আরও উদ্যোগ চান প্রবাসীরা
প্যারিসে ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিশেষ কনস্যুলার সেবা

প্যারিসের বাংলাদেশ কনস্যুলারে প্রবাসীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। ছবি-আগামীর সময়
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে বিশেষ কনস্যুলার সেবা। ই-পাসপোর্ট আবেদনের বাড়তি চাপ সামাল দেওয়া এবং সাম্প্রতিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে দূতাবাস। প্রথম দিনেই ৮০ জনের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক কোনো ধরনের পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই ই-পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।
গত সপ্তাহে দূতাবাস প্রথম দফায় ২৫ জুলাই, ৮ আগস্ট এবং ২২ আগস্ট এই তিনটি শনিবার বিশেষ কনস্যুলার সেবা দেওয়ার ঘোষণা দেয়। মূলত যেসব প্রবাসী জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত পাসপোর্ট করতে চান এবং অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের জটিলতায় পড়েছেন, তাদের সুবিধার্থেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলাদেশ দূতাবাস, প্যারিস ই-মেইলের পরিবর্তে ওয়েবসাইটভিত্তিক অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে সীমিত সংখ্যক স্লট থাকায় অনেক বাংলাদেশি সময়মতো অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাচ্ছিলেন না। আবার আগে ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদন করেও অনেক প্রবাসী দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় রয়েছেন।
এসব সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে এবং যাদের ফরাসি প্রশাসন বা প্রেফেকচারে রেসিডেন্স পারমিট সংক্রান্ত নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট রয়েছে, তাদের সুবিধার্থে প্রথম পর্যায়ে তিনটি শনিবার বিনা অ্যাপয়েন্টমেন্টে ই-পাসপোর্ট আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিল বলেছেন, আজকের বিশেষ এই সেবার প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ইতিবাচক। প্রথম দিনেই ৮০ জনের বেশি ব্যক্তিকে সেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিগত সময়ে যারা ই-পাসপোর্ট আবেদনের জন্য ই-মেইল করেছিলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেসব আবেদন ও ই মেইলের জবাবও সম্পন্ন করা হবে।
ওয়েবসাইটে কারিগরি জটিলতার অভিযোগ
ফ্রান্সে বর্তমানে বাংলাদেশিদের ই-পাসপোর্ট আবেদন নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। দূতাবাস নির্দিষ্ট দিন ও সময় জানিয়ে দেয়, কখন নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট উন্মুক্ত করা হবে। তবে অনেক আবেদনকারী ওয়েবসাইটে প্রবেশের সময় কারিগরি সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ করেছেন।
একজন আবেদনকারী বলেছেন, গতকাল রাতে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করেও অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারেননি। ওয়েবসাইটে বারবার ত্রুটি দেখাচ্ছিল।
এ বিষয়ে দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিল জানিয়েছেন, একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষ কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে সাময়িক কারিগরি সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমরা আইটি টিমের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি, যাতে সাইটটি আরও সহজ, কার্যকর ও প্রবাসীবান্ধব করা যায়।
জনবল সংকটের প্রশ্ন
কনস্যুলার সেবায় জনবল সংকট রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শারহাদ শাকিল বলেছেন, বৃহৎ প্রবাসী কমিউনিটির তুলনায় প্রায় সব দেশেই কনস্যুলার সেবায় জনবল বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। তবে এটি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। আমরা বিদ্যমান জনবল ও সক্ষমতা দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।
শনিবারের বিশেষ কনস্যুলার সেবা কার্যক্রমে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবীরাও দূতাবাসকে সহায়তা করেন। আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান, সিরিয়াল ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় দিকনির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে তারা সেবা কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল ও দ্রুত সম্পন্ন করতে ভূমিকা রাখেন। দূতাবাসের এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নে স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন উপস্থিত প্রবাসীরা।
সম্প্রতি ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ই-পাসপোর্টের অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দূতাবাস বিশেষ কনস্যুলার সেবাসহ বেশ কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও প্রবাসীদের প্রত্যাশা, দূতাবাসের সেবা আরও প্রবাসীবান্ধব হবে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য একটি কার্যকর টেলিফোন হেল্পলাইন চালু, অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও নির্ভরযোগ্য করা এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ কনস্যুলার সেবার পরিধি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন অনেকেই।




