Agamir Somoy E-Paper
রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
মানুষের কল্যাণেই ঈদের আনন্দ বাবুর
রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় বিশ্লেষণ

আর্কটিক নিয়ন্ত্রণে পরাশক্তিদের লড়াই

তানিম ইশতিয়াক
agamir somoy
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ২১:৪৯
আর্কটিক নিয়ন্ত্রণে পরাশক্তিদের লড়াই

লেখক: তামিম ইশতিয়াক

বরফঢাকা বিশাল এক মহাসাগর। উপকুলে পাঁচটি দেশ। মাঝখানে উত্তর মেরু। এই পুরো অঞ্চলটিই আর্কটিক। পৃথিবীর সবচেয়ে ঠান্ডা জায়গাগুলোর একটি। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতির তাপমাত্রা এখন সবচেয়ে বেশি এখানেই। বিশ্বের বড় বড় যুদ্ধের ইতিহাসে কখনো মসলা ছিল, কখনো স্বর্ণ ছিল, কখনো ছিল তেল। একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি এসে সেই তালিকায় যোগ হয়েছে বরফ। পৃথিবীর যে অঞ্চল হাজার হাজার বছর ধরে ঠান্ডা, অন্ধকার ও দুর্গমতার দেয়াল তুলে মানুষকে দূরে রেখেছিল, সেই দেয়াল এখন গলে যাচ্ছে। বরফের নিচ থেকে বেরিয়ে আসছে তেল, গ্যাস ও খনিজের সম্ভাবনা। বরফের ওপর খুলছে নতুন সমুদ্রপথ। বরফের নিচে টহল দিচ্ছে পারমাণবিক সাবমেরিন। আর বরফ গলার গতিই বলে দিচ্ছে পৃথিবীর জলবায়ু কোন দিকে যাচ্ছে।

আর্কটিকের গল্প তাই শুধু বরফের গল্প নয়, বরং নতুন অর্থনৈতিক দিগন্ত, পরাশক্তিদের সামরিক লড়াই আর পৃথিবীর ভবিষ্যত রূপান্তরের গল্প।

আর্কটিক কেন এত ‍গুরুত্বপূর্ণ

আর্কটিক হচ্ছে পাঁচ মহাসাগেরর সবচেয়ে ছোট ও অগভীর মহাসাগর। চারপাশে ইউরেশিয়া, উত্তর আমেরিকা ও গ্রিনল্যান্ড। বেরিং প্রণালি একে প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। গ্রিনল্যান্ড, নরওয়েজীয় ও ব্যারেন্টস সাগর এবং ডেভিস প্রণালি দিয়ে এটি আটলান্টিকের সঙ্গে যুক্ত। আটটি দেশকে আর্কটিক রাষ্ট্র বলা হয়। রাশিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও আইসল্যান্ড। তবে আর্কটিক মহাসাগরের সরাসরি উপকূল আছে পাঁচটি রাষ্ট্রের। রাশিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়ে এবং গ্রিনল্যান্ডের মাধ্যমে ডেনমার্ক। এদেরকে বলে ‘আর্কটিক ফাইভ’।

আর্কটিকের সবচেয়ে দীর্ঘ উপকূল রাশিয়ার। দেশটির উত্তরাঞ্চলের বিশাল অংশই আর্কটিক অঞ্চলে। রাশিয়ার জন্য আর্কটিক কোনো সীমান্ত নয়; এটি অর্থনীতি, জ্বালানি এবং জাতীয় নিরাপত্তার কেন্দ্র। ইয়ামাল উপদ্বীপের গ্যাসক্ষেত্র থেকে ইউরোপ ও এশিয়ায় গ্যাস রপ্তানি হয়। কোলা উপদ্বীপে রয়েছে রাশিয়ার নর্দার্ন ফ্লিট এবং পারমাণবিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিনের প্রধান ঘাঁটি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক আইসব্রেকার বহরও রাশিয়ার। মস্কোর কাছে আর্কটিক শুধু বরফ নয়। এটি ভবিষ্যতের অর্থনীতির ভিত্তি।

সমুদ্রপথের নতুন রাজনীতি

শত শত বছর ধরে আর্কটিক ছিল অভিযাত্রীদের স্বপ্ন। ইউরোপ থেকে এশিয়ায় যাওয়ার সংক্ষিপ্ত সমুদ্রপথ খুঁজতে অসংখ্য নাবিক বরফের দেশে প্রবেশ করেছিলেন। অনেকেই আর ফিরে আসেননি। বরফের দেয়াল তাদের আটকে দিয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে পৃথিবী ভাগ হয়ে যায়। আর্কটিক তখন হয়ে ওঠে দুই পরাশক্তির সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত মুখোমুখি সীমান্ত। মানচিত্র সমতল হলে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে মনে হয়। পৃথিবী গোল করে দেখলে তারা খুব কাছে। আলাস্কা ও রাশিয়ার মধ্যে বেরিং প্রণালির দূরত্ব খুব বেশি নয়। উত্তর মেরুর ওপর দিয়ে বোমারু বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের পথও তুলনামূলক ছোট। দুই পরাশক্তি বরফের নিচে পারমাণবিক সাবমেরিন পাঠিয়েছে। আকাশে বসিয়েছে রাডার। বরফের নিচে লুকিয়ে ছিল এমন অস্ত্র, যা কয়েক মিনিটের মধ্যে পৃথিবী ধ্বংস করতে পারত।

আজ সেই বরফই আর আগের মতো নেই। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর অন্য যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় আর্কটিক প্রায় চার গুণ দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে। গ্রীষ্মকালে সমুদ্রের বরফ আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। যে সমুদ্র একসময় সারা বছর বরফে ঢাকা থাকত, সেখানে এখন কয়েক মাস জাহাজ চলাচল সম্ভব হচ্ছে। এই পরিবর্তনই বিশ্বরাজনীতিকে নতুন দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্ব বাণিজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোর একটি সুয়েজ খাল। ইউরোপ থেকে এশিয়ায় যেতে অধিকাংশ জাহাজ এই পথ ব্যবহার করে। কিন্তু আর্কটিকের বরফ কমে যাওয়ায় নতুন একটি পথ খুলছে–নর্দার্ন সি রুট। ২০২৫ সালে নর্দার্ন সি রুটে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ টন পণ্য চলাচল করেছে, যার অধিকাংশ রাশিয়ার। রাশিয়ার উত্তর উপকূল ঘেঁষে চলা এই রুট ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ার দূরত্ব প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। কম জ্বালানি লাগবে। কম সময় লাগবে। পরিবহন ব্যয়ও কমবে। মস্কো এটিকে জাতীয় পরিবহন করিডর হিসেবে দেখে।

দ্বিতীয় রুট হচ্ছে নর্থওয়েস্ট প্যাসেজ। কানাডার আর্কটিক দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন চ্যানেল দিয়ে আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করে এই পথ। সমস্যা হলো, কিছু চ্যানেল অগভীর। বহু বছরের শক্ত বরফ থাকতে পারে। পর্যাপ্ত বন্দর, যোগাযোগ ও উদ্ধারব্যবস্থা নেই। এর সঙ্গে রয়েছে আইনগত বিরোধ। কানাডা বলে, এই পথ তার অভ্যন্তরীণ জলসীমা। যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু দেশ বলে, এটি আন্তর্জাতিক প্রণালি। ১৯৮৮ সালের একটি সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ বিরোধ নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু কেউ নিজের আইনগত দাবি ছাড়েনি।

তৃতীয়টি ভবিষ্যতের ট্রান্সপোলার সি রুট। বরফ আরও কমলে কেন্দ্রীয় আর্কটিক মহাসাগরের ওপর দিয়ে সরাসরি জাহাজ চলতে পারে। মানচিত্রে এটিই সবচেয়ে ছোট পথ হতে পারে।

বরফের নিচে সম্পদের পাহাড়

আর্কটিক শুধু সমুদ্রপথ নয়; এটি পৃথিবীর অন্যতম বড় প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার। ২০০৮ সালে ইউএসজিএস হিসাব করেছিল, উত্তর মেরুবৃত্তের উত্তরে প্রায় ৯০ বিলিয়ন ব্যারেল অনাবিষ্কৃত প্রচলিত তেল, ১,৬৬৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ৪৪ বিলিয়ন ব্যারেল প্রাকৃতিক তরল গ্যাস থাকতে পারে। সম্ভাব্য সম্পদের প্রায় ৮৪ শতাংশ সমুদ্রতলের নিচে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের এখনো আবিষ্কৃত হয়নি এমন তেলের প্রায় ১৩ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৩০ শতাংশ আর্কটিকে থাকতে পারে।

এর সঙ্গে রয়েছে নিকেল, কোবাল্ট, তামা, ইউরেনিয়াম, লিথিয়াম এবং বিরল মৃত্তিকা খনিজ। আধুনিক স্মার্টফোন থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক গাড়ি, ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ—সবকিছুর জন্যই এসব খনিজ প্রয়োজন। একসময় মানুষ বরফের দিকে তাকিয়ে শুধু শীত দেখত। এখন তারা সেখানে ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ দেখতে পাচ্ছে।
আর্কটিকের একটি বড় প্রশ্ন–এই সমুদ্রের মালিক কে? জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী প্রতিটি উপকূলীয় দেশ তাদের মহাদেশীয় শেলফের ওপর দাবি করতে পারে। উপকূল থেকে সাধারণভাবে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত জলসীমা একটি দেশের আঞ্চলিক সমুদ্র। সেখানে রাষ্ট্রের প্রায় পূর্ণ সার্বভৌম ক্ষমতা থাকে। তবে নির্দিষ্ট শর্তে বিদেশি জাহাজ চলাচলের করার অধিকার থাকতে পারে। উপকূল থেকে সাধারণত ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত অঞ্চলকে একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল বা ইইজেড বলা হয়। সেখানে মাছ, তেল, গ্যাস, সমুদ্রতলের খনিজ ও শক্তিসম্পদের ওপর উপকূলীয় রাষ্ট্রের বিশেষ অধিকার থাকে। কিন্তু ইইজেড পুরোপুরি জাতীয় জলসীমা নয়। বিদেশি জাহাজ সেখানে চলাচলের স্বাধীনতা পায়। আর্কটিক মহাসাগরের নিচে রয়েছে লোমোনোসভ রিজ নামের বিশাল পর্বতশ্রেণি। রাশিয়া, কানাডা ও ডেনমার্ক এটিকে নিজেদের স্থলভাগের প্রাকৃতিক সম্প্রসারণ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে।

বিশ্বশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মাঝখানে প্রায়ই হারিয়ে যায় আর্কটিকের প্রকৃত বাসিন্দাদের কথা। বর্তমানে আর্কটিক অঞ্চলে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বাস করে। তাদের মধ্যে আনুমানিক পাঁচ লাখ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সদস্য। ইনুইট, সামি, নেনেতসসহ বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠী হাজার বছর ধরে এই অঞ্চলে বসবাস করছে। তাদের জীবন রেইনডিয়ার, মাছ ধরা, বরফ এবং প্রকৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বরফ গললে শুধু নতুন সমুদ্রপথই খুলছে না; বদলে যাচ্ছে তাদের সংস্কৃতি, জীবিকা এবং জীবনধারা।

সাত রাষ্ট্র এক জোটে, রাশিয়া একা

দীর্ঘদিন ধরে আর্কটিকের পুরু বরফ রাশিয়ার জন্য ছিল প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা। বরফের নিচে সাবমেরিন সহজে ধরা পড়ত না। যুদ্ধজাহাজ প্রবেশ করতে পারত না। আকাশ থেকেও নজরদারি কঠিন ছিল। কিন্তু বরফ কমে যাওয়ায় সেই প্রাকৃতিক ঢালও দুর্বল হচ্ছে। রুশ সামরিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এখন সাবমেরিনগুলোকে নিরাপদ বরফে পৌঁছাতে আরও বেশি পথ পাড়ি দিতে হয়। এই সময়েই সেগুলো প্রতিপক্ষের নজরদারির আওতায় চলে আসে।

রাশিয়া যেমন আর্কটিকে শক্তি বাড়াচ্ছে, তেমনি ন্যাটোও নতুন পরিকল্পনা করছে। ফিনল্যান্ড ও সুইডেন ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পর জোটটির আর্কটিক অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। রাশিয়া ছাড়া বাকি সাত আর্কটিক রাষ্ট্র এখন একই সামরিক জোটের সদস্য। নরওয়ের ঘাঁটি সম্প্রসারণ হচ্ছে। ফলে উত্তর আমেরিকা থেকে নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও বাল্টিক অঞ্চল পর্যন্ত ন্যাটোর সামরিক যোগাযোগ ও পরিকল্পনা সহজ হয়েছে। ন্যাটো ঠান্ডা আবহাওয়ার মহড়া, সাবমেরিন অনুসরণ, সামুদ্রিক টহল, বিমান নজরদারি, স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ এবং সমুদ্রতলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

রাশিয়া বলছে, ন্যাটো আর্কটিককে সামরিকীকরণ করছে। ন্যাটো বলছে, রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতির জবাব দেওয়া হচ্ছে। দুই পক্ষই নিজেদের কাজকে প্রতিরক্ষা বলে। অন্য পক্ষের কাজকে বলে আগ্রাসন। এভাবেই নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রতিটি পদক্ষেপ প্রতিপক্ষের নিরাপত্তাহীনতা বাড়ায়।

চীনের কোনো আর্কটিক উপকূল নেই। তবু ২০১৮ সালে দেশটি নিজেকে ‘নিকট-আর্কটিক রাষ্ট্র’ হিসেবে বর্ণনা করে। চীনের আগ্রহের তালিকা দীর্ঘ। নর্দার্ন সি রুট, রুশ এলএনজি, খনিজ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, স্যাটেলাইট, যোগাযোগ এবং ভবিষ্যতের ‘পোলার সিল্ক রোড’। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার কিছু আর্কটিক প্রকল্পে চীনা অর্থ, প্রযুক্তি ও বাজারের গুরুত্ব বেড়েছে। কিন্তু আর্কটিকে চীনের প্রবেশ এখনো অনেকাংশে রাশিয়ার সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর আশঙ্কা, চীনের বৈজ্ঞানিক ও বাণিজ্যিক উপস্থিতির কিছু অংশ ভবিষ্যতে সামরিক বা গোয়েন্দা কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। চীন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এবং নিজেকে গবেষণা ও সহযোগিতার অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করে। রাশিয়া চায় চীনের অর্থ। চীন চায় আর্কটিকে প্রবেশাধিকার।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আলাস্কায় সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। নতুন সাবমেরিন, নজরদারি বিমান, ড্রোন এবং স্যাটেলাইট মোতায়েন করা হচ্ছে। আর্কটিকের বরফ গলার সাথে সাথে কিন্তু সামরিক প্রতিযোগিতা জমে উঠছে।

বরফের অঙ্কে আগামী পৃথিবী

একসময় বিশ্বের মানচিত্রে আর্কটিক ছিল সাদা রঙের এক নীরব শূন্যতা। আজ সেই সাদা অংশের প্রতিটি বরফখণ্ডের অর্থনৈতিক মূল্য আছে, সামরিক মূল্য আছে, কূটনৈতিক মূল্য আছে। আজ আর্কটিকে কেউ শুধু পরিবেশ দেখছে না। কেউ দেখছে নতুন তেলের কূপ। কেউ দেখছে দ্রুততম বাণিজ্যপথ। কেউ দেখছে পারমাণবিক প্রতিরোধের ভবিষ্যৎ। আবার কেউ দেখছে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ সতর্কবার্তা।

আর্কটিক শুধু উত্তরের বরফ নয়; পৃথিবীর জলবায়ু, সমুদ্রস্রোত এবং বৈশ্বিক আবহাওয়ার ভারসাম্য রক্ষায় এর ভূমিকা আছে। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ছে। কিন্তু আর্কটিক উষ্ণ হচ্ছে তার চেয়ে কয়েকগুণ দ্রুত। একে বলা হয় আর্কটিক অ্যামপ্লিফিকেশন। সূর্যের আলো বরফে প্রতিফলিত হয়ে মহাকাশে ফিরে যায়। এই প্রাকৃতিক প্রতিফলন পৃথিবীকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু বরফ কমে গেলে সমুদ্র বেশি তাপ শোষণ করে। ফলে পৃথিবী আরও দ্রুত উষ্ণ হয়। অর্থাৎ আর্কটিকের পরিবর্তন শুধু উত্তর মেরুর সমস্যা নয়; সেটি ঢাকার গরম, ইউরোপের দাবদাহ কিংবা এশিয়ার বন্যার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

আর্কটিকের ভবিষ্যৎ শুধু বরফ কত দ্রুত গলবে, তা দিয়ে নির্ধারিত হবে না। জ্বালানির দাম, নিষেধাজ্ঞা, প্রযুক্তি, বিমা, সামরিক উত্তেজনা, আদিবাসী রাজনীতি, পরিবেশ আইন এবং অবকাঠামোর সক্ষমতা–সবকিছু মিলে ফল নির্ধারণ করবে। বরফ, আগুন, ঝড়, ক্ষয় ও পারমাফ্রস্টের পরিবর্তন মানুষের অভিযোজনের গতিকে ছাড়িয়ে যাবে। পানি উন্মুক্ত হবে, খনি চালু হবে. মাছ উত্তরে যাবে। কিন্তু পুরোনো জনপদ বাঁচবে না। আর্কটিক খুলছে। কিন্তু সেই খোলা দরজা দিয়ে কোথায় পৌঁছানো যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) ও গবেষণা কর্মকর্তা, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ

    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল মাদ্রাসাছাত্রের

    কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল মাদ্রাসাছাত্রের

    ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০০:০৫

    ইতালি-স্পেন কূটনৈতিক সংঘাত, শেনজেন স্থগিত

    ইতালি-স্পেন কূটনৈতিক সংঘাত, শেনজেন স্থগিত

    ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০০:০৮

    advertiseadvertise