাব করতে গেলেই চিত্র পাল্টে যায়। সেখানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটকে এগিয়ে দেখানো হয়েছে ১০৫ আসনে, বিএনপি জোট ১০১ আসনে। আরও ৭৫ আসনে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। বড় নমুনা, দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য সংগ্রহ, আর উচ্চ ভোটদানের আগ্রহের তথ্য এই জরিপকে আলোচনায় রেখেছে।

কিন্তু এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট বা ইএএসডি একেবারেই ভিন্ন ছবি এঁকেছে। তাদের হিসাবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে। সম্ভাব্য আসন ২০৮। বিপরীতে জামায়াত জোট ৪৬টিতে। ভোটের পছন্দের জায়গাতেও ব্যবধান বড়। তাদের তথ্য বলছে, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটার বিএনপিকে বেছে নিতে চান। নারী ভোটারদের মধ্যেও একই প্রবণতা বেশি স্পষ্ট। এমনকি আগে অন্য দলে ভোট দেওয়া বড় অংশ এবার পরিবর্তনের দিকে ঝুঁকছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। নির্বাচন শেষে সরকার গঠনের সক্ষমতার প্রশ্নেও বেশিরভাগ উত্তরদাতা বিএনপি জোটের দিকেই আস্থা রেখেছেন।

তৃতীয় জরিপটি করেছে ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেল। তাদের ফল আরও এক ধাপ এগিয়ে বিএনপির পক্ষে। এখানে দলটির সম্ভাব্য আসন ২২০। জামায়াতে ইসলামী পেতে পারে ৫৭টি। অন্যরা ছিটেফোঁটা। তবে এই জরিপের নমুনা তুলনামূলক ছোট। তবু সমর্থনের অনুপাত, নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি এবং গণভোট প্রসঙ্গে সিদ্ধান্তহীনতার যে তথ্য উঠে এসেছে, তা ভোটের দিন আচরণ কেমন হতে পারে সে প্রশ্নটিকে উন্মুক্তই রেখে দেয়।

একই নির্বাচনের আগে তিনটি জরিপ, অথচ ফল তিন ধরনের। কেন এমন হয়, তার ব্যাখ্যাও অজানা নয়। নমুনা নির্বাচন, প্রশ্নের ধরন, সময়, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, এমনকি উত্তরদাতার খোলামেলা কথা বলার মানসিকতাও ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলে। আবার শেষ মুহূর্তে ভোটাররা মত বদলাতেও পারেন। ফলে জরিপ দিকনির্দেশনা দেয়, কিন্তু নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়।

তার পরও এসব সংখ্যা রাজনৈতিক বার্তা দেয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে মূলত দুই পক্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, সে বিষয়ে সবাই প্রায় একমত। পাশাপাশি পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা, স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা, কিংবা আদর্শিক অবস্থানের প্রশ্ন ভোটারদের মনে কতটা কাজ করছে, তারও আভাস মেলে।

শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ভোটাররাই। ব্যালট বাক্সই বলে দেবে কোন জরিপ বাস্তবতার কাছাকাছি ছিল, আর কোনটি ছিল অনুমানের ওপর দাঁড়িয়ে। এখন অপেক্ষা শুধু ভোটের দিনের।

    শেয়ার করুন: