আগামীর সময়

সামরিক পথে হাঁটছে জাপান— চীনের অভিযোগে টোকিওর জবাব কী?

সামরিক পথে হাঁটছে জাপান— চীনের অভিযোগে টোকিওর জবাব কী?

সংগৃহীত ছবি

আবার সামরিকবাদ পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে জাপান। চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই’র করা এই মন্তব্য ‘তথ্যগতভাবে ভুল ও ভিত্তিহীন’ বলে মন্তব্য টোকিওর। তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি।


পরদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় জাপানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, জাপানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের প্রচেষ্টা ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে নেওয়া এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে নয়।

মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে টোকিও ও বেইজিংয়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে কথার লড়াইয়ের পর এ পোস্টটি দেওয়া হয়। অবশ্য তাইওয়ান নিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্তব্য কেন্দ্র করেই দুই এশীয় শক্তির সম্পর্ক বর্তমানে উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

জাপানের জনগণের উচিত নয় ‘অতি-ডানপন্থী শক্তি’ বা সামরিকবাদ পুনরুজ্জীবিত করতে চাওয়া গোষ্ঠী দ্বারা প্রভাবিত হওয়া, চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই বলেছিলেন কনফারেন্সে। তিনি তুলে ধরেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন জাপানের আগ্রাসনের ইতিহাস। মূলত সদ্য প্রধানমন্ত্রী হওয়া তাকাইচিকে সতর্ক করেন ওয়াং ই। এতে বোঝা যায়, প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে নিজের নেতৃত্ব সুদৃঢ় করার পরও বেইজিংয়ের উত্তেজনা কমানোর কোনো উদ্যোগ নেই।

প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির মন্তব্য, চীন যদি তাইওয়ানে আগ্রাসন চালায়, তবে তা জাপানের জন্য ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি জাপানের জন্য সেনা মোতায়েনের আইনি ভিত্তি তৈরি করতে পারে। যদিও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির তাইওয়ান সংক্রান্ত মন্তব্য ‘চীনের ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব সরাসরি লঙ্ঘন করে এবং তাইওয়ান চীনের অংশ— এই বাস্তবতাকে চ্যালেঞ্জ জানায়।’

তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে চীন। এই দাবি বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে তাইওয়ান। জাপান ও চীনের মাঝামাঝি অবস্থিত স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের মুঠোয় নিতে শক্তি প্রয়োগের পথও নাকচ করেনি বেইজিং। তারা তাকাইচিকে তার মন্তব্য প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়ার কৌশল নিয়েছে। জাপানে কিছু রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং নাগরিকদের জাপান ভ্রমণে সতর্ক করেছে।

যদিও গত সপ্তাহে জাপান কর্তৃক একটি চীনা মাছ ধরার নৌকা আটক এবং এর ক্যাপ্টেনকে গ্রেপ্তারের পর চীন দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নাবিকদের নিরাপত্তা ও আইনসম্মত অধিকার রক্ষার আহ্বান জানায়। এ ঘটনায় বেইজিংয়ের সংযত প্রতিক্রিয়ায় বিশ্লেষকদের ধারণা, তাকাইচির ভূমিধস বিজয়ের পর টোকিওর প্রতি চীনের অবস্থান কিছুটা হলেও পুনর্মূল্যায়ন হতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির নীতিগত এজেন্ডার মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো ও আরও কঠোর পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ অন্তর্ভুক্ত। তিনি এই নীতি বাস্তবায়নে বিপুল জনসমর্থন পেয়েছেন। এতে পূর্বসূরীদের তুলনায় দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার সম্ভাবনাও বেড়েছে দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর।

ওয়াং ই-এর মন্তব্যের জবাবে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জাপান ধারাবাহিকভাবে শান্তিপ্রিয় জাতির পথ অনুসরণ করেছে। ভবিষ্যতেও জাপান আন্তর্জাতিক সমাজের স্থিতিশীলতা ও শান্তিতে অবদান রাখবে। অপরদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পোস্টে বলা হয়, তাইওয়ান ইস্যুর সমাধান শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে হওয়া উচিত নয়। জাপান আশা করে তাইওয়ান ঘিরে ইস্যুটি সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হবে।

    শেয়ার করুন: