প্যারিসে জেমসের কনসার্টের আগে টিকিটের টাকা আত্মসাতের পূর্বের অভিযোগ ফের আলোচনায়

প্রতীকী ছবি
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আগামীকাল (২ আগস্ট) জনপ্রিয় বাংলাদেশি ব্যান্ডশিল্পী জেমসের কনসার্ট আয়োজনকে ঘিরে আবারও সামনে এসেছে ২০২৩ সালের একটি বাতিল হওয়া কনসার্টের টিকিটের অর্থ ফেরত না পাওয়ার অভিযোগ। নতুন আয়োজনের আগে পুরোনো ঘটনার ভুক্তভোগী দাবি করা প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অংশ তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে আগের আয়োজনের আর্থিক স্বচ্ছতা ও টিকিটের অর্থ ফেরতের বিষয়টি পরিষ্কার করার দাবি জানাচ্ছেন তারা।
জানা যায়, ২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্যারিসে ‘ফ্রাঙ্কো বাংলা সামার ফেস্ট ২০২৩’ নামে একটি কনসার্ট আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ‘অফিওরা’ ও ‘শাহ গ্রুপ’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জনপ্রিয় রক ব্যান্ড ওয়ারফেজের পরিবেশনা থাকার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়।
অনুষ্ঠান বাতিলের পর টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়া নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। ভুক্তভোগী দাবি করা কয়েকজন প্রবাসী জানান, তারা টিকিট কিনলেও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও অর্থ ফেরত পাননি। অনেকেই একাধিকবার যোগাযোগ করেও কার্যকর সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেন।
প্যারিসের বাইরে বসবাসকারী প্রবাসী ইমন জানিয়েছেন, তিনি ওই কনসার্টের জন্য ১০০ ইউরো দিয়ে পাঁচটি টিকিট কিনেছিলেন। অনুষ্ঠান বাতিল হওয়ার পরও তিনি পুরো অর্থ ফেরত পাননি। তার কাছে এখনো তিনটি অব্যবহৃত টিকিট রয়েছে বলে জানান তিনি।
ইমন বলেছেন, ‘আমার মতো প্যারিসের বাইরে বসবাসকারী অনেক মানুষ টিকিট কিনেছিলেন। কিন্তু তাদের অনেকেই এখনো টাকা ফেরত পাননি। বিষয়টি নিয়ে আমরা হতাশ।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্যারিসের বাইরে থাকা টিকিটধারীদের অর্থ ফেরতের জন্য প্যারিসে এসে যোগাযোগ করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু দূরবর্তী এলাকা থেকে যাতায়াত খরচ ও সময় বিবেচনায় এটি অনেকের জন্য বাস্তবসম্মত ছিল না।
আরেক ভুক্তভোগী রাজু জানিয়েছেন, প্যারিসের বাইরে থাকা প্রবাসীদের অর্থ ফেরতের বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তার মতে, যাতায়াত ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে শুধু প্যারিসে এসে টাকা নেওয়ার কথা বলা অনেকের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে আগামী ২ আগস্টের নতুন কনসার্টের ঘোষণা আসার পর ২০২৩ সালের ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলছেন প্রবাসীদের একটি অংশ। তাদের দাবি, আগের আয়োজনের টিকিট বিক্রির অর্থ, ব্যয়ের হিসাব এবং ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ২০২৩ সালের আয়োজনের অন্যতম স্পন্সর শাহ গ্রুপের কর্ণধার সাত্তার আলী সুমন। তিনি বলেছেন, অনুষ্ঠানটি সফল করার লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন কারণে আয়োজনে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
সাত্তার আলী সুমনের দাবি, যারা নিয়ম অনুযায়ী টিকিট ফেরতের আবেদন করেছেন, তাদের অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সময়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন।
তবে অভিযোগকারী কয়েকজন প্রবাসী বলছেন, তারা এখনো টিকিটের অর্থ ফেরত পাননি। তাদের দাবি, বিষয়টির একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সমাধান প্রয়োজন।
এদিকে আয়োজকদের সংগঠন ও কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন প্রবাসী। তাদের অভিযোগ, ফ্রান্সে ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি ভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
ফ্রান্সের আইন অনুযায়ী, নিবন্ধিত অলাভজনক সংগঠন বা ‘Association Loi 1901’ সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। তবে সংগঠনের আর্থিক লেনদেন, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং কার্যক্রমের ধরন আইন অনুযায়ী পরিচালিত হতে হয়। কোনো অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করতে পারে।
ফরাসী আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা যায় না। তবে আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৩ সালের কনসার্ট বাতিল ও টিকিটের অর্থ ফেরত নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই এবার নতুন আয়োজন সামনে এসেছে। ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অংশ আগের অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং ভবিষ্যৎ সাংস্কৃতিক আয়োজনের ক্ষেত্রে আরও জবাবদিহিতা দাবি করছেন।




